পবিত্র শবে কদরের গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য

   
প্রকাশিত: ৩:১৭ অপরাহ্ণ, ২০ মে ২০২০

আজ বুধবার (২০ মে) দিবাগত রাতে সারা দেশে পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে কদর পালিত হবে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাছে শবে কদরের রাত হাজার রাতের চেয়ে পুণ্যময়। যে রাতে বান্দার গুনাহ ক্ষমা কমানোর অপার সুযোগ রয়েছে। এ রাত সারা বছরের সমস্ত রাত অপেক্ষা সর্বাধিক মর্যাদাশীল, বৈশিষ্ঠ্যমণ্ডিত ও মহিমান্বিত বলে এ রাতের নামকরণ করা হয়েছে লাইলাতুল ক্বদর। মহান আল্লাহ ঘোষণা দিয়েছেন, ‘হাজার রাতের চেয়েও উত্তম’ পবিত্র শবেকদর সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত বরকতময় ও পুণ্যময় রজনী। পবিত্র শবেকদরের রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর নৈকট্য ও রহমত লাভের আশায় ইবাদত বন্দেগি করবেন। পবিত্র রমজান মাসে লাইলাতুল কদরে পবিত্র আল কোরআন নাজিল হয়েছিল। তাই মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বুধবার দিবাগত রাতে মসজিদসহ বাসা-বাড়িতে এবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন।

লাইলাতুর কদরে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য

১. এ রাতে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনুল কারিম অবর্তীর্ণ হয়েছে।

২. এ রাত হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।

৩. এ রাতে হজরত জিবরাইল (আঃ) এক দলসহ জমীনে অবতরণ করেন।

এছাড়াও এ রাতটিই ভাগ্য রজনী। যে রাতের কথা সুরা দুখানে বর্ণনা করা হয়েছে। যে ব্যক্তি এ রাতে ইবাদত করবে আল্লাহ তায়ালা তার অতীতের সব (সগিরা) গুনাহ মাফ করে দেবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ইমান ও সওয়াব লাভের খাঁটি আশায় লাইলাতুল কদরে কিয়ামুল্লাইলে (তাহাজ্জুদে) অতিবাহিত করবে আল্লাহ তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ মাফ করে দেবেন।’ (বুখারি ও মুসলিম) তওবার মাধ্যমে কবিরা গুনাহও মাফ করিয়ে নেবার এক অনন্য সুযোগ লাইলাতুল কদর। লাইলাতুল কদর কোন রাত তা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। এ মহা মূল্যবান রাতকে আল্লাহ তায়ালা তার বিশেষ হেকমতের কারণেই অনির্দিষ্ট রেখেছেন। তবে তা অনির্দিষ্ট হলেও আমাদের জন্য অনেকটাই নির্দিষ্ট। কেননা লাইলাতুল ক্বদর সাধারণত রমাজান মাসেই হয়েই থাকে। তা হলে বাকি এগারো মাস থেকে নির্দিষ্ট হয়ে গেল একমাস। একমাসের মধ্যে আবার শেষ দশকেই হওয়া নির্দিষ্ট। তা হলে আরও সীমাবদ্ধ হয়ে গেল । এরপর এ দশ দিনের মধ্যে আমার বেজোড় রাত্রে হওয়া নির্দিষ্ট।

এই সম্পর্কে রাসূল(সাঃ) বলেন, তোমরা রমাজানের শেষ দশকে বেজোড় রাতে লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করো। (বুখারি)। তাই রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিগুলোই লাইলাতুল কদরের সম্ভাবনার রাত। প্রতিটি মুমিনের উচিত সে রাতগুলোতে বেশি বেশি ইবাদত করা। লাইলাতুল কদরে পড়ার মতো একটি বিশেষ দুআর কথাও হাদিসে এসেছে। হজরত আয়শা (রা.) রাসুলুল্লাহকে (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ আমরা যদি লাইলাতুল কদর পাই তাহলে কি করবো? উত্তরে রাসুল (সাঃ) বললেন, বলবে আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি। অর্থাৎ হে আল্লাহ তুমি পরম ক্ষমাশীল ক্ষমা করাকে তুমি পছন্দ কর,কাজেই তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও’। (তিরমিযি)। বুখারি শরিফের হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমাজানের শেষ দশদিন এলে লুঙ্গি মজবুত করে বেঁধে নিতেন এবং রাত্রি জাগরণ করতেন। অর্থাৎ ইবাদত বন্দেগীতে কাটাতেন এবং পরিবারের লোকদেরকেও জাগাতেন। (বুখারি)

আরএএস/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: