প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

পরিত্যক্ত বাগানে স্কুল ছাত্রীর লাশ

   
প্রকাশিত: ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ, ২১ জানুয়ারি ২০২০

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নের পূর্ব রশিদপুর গ্রামের একটি বাগান থেকে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার সময় সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম তানজিনা আক্তার রিয়া (১৬)। সে রশিদপুর গ্রামের আবদুল গফুরের মেয়ে ও স্থানীয় রশিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শোকের ছায়া নেমে আসে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নের রশিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজিনা আক্তার রিয়া প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালে স্কুলে যায়। তার সহপাঠীরা জানায়, রিয়া সকালে দুটি ক্লাস করে স্কুল থেকে বাড়ির উদ্দেশে বেরিয়ে যায়। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেও রিয়া বাড়ি ফেরেনি। তার বাবা গফুর মিয়া জানান, রিয়া স্কুল থেকে ফিরে না আসায় সম্ভাব্য সব জায়গায় তারা খোঁজ নিয়েছেন; কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্থানীয় লোকজন পূর্ব রশিদপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাগানে রিয়ার লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। এ সময় পরিবার ও স্বজন ঘটনাস্থলে গিয়ে রিয়ার লাশ শনাক্ত করেন। লাশের অদূরে রিয়ার জুতা পাওয়া গেছে। কিন্তু তার স্কুলব্যাগ ও বইয়ের সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বজরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য দুলাল মেম্বার ও গ্রাম পুলিশ আলী হোসেন বলেন, সন্ধ্যার পর পরিত্যক্ত বাগানে স্কুলছাত্রী রিয়ার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন তাদের খবর দেয়। তারা সোনাইমুড়ী থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ সন্ধ্যা ৭টার সময় লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে রিয়াকে অপহরণ করে বাগানে নিয়ে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে লাশ মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে। রিয়ার বাবা আবদুল গফুর ও মা জেসমিন আক্তার তাদের মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা জেসমিন আক্তার বলেন, ‘আমার মেয়ে পড়াশোনায় ভালো ছিল। কোনো ছেলের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল না।’ এসময় রিয়ার হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে ফাঁসির দাবি জানান তিনি। সোনাইমুড়ী থানার ওসি আবদুস সামাদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে। বাড়ির অনেক দূরে পরিত্যক্ত বাগানে কেন আত্মহত্যা করতে যাবে এমন প্রশ্নের জবাব ওসি বলেন, বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর হত্যা না আত্মহত্যা, সে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আরএএস/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: