প্রচ্ছদ / খোলা কলাম / বিস্তারিত

পর্যটন শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা, প্রসার এবং প্রভাব

   
প্রকাশিত: ৭:০৬ অপরাহ্ণ, ২২ নভেম্বর ২০২০

পর্যটন হচ্ছে এটি এমন একটি শিল্প যা মানুষের ভ্রমণের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ধরণের ব্যবসায়িক দাঁড় উন্মোচন করে চলছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। হোটেল এবং রেস্তোঁরা ব্যবসা থেকে শুরু করে ট্র্যাভেল সংস্থাগুলিসহ, আরও অনেক কিছুই এখন এই শিল্পের সাথে জড়িত। পর্যটনকে বলা হয় একটি বিস্তীর্ণ, প্রাণবন্ত, গতিশীল এবং বৃদ্ধি ভিত্তিক শিল্প। একবিংশ শতাব্দীতে, বহু-মাত্রিক কারণগুলি থেকে পর্যটনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। কেননা সরকারী সংস্থার শীর্ষস্থান থেকে শুরু করে বেসরকারী ব্যবসায়িক খাতগুলিতে পর্যটন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উন্নত দেশগুলির, বিশেষ করে বললে উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য নতুন দিগন্তের সূচনা করে দিচ্ছে। সরকারি এবং বেসরকারিভাবে বিনিয়োগের মাধ্যমে পর্যটন উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিশেষ সুফল বয়ে নিয়ে আসছে যার মাধ্যমে একটি দেশ খুব ভালোভাবেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করছে।

২০১৯ সালের প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের প্রতিবেদন অনুসারে, বৈশ্বিক জিডিপিতে ভ্রমণ ও পর্যটনটির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদান ছিল ৮.৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার (যা ছিলো গ্লোবাল জিডিপির ১০.৩%) ২০১৯ সালে। পাশাপাশি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছিলো ৩৩০ মিলিয়ন যা কিনা ছিলো প্রত্যেক ১০ টি নতুন কর্মসংস্থানের ১ টি। গবেষণায় উঠে এসেছে ২০২৯ সালের মধ্যে নতুন করে ২.১% হারে ১৫৪,০৬০,০০০ নতুন কাজের সৃষ্টি করবে পর্যটন। প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হয়েছে, দেশে এ মুহূর্তে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পর্যটন খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ২০২৬ সালে বাংলাদেশে শুধু এ খাতে প্রত্যক্ষভাবেই ১২ লাখ ৫৭ হাজার লোক কাজ করবে। এ লক্ষ্যে পর্যটনশিল্পের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের মধ্যে পর্যটনশিল্পের সর্বোচ্চ বিকাশে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। যার অংশ হিসেবে পুরো দেশকে আটটি পর্যটন জোনে ভাগ করে প্রতিটি স্তরে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

এখানে এগুলো উল্লেখ করার একটিই কারণ আর তাহলো এইসকল প্রকল্পে কাজ করার জন্য কত নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে পর্যটন নিয়ে পড়াশুনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য। অতএব, পর্যটন নিয়ে পড়াশুনা হতে পারে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আশীর্বাদ। দেখুন আমি যখন ২০০৬ সালে প্রথম দেশের বাহিরে যাই পর্যটন নিয়ে পড়াশুনা করার জন্য তখন আমাদের দেশে হাতে গুনা চার থেকে পাঁচটি ভালো মানের হোটেল ছিলো। কিন্তু মাত্র ১৫ বছরেই দেশে এখন অভূতপূর্ণ ভাবে উন্নয়নের সাথে সাথে বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক চেইন হোটেল গ্রুপ এখন বাংলাদেশে। এখন দেশে রয়েছে ম্যারিয়ট, আইএইচজি, প্যান প্যাসিফিক, কার্লসন, অনিক্স, বেস্ট ওয়েস্টার্ন, লুভর এর মত আন্তর্জাতিক হোটেল গ্রুপের পাশাপাশি দেশীয় ইউনিক, শেলটেক এর মতো গ্রুপের অগণিত ৪/৫ তাঁরকা মানের হোটেলগুলো যেগুলোর সংখ্যা কম করে হলেও ৫০ এর মত হবে। এখানে ২/৩ তাঁরকা হোটেলের সংখ্যা উল্ল্যেখ নাইবা করা হলো। এগুলোর পাশাপাশি পর্যটন নিয়ে পড়াশুনায় আগ্রহীদের জন্য আরেকটি ভালো খবর হলো, বাংলাদেশে এখন ম্যারিয়ট গ্রুপের একটি ৭ তাঁরকা হোটেল, বিশ্বখ্যাত হায়াত গ্রুপ, হিলটন এবং নভোটেল তাদের হোটেল ওপেনিংয়ের কাজ করে যাচ্ছে। এখন প্রশ্নটি হচ্ছে এই যে হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে এই পর্যটনকে ঘিরে, এগুলো করার জন্য আমাদের দক্ষ জনগুষ্ঠি আজও আছে কিনা ? আমি সন্ধিহান যে সারাদেশে এখন পর্যন্ত সব বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে যারা কিনা পর্যটনে স্নাতক ডিগ্রী প্রদান করেন সেগুলি থেকে আজ পর্যন্ত ২-৩ হাজার পর্যটনে স্নাতক ডিগ্রী সম্পর্ণ করে বের হয়েছেন কিনা !

ব্যাপারটা দুঃখজনক হলেও অনেকাংশে সত্যি, আমাদের দেশের জনগুষ্ঠির বিশাল একটি অংশ এখনো ট্যুরিজম এবং হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে শিক্ষাগ্রহণের ভবিষৎ মনে করে থাকেন রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশনকারী কিংবা ছোটো খাটো কিছু একটা। আমি বলবো এটা এই ইন্ডাস্ট্রি এবং পর্যটন নিয়ে আমাদের ভালো জানার অজ্ঞতা। আমি উল্লেখ করতে পারি, ট্যুরিজম এবং হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট পড়াশুনার এমন একটি ক্ষেত্র যা কিনা বহুমাত্রিক কাজের জন্য দক্ষ জনবল তৈরি করে। শিক্ষা, হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোঁরা, ট্যুর এজেন্সি, প্রমোদতরী, বিমান ব্যবস্থাপনা, ক্যাসিনো, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, ক্যাটারিং, ক্লাব পরিচালনা, ব্যাংকিং ও বীমা, হাসপাতাল সহ বিভিন্ন দিকে এই বিষয়ে স্নাতক অর্জনকারীদের জন্য কাজ করার দরজা উন্মুক্ত থাকে। এই বিষয়ে স্নাতক অর্জনকারীরা শিক্ষক, হোটেল ম্যানেজার, ক্যাটারিং ম্যানেজার, শেফ, কনফারেন্স সেন্টার ম্যানেজার, ইভেন্ট ম্যানেজার, ফাস্ট ফুড রেস্তোঁরা ম্যানেজার, পাবলিক হাউজ ম্যানেজার, রেস্তোঁরা পরিচালক, এয়ার কেবিন ক্রু, গ্রাহক সেবা ব্যবস্থাপক, মানবসম্পদ কর্মকর্তা, বিপণন নির্বাহী , ট্যুর ম্যানেজার, ট্যুরিজম অফিসার এবং আরও অনেক ভূমিকায় সহজেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ পেতে পারে। ট্যুরিজম এবং হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে শিক্ষাগ্রহণের ব্যাপারটি বেছে নেওয়ার আরেকটি ভালো কারণ হতে পারে, এই বিষয়ের স্নাতকদের জন্য একটি সহজ উন্মুক্ত বিশ্ব অপেক্ষা করে। এটি শিক্ষার্থীদের যে কোনও স্তরে ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা তৈরি করতে এবং ব্যবসা পরিচালনার দক্ষতার সাথে দেশে এবং বিদেশে যে কোনও জায়গায় তাদের আগ্রহগুলি অনুসরণ করার সুযোগ দেয়।

এখন আসি পর্যটনে স্নাতকে পড়াশোনা নিয়ে। বর্তমানে বাংলাদেশেই হাতেগোনা কিছু সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যটনে স্নাতক ডিগ্রী কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকার উত্তরায় অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) কেই আমি সব দিক থেকে এগিয়ে রাখবো। কেননা, আইইউবিএটি হচ্ছে বাংলাদেশে প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় যারা কিনা পর্যটনে স্নাতক ডিগ্রী প্রদান করা সবার আগে শুরু করেছিলো সেই ২০০১ সাল থেকে, সুতরাং এই বিষয়ে ডিগ্রী প্রদানের অভিজ্ঞতার বিষয়ে অবশ্যই তাঁরাই থাকবে প্রথম সারিতে। এখানে আরেকটি কথা না বললেই নয়, আইইউবিএটি এর প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রথম উপাচার্য মরহুম প্রফেসর ডক্টর এম আলীমুল্লাহ মিয়ান ছিলেন একজন বুদ্বিদীপ্ত, বিচক্ষণ শিক্ষাবিদ যাঁর চিন্তাভাবনা ছিলো ভবিষ্যৎ কেন্দ্রিক। তাইতো যেখানে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যটনে স্নাতক ডিগ্রী পড়ানো হয় ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের তত্ত্বাবধানে, সেখানে আইইউবিএটি তে পর্যটনে স্নাতকের উপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আর তাইতো এখানে পর্যটনের স্নাতকের জন্য আলাদাভাবে কলেজ অফ ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট নামে একটি অনুষদই রয়েছে। ডিগ্রী পরিচালনার দিক দিয়ে প্রথমে আসার পাশাপাশি, এখানে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ৫ তাঁরকা মানের ৪ টি প্রশিক্ষণ ল্যাব (ফ্রন্ট অফিস, হাউসকিপিং, রেস্টুরেন্ট, কিচেন) যা কিনা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশেষ পাওয়া। এইরকম ৫ তাঁরকা মানের পরিপূর্ণ প্রশিক্ষণ ল্যাব সম্মিলিত স্নাতক ডিগ্রির ব্যবস্থা এই দেশে একেবারে নেই বললেই চলে। তাই এখানের শিক্ষার্থীরা ইন্ডাস্ট্রিতে পদার্পনের আগেই ভালো অভিজ্ঞতা নিয়ে যেতে পারে। তাইতো আইইউবিএটি এর কলেজ অফ ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট এর গ্রাডুয়েটরা দেশে এবং দেশের বাহিরে হোটেল, রিসোর্ট, এয়ারলাইন্স, ট্রাভেল এজেন্সী, ব্যাংকিং সহ বিভিন্ন জায়গায় ভালো পর্যায়ে কাজ করছে। এলামনাই দের সাথে ভালো বন্ধনের পাশাপাশি কলেজ অফ ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট এর রয়েছে দেশে এবং দেশের বাহিরে বিভিন্ন হোটেলের সাথে ভালো যোগাযোগ যার ফলে এখানে শিক্ষার্থীরা তাদের ডিগ্রী শেষ করার সাথে সাথেই ইন্টারশিপ এবং ওয়ার্ক প্লেসমেন্ট পেয়ে যাচ্ছে। এটাও বলে রাখা ভালো, কলেজ অফ ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট এর রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সমঝোতা স্নারক স্বাক্ষর, যার ফলে এখানে শিক্ষার্থীরা উচ্চতর শিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশে গমন করতে পারে সহজে। এখানে রয়েছে ট্যুরিজম এবং হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের উপর দেশি ও বিদেশী ডিগ্রিধারী একটি চৌকস ফ্যাকাল্টি টীম, যাদের সাথে অতিথি শিক্ষক ভাবে যোগ দেন খ্যাতিনামা কিছু আন্তর্জাতিক ট্যুরিজম স্কলারস। পড়াশুনার পাশাপাশি নিয়মিত ভাবে রয়েছে ইন্ডাস্ট্রি ভিসিট, দেশে ও বিদেশে শিক্ষা সফর, খেলাধুলা সহ শিক্ষা বিকাশের সকল ব্যবস্থা। তাইতো, পর্যটনে দেশের অমিত সম্ভবনাকে কাজে লাগিয়ে যারা কর্মসংস্থান উপোযুগী শিক্ষাগ্রহণ করতে চায়, তাদের জন্য আইইউবিএটি এর কলেজ অফ ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট হতে পারে প্রথম পছন্দ।

লেখক:
মোঃ ইউসুফ হোসেন খানস, সহকারী অধ্যাপক
কলেজ অফ ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট,
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি)

(খোলা কলামে প্রকাশিত লেখা একান্ত লেখকের নিজস্ব মতামত এর সাথে পত্রিকার কোন সম্পর্ক নেই)

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: