প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

সাইফুল মাহমুদ

সীতাকুন্ড, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

পুকুরের পানি জারে ভর্তি করে বাজারজাত, ভবন সীলগালা

   
প্রকাশিত: ১১:০৭ অপরাহ্ণ, ১৪ জুলাই ২০২০

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের মাদামবিবিরহাট খাদেমপাড়া এলাকায় বিএসটিআই এর নকল লেভেল ব্যবহার করে অবৈধভাবে দীর্ঘদিন ধরে বাজারজাত করা হচ্ছিল ড্রিংকিং মিনারেল ওয়াটার। এমন একটি কারখানার গোপন তথ্য পেয়ে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) অভিযান চালান উপজেলার মাদামবিবিরহাট এলাকায় জনৈক নুরুল ইসলামের বাড়িতে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে ঐ বাড়িতে অবৈধ মিনারেল ওয়াটার কারখানায় অভিযান চালাতে গিয়ে বাড়ির ভেতরে আরো কয়েকটি নকল ও ভেজাল পণ্য তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন ধরে ওই কারখানায় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিটিউট (বিএসটিআই) ও পরিবেশ অধিদফতরের কোনও অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন নকল পণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে।

মিনারেল ওয়াটার কারখানায় অভিযান চালাতে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরের পানি সরাসরি পানির জারে ভর্তি করতে । পুকুরের পানি জানে ভর্তি করে বিভিন্ন ব্যাবসা প্রতিষ্টান, আবাসিক ভবন ও কারখানায় পৌছে দিচ্ছেন। নুরুল ইসলাম র্দীঘদিন ধরে অবৈধভাবে পুকুরের পানি জানে ভর্তি করে ব্যবসা করে আসছে।

অভিযানে ওই কারখানা থেকে প্রায় ৪ ধরনের নকল পণ্য ও উৎপাদনে ব্যবহৃত মেশিন পাওয়া যায়। পণ্যগুলোর মধ্য রয়েছে মিনারেল ওয়াটার তৈরি, নিম্নমানের কাপড় ধোয়ার পাউডার, চা-পাতা, দাঁতের মাজনসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরির বিষাক্ত ক্যামিক্যাল।নুরুল ইসলাম অবৈধ ভাবে যে চারটি পন্য উৎপাদন করে বাজারজাত করেন তার কোনটির অনুমতি নেই। বাড়ির মালিক অভিযানের সময় পলাতক ছিল। তাকে বার বার কলদিলেও সে বলে আমি অমুক জায়গায় আছি। একটু পরে আসতেছি। তিন ঘন্টা অভিযান চালানো পরও ভবন মালিক আসেনি।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন রায়। এ সময় এসব পণ্য উৎপাদনকারী ব্যাক্তি বাড়ির মালিক নুরুল ইসলাম পালিয়ে যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয় এবং এই বাড়ির অবৈধ কাজে ব্যবহৃত রুম গুলো সীলগালা করা হয়। নিজ বাড়িকে প্রতিষ্ঠান বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে আসছে অবৈধ রমরমা ব্যবসা। বাইরে থেকে দেখে বুঝার উপায় নেই যে ঘরের ভিতরে এতো কিছুর কারখানা রয়েছে।

অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে পাওয়া যায় আরো অনেকগুলো নকল পণ্য তৈরীর কারখানা। এগুলো সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। মালিক পালিয়ে যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এন এসআই) এর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার, অপু এবং সীতাকুণ্ডের জুনিয়ার ফিল্ড অফিসার শেখ রেজাউল করিম।এলাকাবাসী মনে করেন এই অবৈধ প্রতিষ্টানটিতেটি আরো আগে অভিযান পরিচালনা করা হলে ভাল হতো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি বলেন, এই প্রতিষ্টানটি বহু বছর যাবত এখানে অবৈধভাবে ব্যবসা করে আসছে। কেউ কিছু বললে নুরুল ইসলাম হুমকি দেন। তার ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারে না।

বিএসটিআই এর সীতাকুণ্ড অংশের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজিব নামে কর্মকর্তা বিষয়টি এড়িযে যান। তার কাছে জানতে চাইলাম বিএসটিআই এর লগো কিভাবে ব্যবহার করছে সে বলে আপনি চাইলেও ব্যবহার করতে পারবেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন রায় বলেন, একটি বাড়ির কয়েকটি রুমকে নকল পণ্যে তৈরীর কারখানা বানিয়েছে বাড়ির মালিক নুরুল ইসলাম। আমরা গোপন সংবাদের সূত্রে জানতে পারি অবৈধ মিনারেল পানির কারখানা। বাড়ির দুটি ভবন সিলগালা করে ভবনটি দেখভাল করার জন্য ৯নং ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যনের দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: