প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

পুলিশি কর্মকাণ্ডের আড়ালে ওসি প্রদীপ-এসআই লিয়াকতের অপরাধনামা!

   
প্রকাশিত: ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ, ৬ আগস্ট ২০২০

টেকনাফে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোঃ রাশেদ খান পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় বুধবার (৫ আগস্ট) ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে টেকনাফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। নিহত মেজর সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে সকালে টেকনাফ উপজেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারহার আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।

গত ৩১ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে মেজর সিনহা রাশেদ খানকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ৯ পুলিশ সদস্যই ঘটনাস্থলে ছিলেন।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের জানান, ওসিকে প্রত্যাহার করা হবে। কোনো অভিযোগে মামলা হলে বা তদন্ত শুরু হলে নিয়মানুযায়ী পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার ও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

প্রত্যাহার হতে পারেন এমন আশঙ্কায় আগেই ছুটি নিয়েছেন কক্সবাজারের টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস। গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) তিনি নিজেই থানার জিডি বইয়ে অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে নোট লিখে ছুটিতে চলে গেছেন।

এদিকে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যার ঘটনার পর বেরিয়ে আসছে ওসি প্রদীপ এবং এসআই লিয়াকতের বিভিন্ন অপরাধনামা।

জানা যায়, সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিহতের ঘটনায় প্রত্যাহারের আগেও বেশ কয়েকবার প্রত্যাহার এমনকি বরখাস্ত হয়েছিলেন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। ১৯৯৬ সালে চাকরি শুরুর পর কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় কাটে চট্টগ্রাম মহানগর ও কক্সবাজারে। তার বিরুদ্ধে অন্যের জমি দখলই নয়, নিজের পরিবারের সদস্যদের জমি দখলেরও অভিযোগ আছে।

চট্টগ্রামে বিভিন্ন থানায় ওসি থাকার সময় নানা অপকর্মের দায়ে সমালোচিত ছিলেন ওসি প্রদীপ। চট্রগ্রাম নগরীর বায়েজিদ ও পাঁচলাইশ থানায় ওসির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৫ সালে সুগন্ধা, মুরাদপুর ও পাথরঘাটায় জমি দখল, তেলবাহী লরি আটকে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্থ আদায় ও পাঁচলাইশ থানা এলাকায় নিজের পরিবারের সদস্যদের জমি দখলের অভিযোগে বরখাস্ত হন প্রদীপ। এরপর উখিয়া, মহেশখালী থানার ওসি হয়ে ২০১৮ সালে যোগ দেন টেকনাফ থানায়।

টেকনাফে মাদক নির্মূলের ঘোষণা দিয়ে বেশিরভাগ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় আসামি করেছেন মৃত ব্যক্তির স্বজনদের। তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় রিপোর্ট করায় দৈনিক কক্সবাজার বাণীর সম্পাদক ফরিদুল মোস্তাফাকে মাদক দিয়ে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়। প্রদীপের নির্যাতনে প্রায় অন্ধ ওই সাংবাদিক এখন কারাগারে।

পুলিশের গুলিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিহতের ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ লিয়াকত আলী ২০১৪ সালে ছিলেন সিএমপির গোয়েন্দা বিভাগে। তার দেয়া মিথ্যা মামলায় সর্বস্বান্ত হয়েছেন এক ব্যবসায়ীও।

প্রদীপের মতো বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাকে রোহিঙ্গা, মাদক ও মানব পাচারসহ জাতীয়-আন্তর্জাতিক ইস্যুতে টেকনাফ থানায় দায়িত্বভার দেওয়ায় পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশিষ্টজনেরা।

বির্তকিত ওসি প্রদীপ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশি কর্মকাণ্ডের আড়ালে এমন কোন অপরাধ নেই যা করেনি।

এআইআর/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: