প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

পুলিশের ফিল্মি স্টাইলে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে উদ্ধার, স্বামী আটক

   
প্রকাশিত: ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ, ১২ আগস্ট ২০২০

আব্দুল ওয়াদুদ, (বগুড়া) থেকে: বগুড়ার ধুনট উপজেলায় দাম্পত্য কলহের জের ধরে ঘরের ভেতর জিম্মি করে রহিমা খাতুনের (৩০) গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন তার স্বামী পলাশ। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ফিল্মি স্টাইলের অভিযান চালিয়ে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার ও তার স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এতে পলাশ ও রহিমা দম্পতির জীবন রক্ষা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত পলাশ প্রামানিক (৪২) উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের মাজবাড়ি গ্রামের দুলাল প্রামানিকের ছেলে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ধুনট থানা থেকে আদালতের মাধ্যমে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার নিমগাছি গ্রামের জিল্লার রহমানের মেয়ে রহিমা খাতুনের প্রায় দশ বছর আগে পলাশ প্রামানিকের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের অভাব অনটনের সংসারে দাম্পত্য অশান্তি বিরাজ করে। প্রায় চার বছর আগে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন রহিমা। এছাড়া বর্তমানে রহিমা ৫ মাসের অন্তঃসত্বা।

এ অবস্থায় সোমবার সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদের এক পর্যায়ে রহিমা অভিমান করে বাবার বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। এসময় পলাশ তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক ঘরের ভেতর নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। এক পর্যায়ে রহিমার গলায় ধারালো ছুরি ধরে হত্যা করবে বলে ভয় দেখায় পলাশ। এ সময় রহিমার চিৎকারে প্রতিবেশী লোকজন ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। কিন্ত কেউ ঘরে প্রবেশ করলে স্ত্রীকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যার করবে বলে পলাশ হুমকি দেন। ফলে কেউ ঘরে প্রবেশ করতে সাহস পায়নি।

এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রশিদ, গাজিউর রহমান ও ধুনট থানায় অফিসার ইনচার্জ কৃপা সিন্ধু বালাসহ একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌছেন। তারা নানা কৌশলের পর অবশেষে ঘরের সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে রাত ৮টার দিকে রহিমাকে উদ্ধার ও তার স্বামী পলাশকে ছুরিসহ গ্রেফতার করেন।

ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, পাঁচ ঘন্টা অভিযানের পর পলাশ ও রহিমা দম্পতির জীবন রক্ষা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মেয়ে পক্ষ বাদী না হওয়ায় পলাশকে ১৫১ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া রহিমা খাতুনকে তার মা-বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: