প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

শামসুজ্জোহা বাবু

রাজশাহী প্রতিনিধি

চাঁদা দাবি

পুলিশ পাহারায় রাস্তা কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু

     
প্রকাশিত: ১২:০৫ অপরাহ্ণ, ২৫ জুন ২০১৯

ছবি: প্রতিনিধি

অবশেষে পুলিশ পাহারায় রাজশাহীর বাগমারায় বড়বিহানালী ইউনিয়নের খালিশপুর থেকে আত্রাই উপজেলার পাইকড়া পর্যন্ত এলজিইডি’র রাস্তার কার্পেটিংয়ের কাজ আবার শুরু করেছে ঠিকাদার নাজমুল ইসলাম।

সোমবার (২৪ জুন) দুপুরে সরেজমিন গিয়ে রাস্তাটিতে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।

ঠিকাদার নাজমুল ইসলাম জানান, উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডি’র প্রকৌশলীর নির্দেশে পুলিশ পাহারায় রাস্তা কার্পেটিংয়ের কাজ আবারও শুরু করেছি। গত শনিবার বিকেলে রাস্তায় কার্পেটিংয়ের কাজ করার সময় স্থানীয় আ’লীগ নেতা রেজাউল করিম রেজার নির্দেশে তার সমর্থক রুবেল হোসেন তার লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে শ্রমিকদের উপর হামলা চালিয়ে ২৫ শ্রমিককে আহত করে।

আহতদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম ও ফরিদুল ইসলামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাগমারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। শ্রমিক না থাকায় ঠিকাদার নাজমুল ইসলাম রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেন।

কিন্তু আ’লীগ নেতা রেজাউল করিম রেজা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সাথে তার কোন সম্পৃক্তা নেই।

উপজেলা এলজিইডি’র অফিস সূত্রে জানা যায়, বাগমারা উপজেলার বড়বিহানালী ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রাম থেকে আত্রাই উপজেলার পাইকড়া পর্যন্ত এলজিইডি’র রাস্তার কার্পেটিংয়ের কাজ চলছিল। স্থানীয় আ’লীগ নেতা রেজাউল করিম রেজার কর্মী ইনতাজ আলীর ছেলে রুবেল হোসেন (৩৫) বালু তোলা ইঞ্জিন চালিত শ্যালোর গাড়ী (কাঁকড়া) নিয়ে কার্পেটিংয়ের কাজ চলা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। শ্রমিকেরা রুবেল হোসেনকে একটু দাঁড়ানোর অনুরোধ করলে সে শ্রমিকদের সাথে বাক-বিতাণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে রুবেল হোসেন বিষয়টি স্থানীয় আ’লীগ নেতা রেজাউল করিম রেজাকে মুঠোফোনে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের উপর হামলার নির্দেশ দেন। আ’লীগ নেতা রেজাউল করিম রেজার হুকুমেই রুবেল হোসেন তার লোকজন নিয়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শ্রমিকদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। শ্রমিকেরা প্রাণভয়ে দিকবিদিক পালিয়ে যায় এবং পার্শ্বে বাবুল হোসেন নামের এক বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সেখানে তারা হামলা চালিয়ে বাড়িঘরের দরজা ভেঙ্গে শ্রমিকদের বেধরক মারপিট শুরু করে। খবর পেয়ে বাগমারা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পোঁছে আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

ঠিকাদার নাজমুল হোসেন অভিযোগ করেন, রাস্তার কাজ শুরুর পর পরই তারা শ্রমিকদের কাছে বিভিন্ন সময় চাঁদার দাবি করে। চাঁদাবাজরা আমার কাছে না এসে তারা শ্রমিকদের বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়েছে বলে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান। চাঁদা না দেয়ায় শ্রমিকদের উপর এমন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ঠিকাদার নাজমুল হোসেন জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন বলেন, শ্রমিকদের উপর হামলার ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিউল ইসলাম বলেন, সেখানে কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোক রাস্তার কাজে বাধা দেওয়ায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তারা আবারও ঝামেলা করলে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে সেখানে শ্রমিকদের উপর হামলার ঘটনায় থানায় একটি এজাহার দেয়া হয়েছে। পুলিশ জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় বাগমারা থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, এলজিইডি’র রাস্তার কার্পেটিংয়ের কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টিএএফ/এসইসি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: