প্রচ্ছদ / অপরাধ / বিস্তারিত

ধানমন্ডিতে পিবিআই প্রধান

পেশাদার খুনিদের চেয়ে বেশি সাহস দেখিয়েছে নুসরাতের সহপাঠিরা

   
প্রকাশিত: ৫:৪০ অপরাহ্ণ, ২৮ মে ২০১৯

ফেনীর সোনাগাজী মাদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি সহপাঠি খুনিরা। খুব ঠান্ডা মাথায় সেই দিনের আলিম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে নুসরাতের সহপাঠি খুনিরা। এমন কথাই জানিয়েছেন পিবিআই প্রধান বনজ কুমার।

তিনি বলেন, আমি আশ্চর্য হয়ে যায় এদের সাহসিকতা দেখে। পেশাদার খুনিরাও এমন সাহস দেখাতে পারে না।

মঙ্গলবার (২৮ মে) সকালে ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদার। নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতি জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বনজ কুমার বলছেন, রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা শুধু পরিকল্পিত ছিল না, খুব ঠান্ডা মাথায় খুনিরা আগুনে পুড়িয়ে নুসরাতকে হত্যা করে। ভাবলে অবাক হয়ে যাবেন, খুব সুচারু ভাবে খুনিরা ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করতে চেষ্টা চালিয়েছে। নুসরাতের হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ জড়িত পাঁচজনের তিনজনই এই অপকর্ম শেষে হলে ঢুকে পরীক্ষা দেয়। কী সাহস এদের!

তিনি বলেন, হত্যা মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ও ফেনী আওয়ামী লীগের দুই নেতাসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বুধবারই আদালতে চার্জশিট জমা দেয়া হবে। এতে ১৬ জনের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে পিবিআই।বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলায় ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনসহ ১৬ জন জড়িত। অভিযুক্ত সবাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই প্রধান বলেন, অভিযুক্ত ১৬ জনের মধ্যে এজাহারনামীয় আটজন। এজাহারের বাইরে তদন্তে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় আরও আটজনকে অভিযুক্ত করে বুধবার চার্জশিট দাখিল করা হবে।

তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে গ্রেফতারদের প্রত্যেককে একাধিকবার রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অভিযুক্ত এই
১৬ জনের মধ্যে ১২ জন ১৬৪ ধারায় রাফি হত্যায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা এবং জড়িত থাকার বিষয়ে
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।অভিযুক্ত ১৬ জন হচ্ছেন- এসএম সিরাজ উদ দৌলা (৫৭), নুর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর (৫০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন (১৯), হাফেজ আব্দুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মনি (১৯), উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে চম্পা/শম্পা (১৯), আব্দুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), মোহাম্মদ শামীম (২০), রুহুল আমিন (৫৫), মহিউদ্দিন শাকিল (২০)।

বনজ কুমার আরও বলেন, সার্বিক তদন্তে মামলার ঘটনার বিষয়ে জানা যায় যে, মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে নুসরাত জাহান রাফির মামলা দায়ের ও তাকে গ্রেফতার হলে তার অনুগতরা ক্ষিপ্ত হয়। ভয়ভীতি প্রয়োজনে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একাধিকবার বৈঠকও করেন তারা। হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পরও মামলা তুলে না নেয়ায় আসামিরা নুসরাতের ওপর ক্ষুব্ধ হয়। এর মধ্যে শাহাদাত হোসেন শামীম নুসরাতকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিল। কাউন্সিলর মাকসুদ শাহাদাত হোসেনকে ১০ হাজার টাকা দেয়। শাহাদাত পরিকল্পনা মোতাবেক দূর সম্পর্কের ভাগ্নি কামরুন্নাহার মনিকে দিয়ে দুটি বোরখা ও চার জোড়া হাতমোজা কেনায়।

বনজ কুমার বলেন, নুসরাত রাফি অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় নিচে নেমে আসার সময় দুঃখজনক হলেও সত্য যে শরীরে কাপড় দেখা যায়নি। পুড়ে গেছে। শরীর থেকে মাংস খুলে খুলে পড়ছিল। গেটে কর্তব্যরত পুলিশ কনস্টেবল ও নাইটগার্ড আগুন নেভায়। হত্যায় জড়িত নুরউদ্দিন ও হাফেজ আব্দুল কাদেরও রাফির গায়ে পানি দেয় এবং ভাই নোমানকে ফোনে খবর দেয়।

বনজ কুমার বলেন, ঠান্ডা মাথায় এই হত্যায় চারটি শ্রেণি পেশার মানুষকে অংশ নিতে দেখা যায়। শিক্ষক, রাজনৈতিক ব্যক্তি, স্থানীয় সরকার প্রশাসন এবং শিক্ষার্থী। খুনের পর ঠান্ডা মাথায় পরীক্ষাও যে দেয়া সম্ভব তা ভাবনাতীত। এ ঘটনা শিক্ষণীয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিডি২৪লাইভ/এইচকে

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: