প্রতারণা আর অপকর্ম সাহেদের নেশা

   
প্রকাশিত: ৮:১১ পূর্বাহ্ণ, ১০ জুলাই ২০২০

রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদের প্রতারণার জাল কেবল স্বাস্থ্যখাত বা রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ নয়। নিজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বড় কর্তা বা মন্ত্রী এমপির সহযোগী পরিচয়ে সারা দেশেই চালিয়েছে রমরমা প্রতারণা বাণিজ্য। এসব প্রতারণার জন্য সাহেদের বিচার চান তার স্ত্রী রিম্মি, অপকর্মে লজ্জিত তার স্ত্রী। প্রতারণা আর অপকর্ম ছিলো সাহেদের নেশা। স্বামীর সীমাহীন অপরাধের কথা স্বীকার করে শাস্তি চাইলেন সাহেদের স্ত্রী সাদিয়া আরাবি রিম্মি। স্বামীর দুষ্কর্মে নিজে লজ্জিত রিম্মি জানান, অভিযানের পর সাহেদ আত্মগোপনে থাকলেও ফোনে কথা হয়েছে। তিনি নিরাপদে আছেন। আর বাড়ির মালিক বললেন, ফ্ল্যাটে উঠার পর থেকেই কয়েক দফা হুমকি দেন সাহেদ। প্রায় দু বছর ধরে শাহেদ পরিবারসহ থাকতেন ওল্ড ডিওএইচএসের চার নাম্বার সড়কের বাসাটিতে।

স্ত্রী সাদিয়া আরাবি রিম্মির দাবি ২০০৭ সালে বিয়ের পরের বছরই তার স্বামীর নানান অপকর্ম জানতে পারেন। শোধারাতে নানাভাবে সুযোগ দেয়া হলেও তার স্বামী অপকর্ম ছাড়েননি। সাহেদের স্ত্রী সাদিয়া আরাবি রিম্মি বলেন, তার এসব অপকর্মের জন্য এর আগে কয়েকবার চলেও গিয়েছিলাম। কিন্তু, তার অনুরোধে আবার ফিরে আসি। আমারও দুর্বলতা ছিলো সন্তানের জন্য। গত তিন-চার বছর ধরে পরিবারের সদস্যদের ধারণা ছিলো তার পরিবর্তন আসবে। এখন যা দেখলাম তাতে আমি লজ্জিত ও দুঃখিত। তার এসব কর্মকাণ্ডের খবর প্রকাশিত হওয়ায় আমি অনুভূতিহীন হয়ে পড়েছি।

এসব কাজ তার নেশায় পরিণত হয়েছিল বলেও দাবি স্ত্রীর। প্রশ্ন ছিল স্বামী বিচার চান কি না। সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য তাকে বার বার সুযোগ দিয়েছেন বলেও জানান সাহেদের স্ত্রী। তবে, সাদিয়া আরাবি রিম্মি জানান, তিনি বা তার পরিবারের কেউ চাননি সাহেদ অপরাধ করে পার পেয়ে যান। আমি কোনদিনও চাই নাই সে পার পেয়ে যাক। ওর পরিবারের সবাই বলেছে অপরাধ করলে শাস্তি পাবেই। ভবন মালিক থাকেন উপরের তলাতেই। সাহেদের কথা জিজ্ঞেস করতেই বললেন, ব্যবসায়ী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিলেও প্রথম দিন থেকেই সাহেদ নানাভাবে হুমকি দিতেন।

বাড়ির মালিক লিনিয়া দেওয়ান বলেন, সে তার এক লোককে একটি ব্রিফকেস নিয়ে পাঠিয়েছে, সেটা খুলেই দেখলাম অনেক টাকা। তখন সে আমাকে আমার টাকা দিয়ে বললো এই টাকা কিছুই না। আমাকে হুমকি দিয়ে বলেছে আপনি আমার গানম্যানদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার কেনো করেছেন, আপনি জানেন আমি কে। মেয়েদের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় সে জানেই না, খুবই বিশ্রিভাবে কথা বলে। সাহেদের আচরণে বিরক্ত হয়ে বাড়ি ছাড়ার নোটিশও দেয়া হয়। ভবনের গ্যারেজে আরেকটি গাড়িরর সন্ধান মেলে সাহেদের। সেটিতেও ফ্লাগ ষ্ট্যান্ড ছিল, ছিল স্টিকারও।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: