প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ বিভাগ অনুমোদন কার্যক্রম

   
প্রকাশিত: ৪:১৮ অপরাহ্ণ, ৬ আগস্ট ২০২০

তানবির আলম খান, বশেমুরবিপ্রবি থেকে: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অনুমোদন নিয়ে কোন অগ্রগতি নেই। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতিতে দাপ্তরিক কার্যক্রম সীমিত হওয়ায়, বিভাগ অনুমোদনের বিষয়টি নিয়ে কোন সুরাহা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসির) অনুমোদন ছাড়াই ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি ও পাঠদান কার্যক্রম চলছিলো বিভাগটির। একপর্যায়ে অনুমোদন না থাকার বিষয়টি জানতে পারে শিক্ষার্থীরা। তারা বিভিন্ন সময় অনুমোদনের দাবি জানিয়ে আসছিলো। গত ৬ই ফেব্রুয়ারিতে বিভাগটিতে বর্তমান অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা সার্টিফিকেট পাবেন, তাঁরপর আসবেনা আর কোন ব্যাচ, থাকবেনা বিভাগ, ইউজিসির এমন সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক আখ্যায়িত করে লাগাতার আন্দোলন শুরু করে বিভাগটির শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পক্ষ থেকে চেষ্টার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। বিষয়টি পর্যালোচনা করতে ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ে গঠিত হয় ৭ সদস্যের কমিটি।

কিন্ত প্রতিশ্রুতির বেড়াজালেই রয়ে গেছে অনুমোদনের বিষয়টি। বিভাগটির অনুমোদনের বিষয়ে বিডি২৪লাইভকে সুনির্দিষ্ট কোন আশার সংবাদও দিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ও উপাচার্য (চলতি)। এ বিষয়ে রেজিস্টার ড. নুরুদ্দীন আহমেদ বিডি২৪লাইভকে জানায়, “অনুমোদনের বিষয়টি একেবারেই ইউজিসির ব্যাপার। এটা নিয়ে আলোচনা করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে একটি কমিটি হয়। এরপর ইউজিসিও তাদের ও আমাদের কয়েকজন সদস্য নিয়ে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছিলো। ইউজিসিকে বিশ্ববিদ্যালয় কিছু প্রতিবেদনও দিয়েছে। পরে আর বিষয়টি নিয়ে তেমন কাজ হয়নি।”

বিভাগটির বর্তমান শিক্ষার্থীরা সার্টিফিকেট পাবেন জানিয়ে উপাচার্য (চলতি) ড. শাহজাহান বলেন, “অনুমোদনের ব্যাপারে ইউজিসি তো আগেই দুইবার চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলো যে বিভাগটির অনুমোদন হবেনা। এরপরই কমিটি হয়েছিলো। এখন কমিটি কী সিদ্ধান্ত দিবে, এটা আমি জানিনা।”

বর্তমানে বিভাগটিতে তিন ব্যাচে ৪১৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রচণ্ড হতাশা কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে বিভিন্ন বিভাগে অনলাইনে ক্লাশ শুরু হয়। তাদের আন্দোলনের মধ্যে প্রধানত ছিলো, ক্লাশ বর্জন। তাই অনলাইন ক্লাশের ব্যাপারেও তাঁরা সিদ্ধান্তগ্রহণ করতে পারছেনা। সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরিকল্পনা রয়েছে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর আগেই বিষয়টি সুরাহা হবে বলে শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশা করছেন।

তবে, বিশ্ববিদ্যালয় না খোলা পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নয় বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. দিল আফরোজা বেগম। বিরক্তির সুরে তিনি বলেন, ইতিহাস বিভাগের অনুমোদন তখন হবে, যখন বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন শিক্ষার্থী নেই, আমরা বিভাগ খুলবো কেন।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: