প্রচ্ছদ / রাজনীতি / বিস্তারিত

আরমান হোসেন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

প্রথম দিনেই সংসদে উত্তাপ ছড়ালেন বিএনপির রুমিন ফারহানা

১১ জুন ২০১৯, ১০:২০:৫৮

ছবি: ইন্টারনেট থেকে

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ও দলের সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার এক বক্তব্যে উত্তপ্ত হয়েছে সংসদ।

সংসদে যোগ দিয়ে প্রথম দিন শুভেচ্ছা বক্তা হিসেবে বলার সুযোগ নিয়ে তিনি বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়।’ এতে সংসদ কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পরে তার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানালে স্পিকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আপত্তিকর কোনো কথা থাকলে তা এক্সপাঞ্জ করা হবে বলে জানান।

মঙ্গলবার (১১ জুন) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদের বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে।

বিএনপি মনোনিত সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা জাতীয় সংসদে তার প্রথম বক্তৃতায় একাদশ সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলায় সরকারি দলের এমপিদের তোপের মুখে পড়েছেন।

দুই মিনিটের বক্তৃতার প্রথম কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই শব্দটি ব্যবহার করলে ‘হই হই’ করতে থাকেন সরকারি দলের সদস্যরা। কেউ কেউ ‘চুপ চুপ’ বলে থামতে বলেন। কেউ বসে যেতে বলেন। পরে স্পিকাররের হস্তক্ষেপেও না থামায় হট্টগোলের মধ্যেই বক্তৃতা শেষ করেন তিনি।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘সংসদে আমার প্রথম দিন। যে কোনো রাজনীতিবিদের মতোই সংসদে আসা, সংসদে দেশের কথা, মানুষের কথা বলা আমার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য আমি এমন একটি সংসদে এসে প্রতিনিধিত্ব করছি যে সংসদটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়।’

এ সময় সরকারি দলের সদস্যরা হই হই করতে থাকেন। হট্টগোলের মধ্যে তিনি সরকারি দলের এমপিদের উদ্দেশে বলেন, ‘নির্বাচনের পর পরই টিআইবির রিপোর্ট দেখেন? বিদেশি গণমাধ্যমের রিপোর্ট দেখেন, বিদেশি পর্যবেক্ষণ দেখেন এছাড়া যদি ইসির রিপোর্ট দেখেন আপনার দেখবেন, এই সংসদটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। সুতরাং আমি খুাশি হব, যদি এই সংসদের মেয়াদ একদিনও না বাড়ে।

তিনি বলেন, ‘এমন একটি সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলছি, যে সংসদে তিন বারের প্রধানমন্ত্রী, আপোষহীন নেত্রী, গণতন্ত্রের জন্য যিনি বার বার কারাবরণ করেছেন, জীবনে কোনদিন তিনি কোনো আসন থেকে কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। সেই বেগম খালেদা জিয়া সংসদে নেই। তাঁকে পরিকল্পিতভাবে একটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলায় কারাগারে ১২ মাসের অধিক সময় আটকে রাখা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘একজন আইনজীবী হিসেবে দ্বার্থ্যহীন ভাষায় বলতে চাই, খালেদা জিয়ার মামলার মেরিট, তাঁর সামাজিক অবস্থান, বয়স ও জেন্ডার বিবেচনায় তিনি তাৎক্ষণিক জামিন লাভের যোগ্য।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘সরকারের হুমকির কারণে তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারছেন না।’ এরপর মাইক বন্ধ হয়ে গেলে তিনি খালি গলায় বলেন, ‘আমাদের কথা বলতে দিতে হবে। কথা বলতে না দেওয়া আপনাদের স্বভাবে পরিণত হয়েছে।’

পরে সুযোগ নিয়ে রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন রুমিন ফারহানাকে তার অসাংবিধানিক বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করতে বলেন।

রেলমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির একজন সংসদ সদস্য নিজে শপথ নিয়ে বর্তমান সংসদ যে বৈধ, তার প্রমাণ দিয়েছেন। আবার অধিবেশনে সংসদকে অবৈধ বলে দেশের ১৬ কোটি মানুষকে অপমাণিত করেছেন, ভোটারদের অবমাননা করেছেন।’

বিডি২৪লাইভ/এইচকে

এইচএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: