প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

জয়ন্ত শিরালী জয়

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দের শাড়ী ও কম্বল পাওয়া গেল স্টোর রুমে!

   
প্রকাশিত: ২:৫৮ অপরাহ্ণ, ২৫ নভেম্বর ২০২০

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অভিযোগ এনে ইউপি-চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ফের অনাস্থা দিয়েছে গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ সদস্য। তারা সম্প্রতি পরিষদের চেয়ারম্যান সুষেণ সেনের বরখাস্তসহ তার অপরাধের বিচার দাবি করে জেলা প্রশাসক, দুর্নীতি-দমন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে এ সংক্রান্ত লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।

ভূয়া জন্ম-নিবন্ধন ও ওয়ারিশন সার্টিফিকেট প্রদান, জালিয়াতীর মাধ্যমে ভিজিএফ, ভিজিডি, এলজিএসপি, টিআর এবং কাবিখা’র বরাদ্দকৃত সরকারি মালামাল ও অর্থ আত্মসাৎ, হোল্ডিং-কার্ডের নামে অর্থ আদায় করে আত্মসাৎ, বিভিন্ন রাস্তা নির্মাণে কমিটির সদস্যের স্বাক্ষর জাল করে বা কখনও স্বাক্ষর ব্যতীত বা কখনও ভূয়া মাস্টার-রোল তৈরী করে টাকা উত্তোলন এবং পরিষদের কাউন্সিলরদের সম্মানী ভাতা প্রদান না করা সহ চেয়ারম্যানের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উল্লেখ রয়েছে ওই আবেদনপত্রে।

এধরণের দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যানের অধীনে পেশাগত দায়িত্ব পালন সম্ভবপর নয় দাবি করে তারা আরও জানিয়েছেন, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিভিন্ন অপকর্মের কারণে ইউনিয়নবাসীর নিকট চেয়ারম্যান সুষেণ সেন চরম অপমান-অপদস্ত হয়েছেন। এছাড়া দুর্নীতি ও যৌন-হয়রানীসহ তার নানা অপকর্ম তুলে ধরে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিবসহ স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছেও অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু কোনকিছুই প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি। তার বিরুদ্ধে মুখ খুললেই তাদের ওপর নানাধরণের হুমকি-ধমকি বর্ষণ হতে থাকে। তাই নিরুপায় হয়ে পরিষদের সাত সদস্য একসঙ্গে গোপালগঞ্জ নোটারী পাবলিকের কার্যালয়ে এফিডেভিট (নং-৩৬০, তাং-১১/১১/২০২০) নিবন্ধন করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতণ কর্তৃপক্ষের কাছে সুবিচার প্রার্থনা জানিয়েছেন।

এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদে গেলে ষ্টোর-রুমে কিছু শাড়ি ও কম্বল দেখতে পাওয়া যায়, যেগুলো গতবছর ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ইউনিয়নের গরীব ও অসহায় মানুষদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দ ছিল। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ বেশকয়েক কার্টুন টিফিন-বক্স পাওয়া যায়। অভিযোগ পাওয়া যায়, এসব মালামালের কিছু অংশ নিজের লোকদেরকে দিয়ে বাকী সব তিনি গোপনে অন্যত্র বিক্রি করে দেন; তারপরও কিছু থেকে যায়।

এ সময় সেখানে উপস্থিত চেয়ারম্যান সুষেণ সেন সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী দেয়া কাপড়-চোপড় সবই বিতরণ করা হয়েছে। দু’চারটে যা আছে তা পরিষদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় শ্রম দেয় এমন দু’একজন গরীব মহিলাদের জন্য রাখা হয়েছে। এছাড়া উপরোল্লিখিত অভিযোগগুলির ব্যাপারে তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচণে তার সমর্থণ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচণে তার নোমিনেশন প্রাপ্তির কারণে এলাকায় যে বিপক্ষ তৈরী হয়েছে, তারাই তার বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র করছে এবং মিথ্যা অভিযোগ আনছে।

এআইআর/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: