প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলতে ১২৮ কোটি টাকার প্রকল্প

   
প্রকাশিত: ৬:৫৪ অপরাহ্ণ, ১৪ আগস্ট ২০২০

ছবি: ইন্টারনেট

করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো খুলে দিতে ১২৮ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষার গুণগত পরিবেশ তৈরি করতে এই টাকা খরচ হবে বলে জানা গেছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বিদ্যালয়গুলোতে আগাছার স্তুপ তৈরি হয়েছে। বন্যার কারণে অনেক বিদ্যালয় তৈরি হয়েছে আবর্জনার ভাগাড়ে। প্রকল্পের টাকায় এসব বিদ্যালয়ে নিরাপদ পয়ঃনিষ্কাশন, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করা হবে।

বর্তমানে মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ লাখ ৩৪ হাজার ১৪৭টি। তার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৬২০টি। এসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ১ কোটি ৭৩ লাখ ৩৮ হাজার একশ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। যার মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে ৩২ লাখ ৩২ হাজার ৮৬০ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৩৪ লাখ ৬৫ হাজার ৪৩৬ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৩৭ লাখ ১৮ হাজার ৭৮৮ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৩৮ লাখ ২৫ হাজার ২১৮ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৩০ লাখ ৯৫ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। নতুন করে স্কুলে এসে এসব শিক্ষার্থী যাতে করে স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে না পড়ে সেই জন্যই ‘বাংলাদেশ কোভিড-১৯ স্কুল সেক্টর রেসপন্স’ প্রকল্পের আওতায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ১২৮ কোটি ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রকল্পটি শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাস্তবায়ন করা হবে। এই বিশাল উদ্যোগ বাস্তবায়নে ১২৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা অনুদান দেবে গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (ডিপিই) বাকি টাকা সরকারি অর্থায়ন থেকে মেটানো হবে। চলতি সময় থেকে ২০২২ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। ১ম শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পযর্ন্ত সকল বিষয়ের ডিজিটাল কন্টেন্ট হবে। এই ডিজিটাল কন্টেন্টগুলো ডাউনলোড করে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসে প্রদশর্ন করা হবে। ফলে শিক্ষার্থীরা খুব আনন্দের সঙ্গে তাদের শিখন সম্পন্ন করতে পারবে বলে দাবি মন্ত্রণালয়ের।

এদিকে, নতুন এই প্রকল্পটির আওতায় প্রাথমিকের সব শ্রেণিতে সব বিষয়ের ডিজিটাল কন্টেন্ট নির্মাণ শুরু হবে। ক্লাসে সনাতন পদ্ধতিতে পড়ানো ছাড়াও এ কন্টেন্টগুলো প্রদর্শন করে শ্রেণি কার্যক্রমে আধুনিকায়ন করা হবে। এসব বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, শিক্ষাকে যুগোপযোগী করার সব ধরনের চেষ্টা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে। করোনার কারণে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে সেটি পূরণ করতে এরকম আরো প্রকল্প হাতে নিতে হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) রতন চন্দ্র পণ্ডিত বলেন, করোনার মতো যেকোনো মহামারিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় যেন কোনো বাধা না আসে সেভাবে পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। স্কুলগুলোতে কম্পিউটার ও ডিজিটাল স্ক্রিন কেনা হবে। এবার সব মিলিয়ে ৪০ হাজার কম্পিউটার কেনা হবে।

আরএএস/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: