প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীর সক্ষমতা নেই অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হওয়ার

   
প্রকাশিত: ১:৩২ অপরাহ্ণ, ১৪ জুলাই ২০২০

কামরুল হাসান অভি, রাবি থেকে: মহমারি করোনা সংক্রমণের মধ্যে দীর্ঘ সাড়ে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ছিল। গত সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সভাপতিদের সাথে উপাচার্যের ভার্চুয়াল এক সভা থেকে অনলাইন ক্লাসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আসে। সভায় অনেকটা তড়িঘড়ি করে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) থেকেই সব বিভাগে অনলাইন ক্লাসে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।

কোন রকম পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়া হুট করে এমন সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষা বৈষ্যমের শিকার হবে ৪০% শিক্ষার্থী। উন্নত বিশ্বের দেশগুলো অনেক আগে থেকেই অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা মানিয়ে নিলেও, সে ব্যবস্থা প্রচলনে কতটা সক্ষমতা আছে দেশের? ধীরগতির ইন্টারনেট, শিক্ষার্থীদের সবার হাতে স্মার্টফোন থাকার নিশ্চয়তা, উচ্চদামে ইন্টারনেট ডাটাপ্যাক কেনার সক্ষমতাসহ শিক্ষকদের প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে নানা মহল থেকে। বিশেষ করে প্রান্তীক পরিবার থেকে উঠে আসা শিক্ষার্থীরা যাদের এ ক্লাসে যুক্ত হওয়ার কোন ধরণের সক্ষমতাই নেই। তাদের বঞ্চিত করার নৈতিক অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকেই।

সমাজকর্মের দীদারুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী জানান, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে আমার অনেক বন্ধু আছে যাদের ঈদ বাজার ছিলো ১০ কেজী চাল, দুই কেজি আলু আর ১ কেজী লবণ। যেখানে বেঁচে থাকতেই লড়াই করতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত সেখানে অনলাইন ক্লাস এটা অনেকটা হাতি পোষার মতো। বর্তমানে ১ জিবি নেটের যে দাম তা দিয়ে এমন অনেক পরিবার আছে যাদের এক বেলার আহার জুটে। বিশেষ করে যারা টিউশনি করে তাদের পড়াশোনার খরচ চালায়।

মো. কামরুল ইসলাম নামের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, গ্রামে নেটওয়ার্কের যে অবস্থা তাতে ফেসবুকের একটা পোস্ট দেখতে গেলে বারবার বাফারিং করে। সেখানে অনলাইনে ক্লাস? যাদের সমস্যা এরা কি তাহলে ক্লাস করবে না নাকি যাদের নেট স্পিড ভাল শুধু তাদের জন্য অনলাইন ক্লাসের আয়োজন?

এদিকে, ক্লাস শুরুর প্রথম দিন (৯ জুলাই) গড়ে প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি অনুষদের ডিনদের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। আবার ক্লাসের যে উপস্থিতির হার অনুষদের ডিনরা জানিয়েছেন তা নিয়ে ভিন্ন মত আছে সংশ্লিষ্ট অনুষদভুক্ত বিভাগগুলো শিক্ষার্থীদের।

অনলাইন ক্লাসের বিষয়ে জানতে চাইলে, রাবি সাদা দলের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য অধ্যাপক ইফতেখারুল আলম মাসউদ বলেন, যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো চাপ ছিলো না তবু অনেকটা অপরিকল্পিতভাবে অনলাইনে ক্লাস শুরু করা হয়েছে। ক্লাস নিতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে ২০ শতাংশের কম শিক্ষার্থী উপস্থিত হচ্ছে ক্লাসে।

রাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি সাকিলা খাতুন বলেন, এই মুহুর্তে অনলাইন ক্লাস অবশ্যই ইতিবাচক। তবে সকল শিক্ষার্থীর অনলাইনের শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রণের সুবিধা নিশ্চিত করে তবেই অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা দরকার ছিল। অনেক শিক্ষার্থী গ্রাম ও পার্বত্য এলাকায় অবস্থান করছেন যেখানে ইন্টারনেট ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। অনেকের কাছে স্মার্ট ডিভাইস পর্যন্ত নেই। এই পরিস্থিতিতে অনেকের ডাটা প্যাক কেনার মতো সামর্থ্যও নেই। সেক্ষেত্রে প্রস্তুতিহীনভাবে তড়িঘড়ি করে অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শিক্ষার্থীদের উপর একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, আমরা শুরুটা করতে চেয়েছি। সেটা হয়েছে। দুই একদিনের মধ্যে সব বিভাগে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়ে যাবে। শিক্ষার্থীদের সমস্যায় কথা বিবেচনায় রেখে উপাচার্য টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করেছেন। কমিটি অনলাইন ক্লাসের খুটিনাটি সমস্যা সম্পর্কে প্রশাসনকে অবহিত করলে পরবর্তীতে আবার সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যাবে।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: