প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

হারুন অর রশিদ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রেমিককে নিয়ে স্বামীকে হত্যা করল স্ত্রী

   
প্রকাশিত: ৯:৪৯ অপরাহ্ণ, ২ জুলাই ২০২০

পঞ্চগড়ে পরকিয়ার জের ধরে স্বামীকে তার স্ত্রী প্রেমিকের সহযোগীতায় হত্যা করা হয়েছে। নিহত স্বামী জহর আলী (৬৫) বাড়ি জেলার আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের উত্তর বলরামপুর গাঠিয়া পাড়া গ্রামে। সে ওই এলাকার মৃত দিদার হোসেনের ছেলে। জানা গেছে পঞ্চগড়ে কাজের কথা বলে ডেকে নিয়ে প্রেমিকের সহযোগিতায় স্বামীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যুর আগে ঘাতকদের নামও বলে গেছেন নিহত ওই ব্যক্তি। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে ঘটনাটি ঘটেছে জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধায়। পুলিশের ধারণা পরকীয়া সর্ম্পকের জের ধরে প্রেমিকের সহযোগীতায় দ্বিতীয় স্ত্রী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে।

নিহতের ছেলে নুরুজ্জামান বলেন, আমার মা মারা যাওয়ার পর জাহেদা বেগমকে বিয়ে করেন আমার বাবা। ইদ্রিসের সাথে আমার ছোট মায়ের তিন বছর ধরে সম্পর্ক। এর আগে একাধিকবার গ্রাম্য শালিশও হয়েছে। কাজ দেয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে আমার ছোট মা ও ইদ্রিস পরিকল্পিতভাবে আমার বাবাকে গলা কেটে হত্যা করেছে। আমি এই হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুদরত-ই-খুদা মিলন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্ষীদের বরাত দিয়ে বলেন, নিজের স্ত্রীর সাথে ইদ্রিসকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় জহুর আলীর গলায় ছুরি চালিয়ে পালিয়ে যায় তারা। পরে তার চিৎকারে আশপাশের মানুষরা গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। তখনো কথা বলতে পারছিলো সে। ইদ্রিস ও তার স্ত্রী যে তার গলায় ছুরি মেরেছে এটা সে স্পষ্ট বলতে পেরেছে। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়।

পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, জহুর আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী জাহেদা বেগমের সাথে আটোয়ারী উপজেলার সাতখামার এলাকার ইদ্রিস আলীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক চলছিল। করোনা পরিস্থিতিতে বেকার হয়ে পড়ে জহুর আলী। ইদ্রিস কৌশলে জাহেদা ও জহুর আলীকে বাংলাবান্ধা এলাকায় পাথর ভাঙার কাজ দেয়ার কথা বলে বুধবার বাংলাবান্ধায় নিয়ে যায়। সেখানে হকিকুল ইসলামের একটি ঘর ভাড়া নেয় তারা। সেখানে অন্য শ্রমিকরাও ভাড়ায় থাকতেন। বৃহস্পতিবার ভোরে জহুর আলী তার স্ত্রী ও ইদ্রিসকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে। এ সময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে জহুর আলীর জহুর আলীর গলায় ছুরি চালিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় ইদ্রিস ও জাহেদা। জহুর আলীর চিৎকারে প্রতিবেশিরা ছুটে এসে তাকে গলায় ছুরিকাঘাত অবস্থায় দেখতে পায়। রক্তে সাড়া শরীর ভিজে গেছে। তখনো কথা বলছিলো জহুর। এ সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি ভিডিও ধারণ করে। ওই ভিডিওতে ইদ্রিস ও তার স্ত্রী জাহেদা খাতুন তার গলায় ছুরি চালিয়ে দিয়ে পালিয়ে গেছে বলে জানায়।
পরে স্থানীয়রা তাকে প্রথমে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি জব্দ করেছে পুলিশ। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এখন পর্যন্ত আসামীদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

তেঁতুলিয়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু সাঈদ চৌধুরী বলেন, পরকিয়ার জেরেই এই হত্যাকা- ঘটেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। আমরা ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করেছি। হত্যাকারিরা পালিয়ে গেছে। তাদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: