প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

প্রয়োজন হলে সীমিত পরিমাণে চাল আমদানি করা হবে: কৃষিমন্ত্রী

   
প্রকাশিত: ১১:৩৬ অপরাহ্ণ, ৯ আগস্ট ২০২০

আপাতত দেশে খাদ্য ঘাটতির কোন আশঙ্কা নেই উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, আউশ আমনে চলমান বন্যার ক্ষয়ক্ষতি ও আমনের উৎপাদনসহ সার্বিক পরিস্থিতি প্রতিদিন নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে সীমিত পরিমাণে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। মন্ত্রী বলেন, চলমান বন্যায় আউশের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমন ধানও অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ। খরার কারণে অনেক সময় উৎপাদন আশানুরূপ হয় না। আউশ আমনে চলমান বন্যার ক্ষয়ক্ষতি ও আমনের উৎপাদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে সীমিত আকারে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। যদি আমনের ফলন ভাল না হয়, বন্যা প্রলম্বিত হয়, বন্যার ক্ষয়ক্ষতি ঠিকমতো কাটিয়ে ওঠা না যায়, তবে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

রবিবার (৯ আগস্ট) মন্ত্রী বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) আয়োজিত ‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে খাদ্য নিরাপত্তা: বাংলাদেশ কী চাল ঘাটতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে?’ শীর্ষক অনলাইন সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন কৃষিসচিব মো: নাসিরুজ্জামান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো: শাহাজাহান কবীর। মুখ্য আলোচক ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষিতে চলমান বন্যার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সব ধরনের কার্যক্রম চলছে। আমন মৌসুমে উৎপাদন বাড়াতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া, আগামী রবি মৌসুমের সব ফসলে উৎপাদন বাড়াতে পূর্বপ্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। যাতে করে করোনা, আম্পান ও চলমান বন্যার বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, কোভিড-১৯ সময়েও মানবতার সেবায় এগিয়ে আসার মনমানসিকতা সবার নেই। একটা গ্রুপ রয়েছে যারা সুযোগ পেলেই চালের দাম বাড়িয়ে দেয়,কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্ঠা করে। আমাদেরকে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থকেই গুরুত্ব দিতে হবে। এই দুয়ের মাঝে সমন্বয় করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে সরকারি মজুদ সঠিক পরিমাণ রাখতে হবে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এর গবেষণায় দেখা গেছে, চালের উৎপাদন গতবছরের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৫৪ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বোরো ও আমন মৌসুমের উদ্বৃত্ত উৎপাদন থেকে হিসাব করে, জুন পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে ২০ দশমিক ৩১ মিলিয়ন টন চাল ছিল। আগামী নভেম্বর পর্যন্ত চাহিদা মেটানোর পরেও ৫ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন টন চাল দেশের অভ্যন্তরে উদ্বৃত্ত থাকবে। নভেম্বর পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৫০ কোটি মানুষের চাহিদা মিটানোর পরেও ৩৬-৭৮ দিনের চাল উদ্বৃত্ত থাকবে। এছাড়া, নভেম্বরের মধ্যে দেশের ফুড বাস্কেটে নতুনভাবে আউশ ও আমনের উৎপাদন যুক্ত হবে। ফলে, বাংলাদেশে আপাতত খাদ্য ঘাটতির কোন আশঙ্কা নেই।

অনলাইন সভায় খাদ্যসচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার মন্ডল, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. এস এম নাজমুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. হামিদুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ‎প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান, কৃষি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ, আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. হোমনাথ ভান্ডারি, এফএও বাংলাদেশ প্রতিনিধি, প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এসময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অধীনস্ত সকল দপ্তর/সংস্থার প্রধানগণ, বিভিন্ন দাতা সংস্থা, এনজিও এবং এ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ এতে সংযুক্ত ছিলেন।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: