প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

হারুন-অর-রশীদ

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালের শৌচাগারগুলোর বেহাল দশা, ভোগান্তিতে রোগীরা

   
প্রকাশিত: ১০:৪৩ অপরাহ্ণ, ২৭ অক্টোবর ২০২০

পানি জমে মেঝে পিচ্ছিল, দরজাগুলো ভাঙ্গা। কোনটির আবার দরজা নেই। দেয়াল স্যাঁতসেঁতে। ময়লা নোংরা দুর্গন্ধ পরিবেশ। এই হলো ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগীদের জন্য তৈরি গোসলখানা ও শৌচাগারগুলোর বর্তমান দশা। অবস্থা এতটাই বেগতিক যে ঝুঁকি নিয়ে প্রয়োজন সারতে হয় রোগী ও তাঁদের স্বজনদের। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে আগত কাটা-ছেঁড়া রোগীদের সেলাই এর কাজও করান তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী দিয়ে। ট্রলি বয়দের বাড়তি টাকা না দিলে রোগী ও রোগীর পরিবাররা সেবা বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। রোগীর পরিবারের সাথে দূর্ব্যবহার যেন নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন জেলার মানুষ এখানে উন্নত চিকিৎসার জন্য ছুটে আসেন। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল শুধুমাত্র ফরিদপুরের লোকদেরই ভরসা বা আস্থার জায়গা নয়।

বৃহত্তর ফরিদপুর তথা মাদারীপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুরসহ বিভিন্ন জেলার মানুষের জন্য উত্তম এবং ভালো চিকিৎসার জন্য আস্থা ও ভরসার জায়গা। ভালো চিকিৎসা পাওয়ার আশায় বিভিন্ন জায়গা ও দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু একটু ভালো সেবা এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য এসেও তারা পড়েন বিভিন্ন ভোগান্তিতে এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শৌচাগার গুলোর বেহাল দশা এবং বাথরুমের বাজে অবস্থা। প্রায় প্রত্যেকটা শৌচাগারেই জমে আছে নোংরা পানি এবং মলমূত্র ও অপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসপত্র।

প্রায় সময়ই দেখা যায় রোগীদের ব্যবহার করা এবং ফেলে দেওয়া প্রচুর অপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পঁচা ভাত, তরকারিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র। ফলশ্রুতিতে অল্পতেই দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে প্রত্যেকটি বাথরুম থেকে।

যদিও কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার দিচ্ছে সম্পন্ন রোগী এবং রোগীর লোকদের উপর। বলছেন তাদের অসচেতন ভাবে শৌচাগার ও বাথরুমের ব্যবহার এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী বাথরুমে ফেলে দেওয়ার কারণেই সৃষ্টি হচ্ছে এ সমস্ত জটিলতা এবং সমস্যা।

ভুক্তভোগী তথা রোগী এবং রোগীর লোকেরা বলছেন, কর্তৃপক্ষের অসচেতনতা এবং সুষ্ঠু তদারকি না করার কারণেই শৌচাগার বা বাথরুমগুলো বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী। সাধারণত জুলাই থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ থাকে। কারণ এ সময়টিতে এডিস মশার বিস্তার ঘটে।

সুতরাং জমে থাকা ময়লা পানি ও আর্বজনা থেকে সৃষ্টি হতে পারে ভয়াবহ ডেঙ্গু প্রকোপ। কর্তৃপক্ষের প্রয়োজন এখনই সজাগ দৃষ্টি দেওয়া এবং যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের ওয়ার্ড মাষ্টার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমাদের হাসপাতালে লোকবল সংকটের কারণে কিছুটা সমস্যা রয়েছে। এছাড়া আমাদের পরিষ্কার -পরিচ্ছন্ন কর্মীরা প্রতিদিন সকালে শৌচাগারগুলো পরিষ্কার করে থাকেন। তিনি বলেন, এছাড়া রোগীদের হয়রানী বন্ধেও হাসপাতালের প্রতিটা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কর্তৃপক্ষের ফোন নম্বর টাঙানো হয়েছে। রোগীদের কোনো অভিযোগ থাকলে ফোন করা মাত্রই ব্যবস্থা নিচ্ছি। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা: সাইফুর রহমান বলেন, এব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: