ফের হাসপাতালে সুমন বেপারী

   
প্রকাশিত: ৯:০৮ পূর্বাহ্ণ, ৫ জুলাই ২০২০

ডুবে যাওয়া লঞ্চের যাত্রী সেজে ১৩ ঘণ্টা পর উদ্ধার হন সুমন বেপারী। ২১ ঘণ্টা হাসপাতালে থাকার পর রিলিজ দেয়ার ৫৪ ঘণ্টা পর ফের মিটফোর্ড হাসপাতালে শরীর দুর্বল ও মাথা ভন ভন নিয়ে মেডিসিন বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ইসহাক মজুমদারের বিভাগে ভর্তি হয়েছেন।

গত ২৯ জুন চাঁদপুর রুটে ময়ূর ২ লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যাওয়া মর্নিং বার্ড লঞ্চযাত্রী ছিলেন সুমন। এ ঘটনা সত্যি বলে সুমনের এলাকার ইউপি চেয়ারম্যানসহ একাধিক লোক জানান। আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বেপারী নয়া দিগন্তকে জানান, ঘটনার দিন সুমন সকালে কাঠপট্টি থেকে মর্নিং বার্ড লঞ্চে ওঠে এ কথা সত্য। ওই দিন আরো সাতজন ওই লঞ্চে ছিল। তার মধ্যে একই পরিবারের তিনজনসহ পাঁচজন ডুবে মারা যান। তারা হলেন, আব্দুর রহমান ও তার স্ত্রী হানিনা, ছেলে মাঈনুর রহমান ইফাত। এ ছাড়া মনিরুজ্জামান মনির। নিহতরা একই গ্রামের বাসিন্দা। তাদেরকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তবে এলাকার বাসিন্দা সুমন নামে একজন ১৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার হয়েছে। ঘটনার পরের দিন রাতে এলাকায় সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসে সুমন। ২ জুলাই ফের শরীর দুর্বল ও মাথা ভন ভন করছে বলে হাসপাতালে ভর্তি হতে যায় বলে জানান তিনি।

মুদি দোকানি জাহাঙ্গীর জানান, ঘটনার দিন সুমন ওই লঞ্চে ছিল এ কথা সত্য। কারণ একই গ্রামের আরো ৬ জন যাত্রী ওই লঞ্চে ছিল। তাদের মধ্যে পাঁচ জন ডুবে মারা গেছে। শুধু সুমন ও মাসুদ (২০) নামে দু’জনের জীবিত সন্ধান মিলেছে। সুমন বেপারীর পাশে বাড়ি তার। নিহতদের কবর খোঁড়া হলেও সুমন বেপারীর কবর খুঁড়তে সম্মতি দেয়নি তার পরিবার। বিষয়টি কেমন জানি। তা ছাড়া তার পরিবারের লোকজনকে আতঙ্কিত মনে হচ্ছে। সুস্থ হওয়ার দুই দিন পরে ফের হাসপাতালে ভর্তিও রহস্যজনক বলে জানান তিনি। আব্দুল্লাহপুর গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর আবু বকর মৃধাসহ এলাকার সবার একই ভাষ্য।

এ দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের দেড় শ’ বছরের পুরনো একটি ভবনের নিচতলায় ফের চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছেন সুমন বেপারী। সুমন বেপারীর সাথে থাকা বড়ভাই আবদুর রহমানের ছেলে ভাতিজা আরাফাত জানান, ঘুমিয়ে আছে চাচা। ডাক্তার কাউকে বিরক্ত করতে নিষেধ করেছেন। তা ছাড়া খাবারের টাইমে ঘুম থেকে ডেকে খাওয়াতে হয়। ঘুমিয়ে দিন কাটে সুমন চাচার। সুমনের ওয়ার্ডে ডিউটিরত এক ডাক্তার নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, সুমন বেপারীর নাকি শরীর দুর্বল ও মাথা ভন ভন করছে। তাই ভর্তি করা হয়েছে। সিটিস্ক্যান করেছি। রিপোর্ট আসলে বলতে পারব। সূত্র: নয়াদিগন্ত।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: