প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

খালিদ হাসান

বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানেও নিয়ন্ত্রণে আসছে না আলুর বাজার

   
প্রকাশিত: ৩:৪৭ অপরাহ্ণ, ২৩ অক্টোবর ২০২০

বগুড়ায় আলুর পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও সরকারি নির্দেশ না মেনে আগের মতই আলু কেনা বেচা করছেন ব্যবসায়ীরা। আলুর দাম কমাতে জেলার হাট বাজার ও হিমাগার গুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও তেমন একটা কাজে আসছে না। এখনো বগুড়ার বিভিন্ন হাটবাজারে আলু সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জের এ এইচ জেড কোল্ড স্টোরেজ, আর এ্যান্ড আর পটেটো কোল্ড স্টোরেজ ও হেমা কোল্ড স্টোরেজ সহ বেশ কয়েকটি হিমাগার সরোজমিনে ঘুরে চোখে পরে এমন চিত্র। ক্রেতারা বলছেন, সরকার আলু কেজি প্রতি বিক্রয় মূল্য ২৭ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও ৩৭ থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আলু।

এ এইচ জেড কোল্ড স্টোরেজে আলু কিনতে আসা আব্দুল করিম নামের এক ক্রেতা জানান, আমি অনেক্ষণ যাবৎ আলু কেনার জন্য দরদাম করছি। এখানে ৬০ কেজি ওজনের প্রতি প্রতি বস্তা আলু ২৫ ‘শ টাকা অর্থাত ৪১ টাকা কেজি প্রতি দাম চাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। এই আলু কিনে আমরা খুচরা বাজারে ৪৫ টাকা কেজি বিক্রি করছি। এসময় আমিনুর ইসলাম,শরিফুল ইসলাম,আব্দুল বাছেদসহ অনেকেই জানান, বর্তমানে ৬০ কেজি ওজনের প্র ২১’শ থেকে ২৫’শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে আলু।

এদিকে হঠাৎ করে সরকারের এমন সিদ্ধান্ত নেয়াতে লোকসান হবে এমন বক্তব্য দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, আমরা ২৮/২৯ টাকা কেজিতে আলু কিনে স্টোরে রাখছি। সরকারের এই রেটে আমাদের লোকসান গুনতে হবে। এনামুল হক সরকার নামের এক আলু ব্যবসায়ী জানান, অনেক ব্যবসায়ী ২৮ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে আলু কিনে হিমাগারে রেখেছে। এখন হঠাৎ ২৭ টাকা কেজি মূল্য নির্ধারণ করায় লোকসান গুনতে হবে তাদের।

আলুর দাম বেড়ে যাওয়ার পিছনে অতি লোভি কিছু ব্যবসায়ী দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন আল মেহেদী নামের এক ক্রেতা। তার দাবি আলুর আকাশ চুম্বি দামের পিছনে বিশাল সিন্ডিকেট দায়ী। তারা ইচ্ছা করেই হিমাগারে আলু রেখে সংকট তৈরী করছে।

বগুড়া শহরের রাজাবাজারের পাইকারি আলু ব্যবসায়ী লক্ষণ চন্দ্র বণিক বলেন, ‘হিমাগার থেকে সরকারি মূল্যে আমরা আলু কিনতে পারছি না। এ কারণে আমরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে আলু বিক্রি করতে পারছি না। অথচ হিমাগার থেকে আমাদের ২৭ টাকা কেজির মেমো ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। আলু কেনার পর আবার বাজারে নিয়ে আসতে কেজিতে ২-৩ টাকার মতো খরচ হয়। ’

বগুড়ার এএইচজেড কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক আতিয়ার রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন ব্যবসায়ী হিমাগারে আলু মজুদ করেন। এখান থেকে তারাই আলু বিক্রি করেন। সরকার আলুর মূল্য নির্ধারণ করে দেয়ার পর আমরা নোটিশ দিয়েছি। কিন্তু কে শোনে কার কথা।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে আলু উৎপাদনে শীর্ষ জেলা বগুড়া। দ্বিতীয় রংপুর জেলা, তৃতীয় দিনাজপুর এবং চতুর্থ জয়পুরহাট। দেশের আলুর চাহিদা মেটায় উত্তরাঞ্চলের এই জেলাগুলো। বগুড়া জেলায় বছরে আলুর চাহিদা থাকে ১ লাখ ১৬ হাজার মেট্রিক টন। অতিরিক্ত আলু ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যায়।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: