প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

৫ দিনের পুলিশ রিমান্ডে

বগুড়ায় ১২শ কোটি টাকার চেকসহ ডিজে শাকিলসহ আটক ৩

   
প্রকাশিত: ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ, ১৪ আগস্ট ২০২০

ছবি: প্রতিনিধি

আব্দুল ওয়াদুদ, শেরপুর (বগুড়া) থেকে: চাকুরি এবং ঋণ পাইয়ে দেয়ার নামে প্রতারণার বেড়াজাল পাতিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার ভূক্তভোগীদের কাছ থেকে নেয়া ১২শ কোটি টাকার চেকসহ আটক প্রতারক ডিজে শাকিলসহ তার দুই সহযোগী। তাদের ৫ দিন করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৩ আগষ্ট) বিকেলে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জেলা গোয়েন্দা কার্যালয় থেকে ডিজে শাকিল এবং তার দুই সহযোগী হুমায়ুন কবির ও হারুনুর রশিদ সাইফুলকে নেয়া হয় আদালতে। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ তুহিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক বিল্লাল হোসাইন তিন জনের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

জানাযায়, দেশের বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য মানুষের নিকট থেকে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ এবং দেশি-বিদেশী ব্যাংক থেকে ঋণ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে লোকজনের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি ডিজে শাকিল। এই প্রতারনার স্বীকার বগুড়ার দুই ভূক্তভোগী বিষয়টি নিয়ে মামলা করলে বুধবার তাড়াশ থেকে দুই সহযোগীসহ শাকিলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় তার কার্যালয় থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ১২০১ কোটি ৭২ লাখ টাকার চেক এবং সরকারি-বেসরকারি দফতরের ভূয়া নিয়োগপত্র জব্দ করে বগুড়ার গোয়েন্দা পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ তুহিন বিডি২৪লাইভকে জানান, প্রতারক রাব্বী শাকিল ওরফে ডিজে শাকিলকে বুধবার গ্রেফতারের পর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য ভূক্তভোগী তাদের কাছে ফোন করতে শুরু করেছেন। যাদের অধিকাংশই শাকিলের প্রতারণার ফাঁদে ৫ লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত খুঁইয়েছেন।

উল্লেখ্য, বগুড়া সদর উপজেলার মালতিনগর এলাকার বাসিন্দা ও আমায়রা এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী আমানতউল্লাহ তারেক ও অভি এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী মো. আশিক দৌলতানা নামের দুই ব্যক্তির করা মামলায় বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে তারাশ উপজেলা পরিষদ গেট সংলগ্ন রিশান গ্রুপের প্রধান কার্যালয় থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার খাঁ পাড়া এলাকার কাজী গোলাম মোস্তফার ছেলে রাব্বী শাকিল ওরফে ডিজে শাকিল (৩২), কুসুমদ্বী এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে আইটি এক্সপার্ট হুমায়ূন কবির মিলন (২৮) এবং নওগাঁর জেলার মান্দা উপজেলার গাড়ীক্ষেত্র এলাকায় সাইদুর রহমানের ছেলে হারুন রশিদ ওরফে সাইফুল ইসলাম (২৬)।

প্রতারক চক্রের এ দলটি দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া অনলাইন পেজ চালিয়ে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিল। সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক ও লোন সার্ভিস নামে একটি অনলাইন পেজে দেশে-বিদেশে লোন করে দেওয়ার ভুয়া বিজ্ঞাপন প্রচার করে তারা। বিজ্ঞাপন দেখে আমানতউল্লাহ তারেক ও মোঃ আশিক দৌলতানা নামের দুই উদ্যোক্তা তাদের সাথে যোগাযোগ করেন। তারা ব্যাংক লোন নেওয়ার জন্য ওই প্রতারক চক্রের শাকিলের সাথে কথা বলেন। কথাবার্তায় শাকিল লোনের ৫ শতাংশ কমিশন হিসেবে দাবি করেন এবং লোন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ১৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নেয় ডি.জে. শাকিল। এরপর তাদের বগুড়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাড়ে চার কোটি টাকার দুটি চেক দেন। ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর তারা জানতে পারেন চেকগুলো ভুয়া এবং তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

এদিকে, প্রতারিত ব্যক্তিরা এ বিষয়ে বগুড়া ডিবি কার্যালয়ে অভিযোগ করেন। এর ভিত্তিতেই ডি.জে শাকিল, রিশান গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. হুমায়ন কবির লিমন ও ম্যানেজার মোঃ সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।

বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা জানান, প্রতারক চক্রের ওই তিন সদস্যকে গ্রেফতারের সময় তাদের অফিসের কম্পিউটার, কয়েকটি ফাইল এবং ১২ শত ১ কোটি ৭২ লাখ ১০ হাজার টাকার চেক জব্দ করা হয়। এ প্রতারক চক্রটি তিন শতাধিক ব্যাংক লোন দেওয়ার নামে বিভিন্ন অনলাইনে ভূয়া বিজ্ঞপ্তি ছাড়ে। তারা সামরিক বাহিনী, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্টান ও বিভিন্ন প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার নিয়োগ পত্রসহ আইডি কার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করতেন।

তিনি বলেন, প্রতারণার কাজ করতে তারা ২২ টি নিউজ পেপার, ১২টি ফেসবুক আইডি এবং ৩৫টি ফেজবুক পেইজ তৈরি করেছে। তাদের আটকের কথা জানতে পেরে প্রতারিত হওয়া প্রায় ২০ জনের মতো সাধারণ মানুষের ফোন কল আসে।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: