বশেমুরবিপ্রবি: বছর গড়ালেও বিচার হয়নি সাংবাদিক হামলার

   
প্রকাশিত: ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: ইন্টারনেট

আশরাফুল আলম, বশেমুরবিপ্রবি থেকে: গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) বছর গড়ালেও এখনো মিলেনি সাংবাদিক হামলার বিচার। গত বছর ২০১৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরেই হামলার শিকার হয়েছিলেন দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের তৎকালীন বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি শামস জেবিন।

জেবিন জানান, বশেমুরবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির অপর এক সদস্যের বহিষ্কারের প্রতিবাদ জানানোর জেরে পরীক্ষার হল থেকে ডেকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়েরই কয়েকজন শিক্ষার্থীই চালিয়েছিলেন হামলা এবং চরম অত্যাচার। তবে হমলাকারীরা সে সময় জানান, তারা সাবেক উপাচার্য খোন্দকার নাসিরউদ্দিনই নির্দেশ দেন জেবিনকে তুলে নেবার। পরবর্তীতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

তবে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন আব্দুর রহিম খানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং পাঁচ দিনের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু একমাসেও উক্ত তদন্ত কমিটি কোনো রিপোর্ট প্রদান না করায় ২০ অক্টোবর পুনরায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট উক্ত তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন রফিকুন্নেসা আলী এবং সদস্য সচিব ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. নূরউদ্দিন আহমেদ।

কিন্তু বছর গড়ালেও তদন্ত কমিটিতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বিচার কার্যক্রম। জেবিন জানান, তিনি তদন্ত কমিটির নিকট তার বক্তব্য প্রদান করেছেন এবং মূল হামলাকারীদের পরিচয়ও জানিয়েছেন।

এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. নূরউদ্দিন আহমেদ বিডি২৪লাইভকে জানান, এ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন অফিসে রয়েছে। শৃঙ্খলা বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন চাওয়া হলেই আমি প্রতিবেদনটি উপাচার্যের নিকট প্রদান করবো এবং শৃঙ্খলা বোর্ড প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

অন্যদিকে বছর গড়িড়েও দীর্ঘ বিচার না হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বশেমুরবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির অন্যান্য সদস্যরা। একুশে টিভি অনলাইনের বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি মাইনউদ্দিন পরান বলেন বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যখন ফাতেমা-তুজ-জিনিয়া কে বহিষ্কার করা হলো, তখন বশেমুরবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির বেশ কয়েকজন সদস্য তার পাশে দাঁড়িয়েছিলো যাদের মধ্যে শামস জেবিন ছিলেন অন্যতম। আর এ কারণেই তার ওপর পরিকল্পিত ন্যাক্কারজনক হামলা চালায় তৎকালীন ভিসির লালিত বাহিনী। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো হামলার ১ বছর পার হলেও এখনও সেই চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতিরই নামান্তর। আমরা চাই হামলাকারীদের শাস্তির আওতায় আনা হোক এবং ক্যাম্পাসে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিতে হোক।

প্রসঙ্গত, বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি এবং নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে আন্দোলনের মুখে ২০১৯ এর ৩০ সেপ্টেম্বর বশেমুরবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন পদত্যাগ করেন।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: