প্রচ্ছদ / সারাবিশ্ব / বিস্তারিত

বাংলাদেশের বাতাস দূষিত, তাই ফ্রান্সে থাকার অনুমতি পেলেন এক অভিবাসী বাঙালি

   
প্রকাশিত: ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ, ১৪ জানুয়ারি ২০২১

বাংলাদেশের বাতাস ‘বিপজ্জনক মাত্রায়’ দূষিত, তাই দেশে ফিরলে অকাল মৃত্যু হতে পারে এমন যুক্তি দিয়ে ফ্রান্সে থাকার অনুমতি পেলেন এক বাঙালি অভিবাসী। তাকে দেশটিতে বসবাসের অনুমতি দিয়েছেন বোর্দোর একটি আপিল আদালত। ৪০ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিকের নাম প্রকাশ না করে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, ফ্রান্সে এই ধরনের রায় প্রথম বলে মনে করছেন ওই ব্যক্তির আইনজীবী।

আইনজীবী আদালতকে জানান, তার মক্কেলের অ্যাজমা রোগ আছে। তিনি বাংলাদেশে গেলে অকাল মৃত্যুর শঙ্কায় পড়তে পারেন। আইনজীবী লুডোভিচ রিভিয়ার বলেছেন, ‘আমার জানা মতে ফ্রান্সের কোনো আদালত এই প্রথম এমন রায় দিলেন।’

‘সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বিপজ্জনক দূষণের কারণে আমার ক্লায়েন্টের জীবন হুমকিতে পড়বে।’ বাংলাদেশের দূষিত বাতাস নিয়ে আলোচনা বেশ পুরোনো। গত বছর বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান ছিল ১৭৯তম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানের থেকেও প্রায় ৬ গুণ খারাপ দেশের কিছু অঞ্চলের বাতাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে, বাংলাদেশে ৫ লাখ ৭২ হাজার ৬০০ মৃত্যুর ক্ষেত্রে চরম মাত্রায় ঝুঁকির একটি ফ্যাক্টর এই বায়ুদূষণ। গত নভেম্বরের শেষে এবং চলতি মাসের প্রথম দিকে ঢাকা পৃথিবীর দূর্ষিত শহরের শীর্ষে স্থান পায়। এর প্রেক্ষাপটে আদালতকে জানানো হয় যে, বাংলাদেশি ওই ব্যক্তি ফ্রান্সে যে ওষুধ সেবন করছেন তা বাংলাদেশে পর্যাপ্ত নয়। এ ছাড়া হাসপাতালে অবস্থানকালে ওই বাংলাদেশিকে রাতে ঘুমানোর সময় শুধু রাত্রিকালীন ভেন্টিলেশন সরঞ্জাম সুবিধা দিতে পারে বাংলাদেশি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ওই অভিবাসী যে ওষুধ গ্রহণ করেন তা বাংলাদেশে পাওয়া যায় না। তাছাড়া হাসপাতালে তার যে ধরনের ভেন্টিলেশন যন্ত্রপাতি দরকার পড়ে, ঘুমানোর জন্য বাংলাদেশের হাসপাতালে তা কেবলমাত্র রাতে দেয়া সম্ভব। টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, ওই অভিবাসীর বাবা ৫৪ বছর বয়সে অ্যাজমা অ্যাটাকে মারা যান। ভুক্তভোগী অভিবাসী ২০১১ সালে ফ্রান্সে যান। সেখানে ওয়েটারের কাজ করেন। ২০১৫ সালে অস্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পান।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: