প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

মো. ইলিয়াস

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

বাজেটে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দের দাবি

১১ জুন ২০১৯, ৪:৪৭:২৬

ছবি: প্রতিনিধি

গার্মেন্টস শিল্পের শ্রমিকদের আবাসন, চিকিৎসা, রেশনিং ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দাবি জানিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট।

আজ মঙ্গলবার (১১ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সমাবেশে এই দাবি জানায় বক্তারা।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের জনগণের কল্যাণ ও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য এক বছরের ব্যয় পরিকল্পনাই হল বাজেট। দেশের মোট জনসংখ্যার ৬ কোটি ৩৫ লক্ষ শ্রম শক্তি। কিন্তু বাজেট প্রণয়নে সেই শ্রম শক্তির কোন প্রতিনিধির মতামত গ্রহণ করা হয়নি। অর্থাৎ যাদের নামে বাজেট প্রণিত হয়, বাজেট প্রণয়নে তাদের মতামতের কোন প্রতিফলন থাকে না।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ৮৩ শতাংশের বেশি আসে গার্মেন্টস শিল্প থেকে। আর এই গার্মেন্টস শিল্পের মূল ভিত্তি হচ্ছে সহজলভ্য শ্রমিক। অথচ এই শ্রমিকদের নেই কোন স্বাস্থ্য সম্মত মাথা গোজার ঠাঁই। প্রাপ্ত মজুরি নিয়ে পারেনা পরিবারের জন্য পুষ্টিকর খাবারের সংস্থান নিশ্চিত করতে। অসুস্থ শ্রমিকের নেই সুচিকিৎসার সুযোগ। নিম্ন মজুরির বিনিময়ে কাজ করেও ৪০ লক্ষাধিক গার্মেন্টস শ্রমিক তাদের জীবনযাপন প্রক্রিয়ায় দেশের অর্থনীতিতে বছরে লক্ষাধিক কোটি টাকার সঞ্চালনা নিশ্চিত করে। কিন্তু জাতীয় বাজেটে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান যোগানদার সেই গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নির্দিষ্ট করে বরাক রাখার কোন কথা আমরা শুনছি না। পরিবর্তে আমরা দেখেছি ব্যাংক লুটেরা, শেয়ারবাজার লুটেরা আর বিদেশে অর্থপাচারকারীদের নিকট থেকে লুষ্ঠিত অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা না করে লুণ্ঠনের ঘাটতি পূরণ করতে বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়।

‘গার্মেন্টস মালিকদের প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির দাবির বিপরীতে ইতোমধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের আশ্বাস দেয়া হয়েছে। প্রকৃতার্থে রাষ্ট্রীয় এই প্রণোদনার ন্যায্য প্রাপক শ্রমিকরা হলেও জনগণের টাকায় মালিকদের পকেট ভরা হয়। উৎপাদনের কারিগরদের খাদ্য নিরাপত্তা না থাকলেও আনুৎপাদনশীল খাতের রাষ্ট্রীয় কর্মচারীদের জন্য নামমাত্র মূল্যে রেশনিং এর ব্যবস্থা করা হয়। এভাবেই অল্প কিছু মানুষকে সম্পদ কুক্ষিগত করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে ফলশ্রুতিতে দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার হচ্ছে।’

নেতৃবৃন্দ বাজেটে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য বিশেষ বরাদ্দের জোর দাবি জানিয়ে বলেন, দেশীয় বাজারের বিস্তৃতি, শষ্কের বিকাশ, উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি আর শ্রম যোগানের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হলেও শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নয়ন বিশেষত স্বাস্থ্যকর বাসস্থান, ন্যায্যমূল্যে পুষ্টিকর খাবার এবং অসুস্থতায় সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার উদ্যোগ জরুরি।

সংগঠনের সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুর রাজ্জাক, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সহ-সভাপতি খালেকুজ্জামান লিপন, খাইরুল কবির, সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, যুগ্ম-সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক সৌমিত্র কুমার দাস, অর্থ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরিফ, দপ্তর সম্পাদক হাসনাত কবির, তৌহিদুল ইসলাম সুজন, রুহুল আমিন সোহাগ, আমান উল্লাহ আমান, মোহাম্মদ সোহেল কামাল পারভেজ মিঠু, মোহাম্মদ মোহসিন প্রমূখ।

বিডি২৪লাইভ/এমই/টিএএফ

টিএএফ/এসইসি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: