শাহাদাত হোসেন রাকিব

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

বাতের ওষুধ আমদানিতে শুল্কমুক্ত ও চিকিৎসায় প্রণোদনা দেওয়ার আহবান

   
প্রকাশিত: ৫:৪৩ অপরাহ্ণ, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

নিয়ম মেনে ওষুধ সেবন, শরীর চর্চার পাশাপাশি জনসচেতনতায় বাত ব্যথার রোগিরা অনেকটা সুস্থ থাকতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, দেশের প্রায় ২ শতাংশ তরুণ ছেলে মেয়েরা এ বাত ব্যথায় আক্রান্ত। প্রাথমিক পর্যায়ে বাত ব্যথার কোন উপসর্গ দেখা দেয় না। এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ৯ থেকে ১০ বছর পর এর তীব্রতা প্রকাশ পায়। ফলে বয়স কম থাকায় তরুণরা বুঝতে পারে না। এতে করে অল্প বয়সে অনেক তরুণ কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। নিয়মিত শরীর চর্চা ও ওষুধ সেবনই এর তীব্রতা রোধ করতে পারে। একই সঙ্গে বাতের ওষুধ আমদানিতে শুল্কমুক্ত করাসহ এই চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রণোদনা দেওয়ার আহবান জানান তারা।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আশুলিয়ার সামাজিক কনভেনশন সেন্টারে বাত ব্যাথার রোগীদের সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা এ কথা জানান। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে প্রফেসর নজরুল রিউম্যাটোলজি ফাউন্ডেশন এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট। এতে সহযোগিতা করেছেন হেলথকেয়ার ফার্মাসিটিক্যালস লিমিটেড। এবারের অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য করা হয়েছে ব্যথাকে আর করবোনা ভয় জীবনকে এবার করবো জয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশে প্রতিনিয়ত বাত ব্যথার রোগির সংখ্যা বেড়ে চলছে। সঠিক চিকিৎসা ও সচেতনতার অভাবে অনেক রোগি ধীরে ধীরে তাদের কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। এ চিকিৎসার অনেক ওষুধ দেশে তৈরি হয়না বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে এর চিকিৎসার ব্যয় বেড়ে যায় অনেক। এতে করে অনেক রোগী ব্যয় বহন করতে না পেরে চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়। এমন বাস্তবতায় বাত ব্যথার রোগিদের সচেতন বাড়ানো, ওষুধ আমদানিতে ট্রক্স মওকুফ ও চিকিৎসা ব্যয় কমানোর পরামর্শদেন তারা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রিউম্যাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশে প্রতিদিন ৫ হাজার রোগী উন্নত চিকিৎসা নিতে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতসহ অন্যান্য দেশে চলে যাচ্ছে। বিশ্বে ৬৪৪ প্রকারের বাত জ্বর রয়েছে। বড় দাগে ২০০ প্রকার রোগ রয়েছে। আমাদের দেশের ২ শতাংশ তরুণ এ রোগে আক্রান্ত। ৩৫ /৪০ শতাংশ কোমর ব্যথায় ভোগে। অথচ এই রোগের জন্য দেশে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রয়েছে মাত্র ৫০ জন। এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতের রাজধানীসহ দেশের জেলা উপজেলা পর্যায়ের মেডিকেল কলেজগুলোতে পদ সৃষ্টি করলে সহজেই চিকিৎসা দেয়া যাবে। একই সঙ্গে বাতব্যথা চিকিৎসা খরচ বেশি হওয়ায় অনেক রোগি মাঝ পথে চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়। এজন্য ওষুধ আমদানিতে ট্যাক্স মওকুফ করা ও চিকিৎসা সেবায় প্রোণদনা দিতে হবে। এছাড়া নিয়মিত শরীর চর্চা ও ওষুধ সেবনে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

তিনি বলেন, আজকের অনুষ্ঠানটির মুলত বাত ব্যথা নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে ২০১৫ সাল থেকে আমরা নিয়মিত আয়োজন করে যাচ্ছি।

এ লক্ষ্যে ২০১৯ সালে মাত্র ৩৯ জন সদস্য নিয়ে প্রফেসর নজরুল রিউম্যাটোলজি ফাউন্ডেশন এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট নামে একটি প্রতিষ্ঠান করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাতের রোগীদের আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা স্বল্প খরচে দেয়া হচ্ছে। এখন আমার লক্ষ্য এই চিকিৎসা সেবা দেশের প্রত্যন্তঅঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে চাই। এজন্য আমরা একটি নেটওয়ার্কিং এর মাধ্যমে সারা দেশ ব্যাপী শাখা করে আধুনিক চিকিৎসা দিতে চাই।

ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রিউম্যাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, সাবেক ভিসি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্স (বিআইএইচএস) অধ্যাপক ড. লিয়াকত আলী, বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের পরিচালক (অর্থ) ও বিসিএস অডিট এন্ড অ্যাকাউন্টস মো. আব্দুস সোবহান, বিশিষ্ট অভিনেতা আজিজুল হাকিম, চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. জাহেদুর রহমান পান্নু, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম, অ্যাপোলো হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার আখতার জামিল আহমেদ, হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালের সহকারী ব্যবস্থাপক সামিউল হক, প্রোডাক্ট ম্যানেজার রওশন শামা, মডার্ন ওয়ানস্টপ আর্থারাইটিস কেয়ার এন্ড রিসার্চ সেন্টারের চিকিৎসক ডা. ফাহিদ বিন নজরুল, ডা. আশিকুজ্জামান রিয়াদ, ডা. মাহফিল তানি, ডা. শিমুল রায়, ডা. ফাতেমাতুজ জোহরা, ডা. তানজিনা শারমিন রুম্পা প্রমুখ।

প্রফেসর নজরুল রিউম্যাটোলজি ফাউন্ডেশন এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট বাতের রোগিদের সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছে। গত পাঁচবছরের ন্যায় এবার ষষ্ঠবারের মতো বাতের রোগিদের নিয়ে এমন আয়োজন হলো। অনুষ্ঠানে হাতে কলমে রোগিদের শারীরিক ব্যয়াম, বাত ব্যথা সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের সমাধান দেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

এসএ/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: