প্রচ্ছদ / অপরাধ / বিস্তারিত

স্ত্রী ও ৩ বছরের মেয়েকে মারার পর

বাবার পা জড়িয়ে জীবন ভিক্ষা চেয়েছিল ১২ বছরের ফারহান

   
প্রকাশিত: ১১:০২ পূর্বাহ্ণ, ১২ এপ্রিল ২০২০

রাজধানীর দক্ষিণখান থানার প্রেমবাগান এলাকায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে ঘটে এক মর্মান্তিক ঘটনা। নিজের স্ত্রী ও দুই ছেলে মেয়েকে মেরে পালিয়ে যান বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কনিষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপক রকিব উদ্দিন আহম্মেদ লিটন। গত ৬ এপ্রিল লিটনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের বিমানবন্দর জোনাল টিম। ৮ এপ্রিল তাকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। তিনি মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমানের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে খুনের বর্ণনা দিতে গিয়ে লিটন জানান, অফিসের সহকর্মীসহ বিভিন্নজনের কাছ থেকে এক কোটি দশ লাখ টাকা সুদে টাকা ধার নেন। তিনি অনলাইনে জুয়া খেলতেন। জুয়া খেলতে খেলতে সব টাকা নষ্ট করে ফেলেন তিনি। ধারের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় প্রায়ই পাওনাদাররা বাসায় আসতেন। এ নিয়ে স্ত্রী মুন্নী প্রায়ই ঝগড়া করতেন। ঘটনার আগের দিন তিনি বাসায় আসেন। টাকা দিতে না পারলে তার বিপদ হবে এই চিন্তা করেই সবাইকে খুন করে নিজে আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে স্ত্রী মুন্নী বিছানায় শোয়া থাকা অবস্থায় লিটন একটি হাতুড়ি দিয়ে স্ত্রীর মাথায় বাড়ি মারেন। চিৎকার করে উঠলে তাকে আবারো বাড়ি মারেন। এরপর গলা টিপে ধরেন। এক সময় স্ত্রী মারা যান। স্ত্রীর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ড্রয়িংরুমে তিন বছরের মেয়ে লাইবাকে টিভি দেখা অবস্থায় রশি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে মেরে ফেলেন। মেয়েকে মারার পর ছেলে ফারহান ওই রশি দিয়েই মারতে যান। ঘুমিয়ে থাকা ফারহান জেগে উঠলে বাবার কাছে বাঁচার আকুতি জানায়।

১২ বছরের ছেলে ফারহান বাবার পা জড়িয়ে ধরেছিল। কিন্তু রেহাই দেননি পাষণ্ড বাবা। ছেলেকে যখন মারধর শুরু করেন, তখন ছেলেটি বাবার পা জড়িয়ে ধরে বলেছিল, ‘বাবা আমাকে মের না।’ বাবা যখন থামছেনই না, তখন ছেলেটি বলেছিল, ‘তুমি কি আমাকে মেরে ফেলবে নাকি?’ বাবার উত্তর, আমাদের সবারই চলে হতে হবে। আমিও থাকবো না। তোমার মা, বোন চলে গেছে। সবার যেতে হবে বাবা। আজই যাবো।’ তারপর ছেলের গলায় রশি পেঁচিয়ে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় ছেলেকে। জবানবন্দিতে লিটন আরও জানান, তিনজনকে মারার পর আর আত্মহত্যার চিন্তা আসেনি। ঘরের দরজা বন্ধ করে তিনি বেরিয়ে পড়েন। কিভাবে কোথায় তিনি চলে যান তা তার মনে নেই। তবে জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখতে পান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হ্নদরোগ হাসপাতালের ময়লার ভাগাড়ে তিনি। এর আগে কোথায় কোথায় ছিলেন তা তিনি বলতে পারেননি। গত ৬ এপ্রিল পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে। জীবনে তিনি অনেক ভুল করেছেন। ভালো একটা চাকরি করতেন। মান-সম্মান সবই ছিল। কিন্তু জুয়ার নেশা তাকে অন্ধ করে ফেলেছিল। লিটন স্বীকারোক্তিতে বলেন, জুয়া খেলা সবচেয়ে বড় ভুল। আর অফিসের সহকর্মী ও অন্যদের কাছ থেকে সুদে টাকা ধার করা আরো ভুল। শুধু ভুল নয়, চরম অন্যায়। আরো বড় অপরাধ করে ফেলেছেন স্ত্রী, পুত্র, কন্যাকে খুন করে।

আরএএস/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: