বিএনপির নেতা হিসেবে নয়, কর্মী হিসেবে কাজ করা উচিত তারেক কন্যার

   
প্রকাশিত: ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ, ২০ ডিসেম্বর ২০১৯

দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, দলীয় প্রধানের মুক্তির জন্য নেতাকর্মীদের কি করা দরকার? এসবসহ নানান বিষয়ে বিডি২৪লাইভের সাথে একান্তে কথা বলেছেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মো. ইলিয়াস।

বিডি২৪লাইভ: দেশের চলমান রাজনৈতিক সম্পর্কে কিছু বলুন?
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী: দেশে এক অসহনীয় সংকেত দেখা যাচ্ছে। দেশের মূল ভিত্তি হল কৃষক-শ্রমিক। আরেকটি অংশ হল যারা বিদেশে কাজ করে। তাদের প্রেরিত অর্থেই আমাদের জীবন-জীবিকা পরিচালিত হয়। মালয়েশিয়া থেকে ৫০ হাজার শ্রমিক ফিরে আসছে। সৌদি আরব থেকে ফিরে আসছে, কাতারসহ অন্যান্য দেশে যেতে দিচ্ছে না। সৌদি আরবে মেয়েদের উপরে অত্যাচার হচ্ছে। এটা দেশের জন্য ভালো খবর নয়। আজকে ৪০ হাজার কয়েদি কারাগারে থাকার কথা, সেখানে ৯০ হাজারের চেয়েও বেশি জেলে রয়েছে। এদের বেশির ভাগই রাজনৈতিক কর্মী। সব মিলিয়ে আমরা একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি।

বিডি২৪লাইভ: খালেদা জিয়ার জামিন কেন হচ্ছে না, আর জামিন না হওয়ার পিছনে কি কারণ থাকতে পারে বলে আপনি মনে করছেন?
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী: যখন দেশের বিচার ব্যবস্থায় স্বাধীনতা থাকে না, বিচারকদের মেরুদন্ড শক্ত থাকে না, যেখানে বিচারকরা মুক্ত চিন্তা করতে পারেন না। তখন তাদের কাছে খালেদা জিয়ার জামিন প্রত্যাশা করা ভুল। একটি অসম্পূর্ণ মেডিকেল রিপোর্টের অজুহাত দিয়ে জামিনটা দেয়া হয়নি। এটা হল তাদের (বিচারক) বিবেক নাই, সাহস নাই, দেশের স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা নাই। খালেদা জিয়ার জামিন না দেওয়াটাই হচ্ছে তার প্রমাণ।

বিডি২৪লাইভ: কোন প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার জামিন হতে পারে, তার মুক্তির জন্য নেতাকর্মীদের কি করা দরকার বলে আপনি মনে করেন?
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী: বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় কিনা সেটাও অনেকের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এই মামলাটায় জামিন হলেও তার মুক্তি হতো না, আরেকটি মামলা রয়ে গেছে। দুটি মামলাকে একত্রে তারা কেন উপস্থাপন করছেন না তাও জানি না। বিচারকরা যাতে সাহস পায় তার জন্য উচিত ছিল হাইকোর্ট এবং সুপ্রীমকোর্টের চারদিকে দশ হাজার কর্মীর চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকা। বিএনপির ১ লাখ নেতাকর্মী জামিনে আছে, আরও ৭ লাখের নামে মামলা রয়েছে। তাদের সবাইকে নিয়ে হাইকোর্টে ন্যায় বিচারের জন্য হাজির করাতে পারতো। স্থায়ী কমিটির যারা আছে তাদের এতো ভয় কেন? আন্দোলন ছাড়া ও রাজপথে যাওয়া ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি অসম্ভব ব্যাপার।

বিডি২৪লাইভ: বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি কি সঠিক পথে রয়েছে?
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী: বিএনপি মোটেই সঠিক পথে নেই। তারা ঘুমিয়ে আছে।

বিডি২৪লাইভ: তাহলে বিএনপির এখন কি করা উচিত?
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী: তাদের প্রথম কাজ হল, তারেক জিয়ার দুই বছর পড়াশোনা করা উচিত। এখানে স্কাইপে সময় ব্যয় না করে, কোন অজুহাত সৃষ্টির সুযোগ না দিয়ে তার পড়াশোনা করা উচিত। তার মেয়েটার যেহেতু পড়াশোনা শেষ হয়ে গেছে তাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। দেশে এসে বিএনপির নেতা হিসেবে নয়, একজন কর্মী হিসেবে কাজ করা উচিত। স্থায়ী কমিটির সকলের পদত্যাগ করা উচিত। জরুরি কাউন্সিল করে তাদের অস্থায়ী নেতৃত্ব আনা উচিত। যতদিন না খালেদা জিয়ার জামিন হবে। খালেদা জিয়ার মুক্তির পরে বড় কাউন্সিল করে তাদের নেতৃত্ব স্থির করা উচিত।

বিডি২৪লাইভ: ভারতের এনআরসি তালিকায় যারা বাদ পড়েছে, বলা হচ্ছে এর অধিকাংশই বাংলাদেশী। তাদেরকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এজন্য বাংলাদেশের কি ভূমিকা নেওয়া উচিত?
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী: এটা নিয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ও বিভিন্ন শহরে তুমুল আন্দোলন চলছে, আগুন জ্বলছে। এটা একটা অন্যায় ধর্মান্ধদের কাজ। অথচ বাংলাদেশ সরকারই সেই নরেন্দ্র মোদিকে শেখ মুজিবুর রহমানের শতবর্ষ জন্মবার্ষিকীতে প্রধান অতিথি রাখছে। বঙ্গবন্ধু অন্তত পক্ষে একজন অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তি ছিলেন। তার অন্যান্য সমালোচনা করা যাবে কিন্তু শেখ মুজিব রহমান যে অসাম্প্রদায়িক ছিলেন এই সম্পর্কে কারও দ্বিমত নেই। তার জন্মের শতবার্ষিকীতে একজন ধর্মান্ধ ব্যাক্তিকে প্রধান বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ করা হয়েছে, এটা লজ্জাজনক ঘটনা। আজকে এই এনআরসি বাংলাদেশের জন্য ভয়ানক। অথচ বাংলাদেশ সরকার বলছে, এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় কিন্তু এটা তাদের অভন্তরীণ ব্যাপার নয়। এটা বাংলাদেশের জন্য একটা ভয়ানক বিপদের সংকেত। এটা নিয়ে আমরা চুপ করে বসে থাকতে পারি না।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: