বিশ্বজুড়ে ১৮৮৯১ জনের প্রাণ কেড়ে নিল করোনা

   
প্রকাশিত: ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ, ২৫ মার্চ ২০২০

মহামারি করোনাভাইরাসে বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল পর্যন্ত একদিনে ২ হাজার ৩৬৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ফলে বিশ্বজুড়ে ১৮ হাজার ৮৯১ জনের প্রাণ কেড়ে নিল করোনাভাইরাস। এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ৬১৩। এছাড়া চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৮ হাজার ৮৭৯ জন। এখন পর্যন্ত ১৯৭টি দেশ ও অঞ্চলে করোনার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা চীনে। দেশটিতে নতুন করে আরও ৪৭ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ২১৮। অপরদিকে করোনায় আকান্ত হয়ে মারা গেছে ৩ হাজার ২৮১ জন।

বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ইতালিতে। দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৪৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। ফলে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ৬ হাজার ৮২০ জন। নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৫ হাজার ২৪৯ জন। ফলে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬৯ হাজার ১৭৬। ইউরোপের দেশটিতে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮ হাজার ৩২৬ জন। চলমান সংকটময় পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রেও সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবকে ‘মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে ডব্লিউএইচও। তাছাড়া ইউরোপকে প্রাণঘাতী ভাইরাসটির কেন্দ্রস্থল বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি। চীনের চেয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোতে প্রতিদিন করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুহার বাড়তে থাকায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রস অ্যাডানম গেব্রিয়াসিস ঘোষণাটি দেন।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, শুধু চীনের মূল ভূখণ্ডেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ২৮১ জনের। অন্যদিকে ইতালিতে এক দিনেই ৭৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে করোনা ভাইরাসে দেশটির মোট মৃতের সংখ্যা ৬ হাজার ৮২০ জনে দাঁড়িয়েছে। সর্বোচ্চ মৃত্যুর তালিকায় এরই মধ্যে করোনার উৎসস্থল চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে দেশটি। তাছাড়া ইতালিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যাও এরই মধ্যে ৬৯ হাজার ১৭৬ জন ছাড়িয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির সরকার। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে এখন পর্যন্ত ২৪ হাজার ৮১১ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তাছাড়া মারা গেছেন ১ হাজার ৯৩৪ জন।

এ দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪ হাজার ৮০৮ জন, আর প্রাণ গেছে ৭৭৫ জনের। স্পেনে আক্রান্ত ৪২ হাজার ৫৮ জনের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৯৯১ জনের। সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ৯ হাজার ৮৭৭ এবং মারা গেছেন ১২২ জন। যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত ৮ হাজার ৭৭ ও মৃতের সংখ্যা ৪২২। তাছাড়া ফ্রান্স, জার্মানি ও জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক লোক প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অপরদিকে প্রথমবারের মতো মৃত্যুর মিছিলে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ৩৯ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পাশাপাশি প্রাণ গেছে ছয়জনের। তাছাড়া কোয়ারেন্টিনে আছেন আরও অনেকে। যাদের মধ্যে অধিকাংশই বিদেশফেরত।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাস মানুষ ও প্রাণীদের ফুসফুসে সংক্রমণ করতে পারে। ভাইরাসজনিত ঠান্ডা বা ফ্লুর মতো হাঁচি-কাশির মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস। ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হওয়ার প্রধান লক্ষণগুলো হলো- শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া ইত্যাদি। তাছাড়া শরীরের এক বা একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিষ্ক্রিয় হয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে। বর্তমানে সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো ভাইরাসটি নতুন হওয়ায় এখনো কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। ভাইরাসটির সংক্রমণ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় সংক্রমিত ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকা। তাই মানুষের শরীরে এমন উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চীনা বিজ্ঞানীরা।

আরএএস/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: