প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

হাবিবুর রহমান

কুমিল্লা প্রতিনিধি

বিশ্ববিদ্যালয় টাকা রোজগারের জায়গা নয়: রাষ্ট্রপতি

   
প্রকাশিত: ৮:৩৭ অপরাহ্ণ, ২৭ জানুয়ারি ২০২০

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বিশ্বায়নের এ যুগে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ নিজের মধ্যে জাগিয়ে তুলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাঙ্গন টাকা রোজগারের জায়গা নয়, লোভ লালসা মোহ ত্যাগ করে এখান থেকে প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করতে পারলে একদিন তোমরাই জাতিকে সঠিক পথে এগিয়ে নেবার কান্ডারি হয়ে উঠবে। তোমাদেরকে সকল অন্যায়, অনৈতিক কর্মকান্ড রুখে দিতে হবে। আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের সকল কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। সোমবার (২৭ জানুয়ারী) বিকেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রিয় মাঠে আয়োজিত প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেসিডেন্ট ও চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ তাঁর বক্তৃতায় কুমিল্লাকে ইতিহাস ঐতিহ্যের অগ্রসরমান জেলা উল্লেখ করে বলেন, কুমিল্লা বাংলাদেশের সমৃদ্ধ জনপদ। কুমিল্লার ভৌগোলিক অবস্থান ও এর সুপ্রাচীন ইতিহাস সুশিক্ষার ঐতিহ্যকে বহন করে। এ জেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন অনেক জ্ঞানী ও গুণীজন। যারা তাদের মেধা, মনন ও প্রজ্ঞা দিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবদান রেখেছেন।

এই জনপদে জন্ম নিয়েছেন মহারাজ বীরচন্দ্র মাণিক্য ব াহাদুর, নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণী, ভাষা সৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ও অনুবাদক লায়লা নুর, গীতিকার এবং কণ্ঠ শিল্পী বীর মুক্তিযোদ্ধা আপেল মাহমুদ, সঙ্গীত শিল্পী শচীন দেববর্মনসহ বহু শিক্ষাবিদ ও জ্ঞানী-গুণী। জীবদ্দশায় জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের অনেকটা সময়ই কেটেছে কুমিল্লায়। তাছাড়া কুমিল্লার ময়নামতি যাদঘর, বৌদ্ধবিহার, বিভিন্ন স্থাপত্য, ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি, শাহ সুজা মসজিদ, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), বীরচন্দ্র গণপাঠাগার ও নগর মিলণায়তন, কুমিল্লা ধর্মসাগর, গোমতী নদী ও লালমাই পাহাড়, কুমিল্লার ইতিহাস-ঐতিহ্যকে ধারন করে আজও কালের সাক্ষী হিসেবে দাড়িয়ে আছে। ব্রিটিশ ভারতে গান্ধিজীর অসহযোগ আন্দোলনের সময়কালে ঐতিহাসিক কারণে এ অঞ্চলে খাদি শিল্প দ্রæত বিস্তার ও জনপ্রিয়তা অর্জন করে। উনিশ শতকে ত্রিপুরার ঘোষণ সম্প্রদায়ের হাত ধরে রসমাইয়ের প্রচলন হয়। কুমিল্লার মৃৎ শিল্পের বিভিন্ন পণ্য এখনো বাংলার লোক শিল্পের আবহমান সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক হয়ে আছে।

শিক্ষায় মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৪টি স্বর্ণপদক প্রাপ্তের মধ্যে ১১জনই মেয়ে। ছেলেদেরকে আরও মনোযোগী হতে হবে। মানুষের সময়ের চাহিদা ও জাতির আশা আকাংখার নিরিখে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় গৌরবের সাথে সামনে দিকে এগিয়ে যাবে উল্লেখ করে বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এপর্যন্ত যেসব শিক্ষার্থীরা ডিগ্রি অর্জন করেছে সেই অর্জনকে দেশের কল্যাণে, মানবতার কাজে লাগাতে হবে।

ইয়াবাসহ নানারকম মাদকের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ইয়াবা, ফেন্সিডিল, হেরোইন, মদ, গাজা, বিয়ারসহ নানা রকম মাদক এখন সমাজের আনাচে কানাচেসহ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়েও ঠাঁই পেয়েছে। এসব আসার জন্য দেশের অন্যান্য জেলাতেও যেমন রুট রয়েছে, তেমনি কুমিল্লাতেও রয়েছে। আমি শিক্ষার্থীদের বলবো, তোমরা আমাদের আশা আকাংখা। তোমরা জাতির ভরসা। এসবের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও। তোমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞান অর্জন করো, টাকা রোজগারের চিন্তা করো না।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল্লাহ। ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আ. হ. ম মুস্তফা কামাল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত প্রতি শিক্ষাবর্ষে সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারী স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের মোট ১৩জন শিক্ষার্থীর হাতে প্রেসিডেন্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ প্রেসিডেন্ট ১৪টি স্বর্ণপদক পদক তুলে দেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে আড়াই হাজারের বেশি গ্র্যাজুয়েট অংশ নেয়।

এসএ/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: