বিশ্বে করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬০০ নার্স

   
প্রকাশিত: ৪:৫৬ অপরাহ্ণ, ৪ জুন ২০২০

মাঝে কিছুদিন কমার পর আবারও বেড়েছে করোনাভাইরাসে মৃত্যু। ২৪ ঘণ্টায় প্রাণহানি আবারও পাঁচ হাজার ছুঁয়েছে। নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এক লাখ ২১ হাজার। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে কোভিড নাইনটিনে মৃতের সংখ্যা তিন লাখ ৮৮ হাজার ছাড়ালো। মোট আক্রান্ত ৬৫ লাখ ৬৬ হাজারের মতো। এছাড়া করোনা আক্রান্ত হয়ে বিশ্বজুড়ে মারা গেছে প্রায় ৬ শতাধিক নার্স। এরমধ্যে কেবল গত এক মাসেই প্রাণ গেছে ৩০০ জনের। এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক কাউন্সিল অব নার্স।

পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, সেবা দিতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়েছে সাড়ে ৪ লাখের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী। দ্বিতীয় দফায় মহামারি ছড়ালে নার্স সংকট তীব্র হবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সম্মুখযোদ্ধা নার্সরা। অদৃশ্য জীবাণুর আতঙ্কে যখন আপনজনও পাশে যেতে পারছেন না তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। অথচ তাদের সুরক্ষারই নিশ্চয়তা নেই অনেকক্ষেত্রে। নার্সদের আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসিএন জানায়, সেবা দিতে গিয়ে বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত সাড়ে ৪ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী। এরইমধ্যে প্রাণ গেছে ছয় শতাধিক নার্সের। এ সংখ্যা আরও বেশি বলে আশঙ্কা তাদের। আইসিএন’র প্রধান নির্বাহী হাওয়ার্ড ক্যাটন বলেন, দুই মাস আগে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল মাত্র ১০০। সেটি এখন ৬০০ ছাড়িয়ে। আর এই সংখ্যাটা বেড়েই চলছে। অনেক দেশে সঠিকভাবে নার্সদের সংক্রমণের তথ্য রাখছে না। যে কারণে কিছু দেশের আক্রান্তের হার ৩০ শতাংশ। আবার অন্যদেশে ১ শতাংশের নিচে। সবচেয়ে বেশি নার্সের মৃত্যু হয়েছে গেলো এক মাসে।

৩০ দিনের ব্যবধানে প্রাণ হারিয়েছেন তিন শতাধিক। মহামারি পরিস্থিতিতে লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ার নার্সদের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইসিএন’র প্রধান নির্বাহী হাওয়ার্ড ক্যাটন বলেন, অন্য যেকোন অঞ্চলের চেয়ে লাতিন আমেরিকায় নার্সদের মৃত্যুহার বেড়েই চলছে। এশিয়ার অনেক দেশেও নার্সদের অবস্থাও ভালো নয়। অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর তুলনায় এসব অঞ্চলে সবচেয়ে বাজে সময় পার করছেন নার্সরা। আইসিএন বলছে, এখন পর্যন্ত বেশি সুরক্ষিত সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্যকর্মীরা। আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি আয়ারল্যান্ডে। আইসিএন’র প্রধান নির্বাহী হাওয়ার্ড ক্যাটন বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে বলবো প্রতিটি দেশকে নার্সদের সুরক্ষায় সঠিক পদক্ষেপ নিতে বলুন। না হলে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। ক্লান্তির পরও নার্সদের জোর করে কাজ করানো হচ্ছে। করোনা যদি দ্বিতীয় দফায় আক্রমণ করে তখন তীব্র নার্স সংকট দেখা দেবে। সারা বিশ্বের প্রায় দুই কোটি নার্স জেনেভাভিত্তিক সংগঠন আন্তর্জাতিক কাউন্সিল অব নার্সের নিবন্ধিত সদস্য।

আরএএস/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: