জাহিদুল ইসলাম

কুবি প্রতিনিধি

বুধবার থেকে পুনরায় শুরু কুবির ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি কার্যক্রম

   
প্রকাশিত: ৮:৪৩ অপরাহ্ণ, ৩ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্মাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেই মেধাতালিকায় ১২তম হওয়ার ঘটনাটি অন্য এক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর ভুল করে উত্তরপত্রে নিজের রোল নম্বরের একটি সংখ্যা ভুল ভরাট করায় এ ঘটনা ঘটেছে। গত ৩০ নভেম্বর গঠিত তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এছাড়া স্থগিত হওয়া ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি কার্যক্রম ০৪ ডিসেম্বর (বৃধবার) থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম যথারীতি চলবে। মঙ্গলবার (০৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

এদিকে তদন্ত প্রতিবেদনে ‘বি’ ইউনিট কমিটির কোন রকম জালিয়াতি তদন্ত কমিটির দৃষ্টিগোচর হয়নি। পরীক্ষার্থী ও কক্ষ পরিদর্শকের ভুলেই গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘বি’ ইউনিটের ফলাফলে অসামঞ্জস্যটি সংঘঠিত হয় বলে তদন্ত কমিটি নিশ্চিত হয় বলে জানান তারা।

জানা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মাতক প্রথম বর্ষের ‘বি’ ইউনিটের ২০৬০৫০ রোলধারী সাজ্জাতুল ইসলাম ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করলেও প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায় তিনি ১২তম হয়েছেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি মো: সাজ্জাতুল ইসলামের রেজাল্ট পর্যালোচনা করে।

এ ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ‘বি’ ইউনিট সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে এবং তদন্ত প্রতিবেদনসূত্রে জানা যায়, প্রকাশিত ফলাফলে ১২তম হওয়া সাজ্জাতুল ইসলামের রোল ছিল ২০৬০৫০। কেন্দ্র ছিলো কোটবাড়ির টিচার্স ট্রেনিং কলেজের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলার ৫নং কক্ষ। কিন্তু ঐ কক্ষে পরীক্ষার্থীর উপস্থিতির স্বাক্ষর তালিকায় তার স্বাক্ষর ছিলোনা। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় এই রোল নম্বরের উত্তরপত্র পাওয়া যায় এবং ও.এম.আর. মেশিনের মাধ্যমে এ উত্তরপত্র মূল্যায়িত হয় এবং ফলাফল তৈরী হয়।

ফলাফল তৈরী হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিটের প্রবেশ পত্র যাচাই-বাছাই কমিটি মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর প্রবেশ পত্রের কপি যাচাই বাছাই করে। এসময় সাজ্জাতুল ইসলামের প্রবেশ পত্রও পাওয়া যায়নি। ফলাফলের পর তিনি মৌখিক সাক্ষাৎকারেও অংশগ্রহণ করতে আসেননি।

পরবর্তীতে এ ঘটনা নিয়ে খোজ নিলে দেখা যায়, ঐ কেন্দ্রের একই ভবনের তৃতীয় তলার ১১ নং কক্ষে পরীক্ষা দেওয়া ২০৬১৫০ রোলধারী মোঃ আলী মোস্তাকিন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও তার রোলের উত্তরপত্র নেই। পরে দেখা যায়, ২০৬১৫০ রোলধারী ভর্তিচ্ছু মো: আলী মোস্তাকিন উত্তরপত্রে রোল নম্বর লেখার নির্ধারিত স্থানে সঠিক রোল লেখলেও বৃত্ত ভরাটের স্থানে ‘১’ এর স্থলে ‘০’ ভরাট করেন। ঐ কক্ষের দায়িত্বে থাকা পরিদর্শকের অসর্তকতায় বিষয়টি ধরা না পড়ায় উত্তরপত্রটি ভুলভাবেই মূল্যায়িত হয়। যার ফলে ২০৬১৫০ রোলধারী ভর্তিচ্ছু মো: আলী মোস্তাকিন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও তিনি রোল নম্বর ভুল লেখায় মেধাতালিকায় স্থান পায়নি। অপরদিকে পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও ২০৬০৫০ রোলধারী সাজ্জাতুল ইসলাম মেধা তালিকায় স্থান পায়।

এ বিষয়ে ২০৬০৫০ রোলধারী সাজ্জাতুল ইসলাম বলেন,‘আমি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিনি। আমি ২৯ ডিসেম্বর পত্রিকায় নিউজ হওয়ার পরে বিষয়টি জানতে পারি। যদিও ভাইবায় অংশগ্রহণের জন্য আমার ফোনে এসএমএস এসেছিল তবে আমি ঐ এসএমএস এ পাত্তা না দিয়েই ডিলেট করে দেই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রর অধ্যাপক ড. আবু তাহের বলেন, বুধবার থেকে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি কার্যক্রম যথারীতি শুরু হবে। ভর্তির সময় ৫ ডিসেম্বর শেষ সময় হলেও যেহেতু তিনদিন বন্ধ ছিল তাই আগামী ১০ তারিখ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারবে।’

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: