প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

এম. সুরুজ্জামান

শেরপুর প্রতিনিধি

বৃদ্ধা বোন-ভগ্নিপতিকে পিটিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিল ছোট ভাই

   
প্রকাশিত: ১২:১২ পূর্বাহ্ণ, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: প্রতিনিধি

শেরপুরে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সহোদর বড় বোন আজিরন নেছা (৬০) এবং বোন জামাই আবুল হাসেমকে (৭০) পিটিয়ে বাড়ি বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় প্রজন্ম-৭১’র সভাপতি এবং একাত্তরের যুদ্ধে নিহত শহীদ আইজউদ্দিনের বড় ছেলে আজিজুর রহমান আজিজের (৫০) বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় আজিজুর রহমান ও তার ছোটবোন হাসিনা ইয়াসমিনকে (৪৭) আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ওই মামলায় গ্রেফতার হয়নি কেউ। আহত অবস্থায় জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আজিজের বোন ও ভগ্নিপতি।

মামলা ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের আন্ধারিয়া বানিয়াপাড়া গ্রামের আজিজুর রহমান দীর্ঘদিন থেকে তাদের পৈত্রিক জমিজমা ভাই-বোনদের মাঝে বন্টন না করে তিনি একাই ভোগ দখল করে আসছিলেন। এ বিষয়ে তার বড় বোন আজিরন নেছা বার বার তাগাদা দিয়ে আসলেও জমির সুরাহা না করে বিতর্কিত ও বিরোধ জমিতে কৌশলে আজিজুর রহমান একটি মাদরাসা এবং একটি মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেন। একই সাথে আজিজ তার বড়বোন ও বোন জামাইকে জামায়াত-শিবিরের লোক বলে দোহাই দিয়ে এলাকাবাসীকে সংগঠিত করাতে ব্যর্থ হয়।

একপর্যায়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে আজিরন ও তার স্বামী আবুল হাসেমকে তাদের বসতভিটা থেকে পিটিয়ে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে এলাকাবাসী তাদেরকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এদিকে ওই ঘটনায় পরদিন সদর থানায় আজিজুর রহমান এবং তার বোন হাসিনা ইয়াসমিনকে আসামি করে একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন বোন আজিরন নেছা। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা সদর হাসপাতালের বেডে চিকিৎসাধীন থাকা আজিরন নেছা ও তার স্বামী অভিযোগ করে বলেন, আজিজ শুধু পৈত্রিক সম্পত্তি থেকেই তাদের বঞ্চিত করেননি। ক্রয়কৃত জায়গায় করা বসতবাড়ি থেকে পিটিয়ে জোরপূর্বক বের করে দিয়ে সেটাও দখল করে নিতে চাচ্ছে। তারা আজিজকে গ্রেফতারসহ ওই ঘটনার বিচার দাবি করেন।

বোন ও বোনজামাইকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রজন্ম-৭১’র সভাপতি আজিজুর রহমান তা পাশ কাটিয়ে বলেন, খোঁজ নেন তারা জামায়াত-শিবিরের লোক। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়ে আমার আশেপাশে জামায়াত-শিবিরের লোক থাকতে দেব না।

এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মারপিটের ঘটনায় প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে থানায় নিয়মিত মামলা নেওয়া হয়েছে। ওই বিষয়ে তদন্ত চলছে।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: