প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

ইয়ানুর রহমান

যশোর প্রতিনিধি

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনের করোনা ভাইরাস নিয়ে এ কেমন পোস্ট

   
প্রকাশিত: ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ভারত থেকে আসা কলকাতা-খুলনাগামী বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনে বাংলাদেশি এক পাসপোর্টযাত্রী ‘করোনাভাইরাসে’ শনাক্ত হয়েছেন- নিজ ফেসবুক পেজে এমন স্ট্যাটাস দেন বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।

‘করোনাভাইরাস’ নিয়ে কোনো ধরনের গুজব ছড়ানোসহ আক্রান্ত ব্যক্তির ছবি কিংবা পরিচয় প্রকাশে বিধিনিষেধ আরোপ থাকলেও একটি দায়িত্বপূর্ণ অবস্থানে থেকে এ ধরনের পোস্ট কীভাবে দেয়া হলো— এ বিষয়ে কাস্টমম কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরীর বক্তব্য, ‘ওটা তো ডিলিট করে দিয়েছি। মূল পোস্ট ডিলিট হয়ে গেছে। মূলত সচেতনতা বাড়াতে এমন পোস্ট দেয়া।’

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বেনাপোল কাস্টমম কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী তার ফেসবুকে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, ‘করোনাভাইরাসে’ আক্রান্ত বাংলাদেশি এক পাসপোর্টযাত্রী বেনাপোল রেলস্টেশনে শনাক্ত হয়েছেন।’ তাৎক্ষণিক কাস্টমসের সহকারী কমিশনার উত্তম চাকমা ও আকরাম হোসেন বিষয়টি যশোর সিভিল সার্জন অফিস ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে অবহিত করেন।

‘করোনাভাইরাসের’ গুজব ওঠা ওই পাসপোর্টযাত্রীকে হেফাজতে নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় বেনাপোল ও শার্শার মেডিকেল টিম পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়। পর তার শরীরে করোনাভাইরাসের কোনো লক্ষণ পাওয়া না যাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু ফেসবুকে পোস্ট দেয়ায় ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক আজিম উদ্দিন বলেন, ‘এ ধরনের সংবাদে আমরা দুজনকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করি। তাদের শরীরে এ ধরনের কোনো ভাইরাসের সিমটম পাওয়া যায়নি। এরপর আমরা ঢাকায় উচ্চপর্যায় কথা বলে তাদের ছেড়ে দেই।’ ওই দুজন ব্যবসায়ী। তারা চীনের সঙ্গে ব্যবসা করে। প্রায় ২৫ দিন আগে তারা চীন থেকে বাংলাদেশে আসে।

কিন্তু নিশ্চিত না হয়েই বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী ফেসবুকে ‘করোনাভাইরাসে’র বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং তাদের পরিচয়ও জানান। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, “ভারত থেকে আসা ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ থেকে একজন ‘করোনাভাইরাসে’র রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। কাস্টমস কর্মকর্তারা রেলের নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে একজন বিশ্বস্ত সূত্রে গোপন সংবাদ পায় এবং রোগীকে শনাক্ত করে। তাৎক্ষণিক এসি উত্তম চাকমা ও আকরাম হোসেন বিষয়টি যশোর সিভিল সার্জন অফিস ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে জানায় এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোরও নজরে আনে! শনাক্তকৃত রোগীর নাম….। বাড়ি…। তিনি চীন থেকে ভারতে আসেন! ভারতীয়রা বিষয়টি সম্ভবত বুঝতে পেরে তাকে টিকিট ছাড়াই ট্রেনে তুলে দেন। তিনিও আত্মগোপন করেছিলেন।”

স্ট্যাটাসে আরও উল্লেখ করা হয়, বিস্ময়কর হলেও বেনাপোল কাস্টম হাউস কর্মকর্তাদের তৎপরতায় এ অঞ্চলে প্রথম ‘করোনাভাইরাস রোগী দেশে ঢোকার আগেই ধরা পড়ে।’

ওই দিন দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে কাস্টমস কমিশনার দুঃখ প্রকাশ করে ফের ফেসবুক স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, “চিকিৎসকের পরীক্ষায় তাকে ‘করোনাভাইরাস’মুক্ত বলা হয়েছে। আমরা নিজেদের দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করি। ভারতীয় রেল গার্ড মেনিফেস্ট দিতে গিয়ে বেনাপোল কাস্টম টিমের রাজস্ব কর্মকর্তাকে (আরও) বলেন, ‘ট্রেনে ৬৫ জন যাত্রী, একজন অনুপস্থিত ও একজন করোনা রোগী আছে’! তাৎক্ষণিক চেকপোস্টের ডা. আজিমউদ্দিন আসেন এবং তার পাসপোর্ট দেখে তাকে সম্ভাব্য রোগী হিসেবে আলাদা করেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করেন।”

‘গার্ডের বক্তব্য, ডাক্তারের করোনা সন্দেহযুক্ত যাত্রী খুঁজে পাওয়া ও যাত্রীর ভাবভঙ্গি থেকে তাকে আমাদের টিম সন্দেহবশত করোনা রোগী বলেছে। এ বিষয়ে কোনো সংশয় তৈরি হলে আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত!’

করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব ছড়ানো প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘সবাই সতর্ক থাকুন, সচেতন থাকুন, নিরাপদে থাকুন। আমরা সচেতনতার জন্য পোস্ট দেই। সংশয়ের জন্য নয়। দয়া করে কেউ আতঙ্ক ছড়াবেন না। কাস্টম চেকপোস্টে সচেতনতার জন্য আমরা গত ২৯ জানুয়ারি করোনা সচেতনতা সেমিনার করি। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের প্রদর্শিত নির্দেশনালোকে কাস্টম টিম দায়িত্বের অংশ হিসেবে রোগী আলাদা করে স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে হস্তান্তর করেন।’

এ প্রসঙ্গে বেনাপোল রেলস্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান বলেন, “স্টেশনে এ ধরনের এক রোগীর ব্যাপারে কাস্টম কর্তৃপক্ষ ‘করোনাভাইরাস’ আক্রান্ত রোগী বলে সন্দেহ করেছিল। পরে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কোনো কিছু পাওয়া যায়নি। তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এটা একটি নিছক গুজব।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: