বেরিয়ে এলো সাবেক ডিসির কীর্তি

   
প্রকাশিত: ১০:১২ পূর্বাহ্ণ, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আশরাফুল হক: পদস্থ এক কর্মকর্তা টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক (ডিসি) থাকাকালে অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়েছিলেন বলে সরাসরি এক তদন্তে ধরা পড়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক ও টাঙ্গাইলের সাবেক জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন তদন্তাধীন বিষয় দেখিয়ে দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানের কোনো জবাব দেননি। তবে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত জবাবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

ঘটনার শুরু হয়েছিল একটি উড়ো চিঠিকে কেন্দ্র করে। নাম-ঠিকানাবিহীন জনৈক ইকরামুল কবীরের তোলা নানা অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। চিঠিতে বলা হয়, জেলা প্রশাসনের কর্মচারীর চিকিৎসার টাকা আত্মসাতের পাশাপাশি ডিসি ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা বিতরণে, আসবাবপত্র কেনাকাটায়, টেন্ডারে, দোকান বরাদ্দে, সরকারি দিবস পালনে বরাদ্দ টাকা খরচে, হাট-বাজার ইজারায়, মসজিদ নির্মাণে, নদী থেকে বালু উত্তোলনে, প্রশিক্ষণে, কর্মচারীদের বদলিতে, মেলা আয়োজনের মাধ্যমে এবং ইটভাটায় অনিয়ম করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। দুর্নীতির চূড়ান্ত প্রমাণ মিললে সর্বোচ্চ সাজা চাকরিচ্যুত হতে পারেন ওই কর্মকর্তা।

অভিযোগগুলো তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার কে এম তারিকুল ইসলামকে। তিনি গত ২৮ মে তদন্ত প্রতিবেদন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে জমা দেন। সেখান থেকে পাঠানো হয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে। তদন্তে চারটি অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। বাকিগুলোর বেশিরভাগই অভিযোগকারীকে খুঁজে না পাওয়ার কারণে প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছেন তিনি। আর কিছু অভিযোগ মনগড়া বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

খান মো. নুরুল আমিন ২০১৭ সালের ১১ মে থেকে ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৬ মাস টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন। যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার এ কর্মকর্তা বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক পদে কর্মরত। গত ৮ জুলাই তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধিকে জানান, সরকারের একজন কর্মচারী হিসেবে তদন্তাধীন বিষয়ে কথা বলা সমীচীন নয়। আমার যা বলার তা আমি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে বলেছি।

অভিযোগ ছিল টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের কর্মচারী ক্যানসারে আক্রান্ত আবদুর রহিমের নাম করে বিভিন্ন সরকারি অফিসের কর্মচারীদের এক দিনের বেতন চাঁদা হিসেবে নিয়ে ২৫ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। রহিমকে চিকিৎসার জন্য দেড় লাখ টাকা দিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

তদন্তে জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের এলএ শাখার কর্মচারী আবদুর রহিম মরণঘাতী ক্যানসারে আক্রান্ত। সহকর্মীকে ক্যানসার থেকে মুক্ত করার জন্য সাধারণ প্রশাসনের কর্মচারীরা ১ লাখ টাকা চাঁদা দেন। রাজস্ব প্রশাসনের কর্মচারীরা চাঁদা তোলেন আরও ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা। মোট ২ লাখ ২৩ হাজার টাকার পুরোটাই তুলে দেওয়া হয় ডিসির হাতে। ডিসি তার স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে আরও ২ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। কিন্তু তিনি ক্যানসার আক্রান্ত আবদুর রহিমের হাতে তুলে দেন ৩ লাখ টাকা। তদন্ত কর্মকর্তার সামনে উপস্থিত হয়ে অসুস্থ আবদুর রহিম জানিয়েছেন, বাকি ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা তিনি পাননি।

তদন্তকারী কর্মকর্তা তার প্রতিবেদনে বলেছেন, ‘অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।’ লিখিত জবাবে ডিসি বলেছেন, আবদুর রহিম তার বাংলোতেই কাজ করত। সে অত্যন্ত অনুগত, বিনয়ী ও সৎ। তার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

আরেক অভিযোগে বলা হয়, ডিসি লেকের টিকিট বিক্রির ৪০ লাখ টাকা নির্ধারিত ব্যাংকে না রেখে ডিসি নিজের হাতে রাখতেন। এসব খরচের কোনো হিসাব নেই।

তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, টাঙ্গাইলে ডিসি লেক একটি পর্যটন স্পট। প্রতিদিন দর্শনার্থীরা ১০ টাকা দামের টিকিট কেটে লেকে প্রবেশ করেন। সোনালী ব্যাংকের কোর্ট বিল্ডিং শাখার সঞ্চয়ী হিসাবে এ টাকা জমা হয়। ডিসি অফিসের নাজির প্রতিদিনের আয়-ব্যয়ের হিসাব সংগ্রহ করে সপ্তাহ শেষে ডিসি লেকের অ্যাকাউন্টে জমা করেন। জমা সিøপ আরডিসি, এনডিসি ও এডিসি হয়ে ডিসির কাছে দাখিল করা হয়। রেজিস্ট্রারে ক্যাশ-বুকের আদলে আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখা হয়। ডিসি খান মো. নুরুল আমিন যোগদানের পর তিনি নিজের কাছে চেক বই সংরক্ষণ করতেন। ২০১৭ সালের ২১ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত আয়ের ৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৯৭ টাকা ডিসি একই মাসের ৩০ তারিখে নগদ বুঝে নিলেও পরে তিনি তা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করেননি। একইভাবে ২০১৭ সালের ২ থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত আয়ের ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩১৬ টাকাও পরবর্তী সময়ে আর ব্যাংকে জমা করা হয়নি। একই বছরের ১ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ১১ লাখ ২৪ হাজার ৪৭৭ টাকার আয়-ব্যায়ের হিসাব দেখানো হলেও তা সংগতিপূর্ণ নয়। ওই বছরের ১২ অক্টোবর ডিসি লেকের অ্যাকাউন্ট থেকে ৫০ হাজার টাকা ওঠানো হলেও কী কারণে ওঠানো হয়েছে তার কোনো বিবরণ নেই। একইভাবে ২০১৮ সালের ১৯ মার্চ ডিসি লেকের অ্যাকাউন্ট থেকে ১ লাখ টাকা ডিসির স্বাক্ষরে তোলা হলেও তার কোনো বিবরণ রেজিস্টার বা নথিতে নেই।

তদন্তকারী কর্মকর্তা তার প্রতিবেদনে বলেছেন, ‘কাজেই ডিসি লেকের টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।’ ডিসি তার জবাবে জানান, টিকিট বিক্রির টাকা ব্যাংকে না রেখে নিজের হাতে রাখার কোনো সুযোগ নেই। স্বার্থান্বেষী দুয়েকজন কর্মচারী যারা আমার যোগদানের আগে ডিসি লেকের নির্মাণকাজ ও টিকিট বিক্রির অর্থ নয়-ছয় করেছিল আমার যোগদানের পর তাদের সে সুযোগ না দেওয়ায় এবং অন্যত্র বদলি করায় সংক্ষুব্ধ হয়ে এ ধরনের মনগড়া ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছে।

জনৈক ইকরামুল কবীরের ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া ২৮ লাখ টাকা দিয়ে ১০টি ছাতা বানাতে ৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বাকি টাকা লোপাট হয়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, ট্যুরিজম বোর্ড ২০১৭ সালে ডিসি লেকের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ২৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। এ টাকা দিয়ে ২৫টি বসার বেঞ্চ এবং ১০টি দর্শনীয় গোলঘর স্থাপন করার কথা। এই কাজের টেন্ডার ডকুমেন্ট পিপিআর ২০০৮ অনুযায়ী হয়নি। ক্ষতিপূরণের সময় এক বছরের পরিবর্তে এক মাস চাওয়া হয়েছে। দরদাতার একই ধরনের কাজের অভিজ্ঞতা, সাধারণ অভিজ্ঞতা, ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট বা ট্যাক্স সার্টিফিকেট চাওয়া হয়নি। পিপিআরের সংশ্লিষ্ট বিধি লঙ্ঘন করে সীমিত ক্রয় (এলটিএম) পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। ক্রয় শর্ত শিথিল করে সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ দরদাতাকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১০টি ছাতা নির্মাণ করা হয়েছে এবং ছাতার নিচে ৩০টি বসার বেঞ্চ করা হয়েছে। বরাদ্দ পত্রে নির্মাণ করার কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো গোলঘর নির্মাণ করা হয়নি।

তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রতিবেদনে। সরকারের নিয়মনীতি অনুসরণ করেই টেন্ডার করার কথা জানিয়েছেন ডিসি।

আরেকটি অভিযোগ হলো, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সার্কিট হাউজের আসবাবপত্র কেনা ও মেরামত খাতে পাওয়া বরাদ্দ দিয়ে কোনো কিছু কেনা হয়নি। ভুয়া বিল দাখিলের মাধ্যমে তিনি সে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ওই অর্থবছরে সংশ্লিষ্ট খাতে মোট ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। এ বরাদ্দ দিয়ে আসবাবপত্র কেনা খাতে আলমিরা, সোফা, ড্রেসিংটেবিল বাবদ ৮ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কোনো আসবাবপত্র কেনা হয়নি। এছাড়া সাধারণ প্রতিষ্ঠানে আসবাবপত্র ক্রয় ও মেরামত খাতে আরও ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৩ লাখ টাকার আসবাবপত্র কেনা হয়। বাকি টাকার বিল ভাউচার দেখানো হলেও কেনা হয়নি। অর্থাৎ এ অভিযোগেরও সত্যতা পেয়েছেন তদন্তকারী। ডিসি জানিয়েছেন, বিধিমালা অনুযায়ী খরচ করা হয়েছে। তার কর্মকালের আর্থিক ব্যয় নির্বাহের বিষয়ে যেকোনো অডিট আপত্তি মোকাবিলায় তিনি প্রস্তুত। অভিযোগটি অনেকটা আদার ব্যাপারীর জাহাজের খবর রাখার মতো বলে ডিসি মন্তব্য করেছেন।

বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক ও বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভর্তির ক্ষেত্রেও টাকা গ্রহণের মাধ্যমে অযোগ্য ছাত্রছাত্রীদের ভর্তির সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ডিসি তিনজন শিক্ষার্থীর অভিভাবকের কাছ থেকে জনপ্রতি দেড় লাখ টাকা হিসেবে মোট সাড়ে ৪ লাখ টাকা একজন কর্মচারীর মাধ্যমে ঘুষ নিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভর্তির সুযোগ করে দিয়েছেন।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তিসংক্রান্ত জেলা কমিটির ২০১৮ সালের ২৯ মে তারিখের সভার কার্যবিবরণী পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নয়জন শিক্ষার্থীকে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়। নীতিমালা অনুযায়ী সুযোগপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তান হতে হবে। কিন্তু নয়জনের মধ্যে তিন শিক্ষার্থী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তান নয়। অন্যান্য শিক্ষার্থী যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তান তা মন্তব্যে সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকলেও এ তিন শিক্ষার্থীর মন্তব্যে তাদের অভিভাবকের কোনো পরিচয় নেই।

তদন্তকারী তার প্রতিবেদনে বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর কোটায় বেসরকারি ব্যক্তির সন্তানদের ভর্তির সুযোগ দেওয়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা রয়েছে। তবে বিনিময়ে টাকা গ্রহণের তথ্য পাওয়া যায়নি।

ডিসি জানিয়েছেন, স্থানীয় অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং কালেক্টরেটের অনেক কর্মচারী অবৈধভাবে তাদের সন্তান ও আত্মীয়কে ভর্তিও জন্য চাপ দিতেন। তাদের চাপের কাছে নতিস্বীকার না করায় কোনো দুষ্টু লোক বা কর্মচারী এ ধরনের মনগড়া ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন।

উড়ো চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, টাঙ্গাইলে বদলি হওয়ার আগে খান মো. নুরুল আমিন কুড়িগ্রামের ডিসি ছিলেন। সেখান থেকে বদলি হয়ে আসার সময় তার অত্যন্ত বিশ্বস্ত সার্ভেয়ার শহীদুল ইসলামকেও বদলি করে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে আসেন এবং তার সহায়তায় ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা বিতরণের সময় দুর্নীতি করেছেন। এছাড়া জেলা সদরে ৩ নম্বর লেকের পূর্বপাড় বরাদ্দ দিয়ে হকারদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ডিসি লেকের হাসপাতালের গেটে দোকান বরাদ্দ দিয়ে তিনি ৪০ লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন। হাট-বাজারের দোকান বরাদ্দ দিয়ে, প্রশিক্ষণ, বিজ্ঞান মেলা ও ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা আয়োজন করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া কর্মচারীদের বদলি করে, বিভিন্ন দিবস আয়োজনের নামে চাঁদা আদায়, এসএমই মেলা আয়োজনের মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ, জেলার বিভিন্ন উপজেলার ইটভাটাগুলো থেকে মাসোয়ারা গ্রহণ, বিআরটিএ ও পাসপোর্ট অফিস থেকে ঘুষ গ্রহণ এবং স্কাউটিং জেলা তৈরির নামে চাঁদা সংগ্রহ করার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা পাননি তদন্তকারী কর্মকর্তা।

তদন্তকারী কর্মকর্তা কে এম তারিকুল ইসলাম তদন্ত প্রতিবেদনে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, খান মো. নুরুল আমিন টাঙ্গাইল জেলায় মোট ১৬ মাস ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি তার প্রতি অনুগত কর্মচারীদের দিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কাজ করিয়ে নিয়েছেন। এতে কাজের দায়িত্ব প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত কোনো কোনো কর্মচারী ক্রোধান্বিত হয়ে অভিযোগগুলো এনেছেন বলে মনে হয়। কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন জেলা প্রশাসকের নথিতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তার সুনির্দিষ্ট তথ্য বহিরাগত কারও পক্ষে জানা সম্ভব না। জেলা প্রশাসকের বিরাগভাজন কোনো কর্মচারী তথ্যগুলো সংরক্ষণ করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন।

জনপ্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা উড়ো চিঠি তদন্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একসময় সব উড়ো চিঠি তদন্তের বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু এতে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী হয়রানির শিকার হতেন এবং প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো। এই অবস্থায় বেনামি দরখাস্তের ওপর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে নতুন করে পরিপত্র জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়, বেনামি দরখাস্তে যদি সুনির্দিষ্ট বিষয় বা ঘটনা, ঘটনার সময়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ থাকে তাহলে এ ধরনের অভিযোগ তদন্তযোগ্য। ১৯৯৩ সালের এ আদেশ এখনো বাতিল করা হয়নি বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ হলে তার কী ধরনের শাস্তি হতে পারে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালায় মামলা হতে পারে। এটা নির্ভর করে কর্তৃপক্ষের ওপর।

১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো কর্মচারী অসদাচরণের জন্য দোষী হলে বা দুর্নীতিপরায়ণ হলে গুরুদ- হিসেবে চাকরি হতে অপসারিত হতে পারেন। লঘুদ- হলে তিরস্কার, বেতন স্কেলের নিম্ন ধাপে নামিয়ে দেওয়ার শাস্তি পেতে পারেন।

ফিরোজ মিয়া জানিয়েছেন, তদন্তকারী কর্মকর্তার দক্ষতার অভাবে বেশিরভাগ অভিযোগ প্রমাণ হয় না। রাজনৈতিক প্রভাব অন্যতম আরও একটি কারণ। এর সঙ্গে রয়েছে তদন্তকারীর ইচ্ছার অভাব। সূত্র: দেশরুপান্তর।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: