প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

বৈঠকে আল্লামা শফীসহ শিক্ষকরা আটকা, বেপরোয়া ভাঙচুর

   
প্রকাশিত: ৫:১৬ অপরাহ্ণ, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফের আন্দোলনে নেমেছেন চট্টগ্রামের জামিয়া আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী বড় মাদ্রাসার ছাত্ররা। দুই মাসের জন্য মাদ্রাসা বন্ধের ‘গুজব’ ওঠার পরপরই মাদ্রাসার ভেতরে থাকা হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। এ সময় তারা ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তাদের হামলা থেকে এবার বাদ যায়নি হেফাজত আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কক্ষও। বর্তমানে কয়েকজন শিক্ষককে নিয়ে আহমদ শফি তার কক্ষে অবরুদ্ধ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে মাদ্রাসার মাঠে পুনরায় অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা মাদ্রাসার প্রধান ফটক বন্ধ করে আল্লামা শফিসহ মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষকদের কক্ষে হামলা চালায়।

যদিও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শফীর ছেলে আনাস মাদানীকে হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষক পদ থেকে সরিয়ে দিলে সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। কিন্তু আনাস মাদানীকে সরিয়ে দিলেও তারা এ ঘোষণার কয়েক ঘন্টার মাথায় আবারো বিক্ষোভ শুরু করে।

হাটহাজারী মাদ্রাসার অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে দাবি করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার শিক্ষকদের কক্ষে ভাঙচুরের পাশাপাশি আন্দোলনকারীরা লুটপাট চালিয়েছে। ওই পেইজের এক পোস্টে বলে হয়েছে, ‘জামেয়ার সকল সিনিয়র শিক্ষকদের রুমের দরজা ভেঙ্গে লুটপাটসহ জামেয়ার মুহতারাম শিক্ষকদের উপর হামলা করা হচ্ছে।’

ইতোমধ্যে শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী, আল্লামা শেখ আহমদ, আল্লামা আহমদ দীদার কাসেমী, মুফতি জসীম উদ্দিন, মাওলানা ওমর, মাওলনা আনাস মাদানী, মাওলানা নুরুল ইসলাম জাদীদ, মাওলানা ওসমান, মুফতি আবু সাঈদ, মাওলানা আজিজ তকী, মাওলানা ইসহাক, মাওলানা তরীক, মাওলানা বশিরের কক্ষে হামলার দাবি করা হয়েছে ফেসবুক পেইজটিতে।

এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার মজলিশে শুরার বৈঠক করে ছাত্রদের ৬ দফা দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হলেও বৃহস্পতিবার ভোরে আল্লামা আহমদ শফি শিক্ষকদের ডেকে দুই মাসের জন্য মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এ ঘোষণার প্রতিবাদে নতুন করে আন্দোলনে নেমেছে তারা।

এ বিষয়ে আল্লামা আহমদ শফীর অনুসারীদের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে সার্বিক বিষয় নিয়ে শিক্ষক ও কর্মচারীদের নিয়ে বৈঠকে বসার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন আহমদ শফি। তবে মাদ্রাসা বন্ধের বিষয়ে কোন ধরনের সিদ্ধান্ত তিনি দেননি। বৈঠক ডাকার খবর শুনেই অতর্কিত হামলা শুরু করে আন্দোলনকারীরা। তাদের হামলায় আহত হয়েছেন শিক্ষক ও কর্মচারীরা। এখন পর্যন্ত আল্লামা আহমদ শফিও নিজ কক্ষে অবরুদ্ধ রয়েছেন।

এদিকে খবর পেয়ে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন, পুলিশ, র‌্যাব, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও মাদ্রাসার সব গেইট বন্ধ থাকায় তারা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি।

এআইআর/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: