আরমান হোসেন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লেনদেন তথ্য জানতে নতুন কৌশলে এনবিআর

   
প্রকাশিত: ১২:৫৯ অপরাহ্ণ, ২৫ জানুয়ারি ২০২০

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লেনদেন তথ্য জানতে নতুন কৌঁশল নিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস বা ইএফডি মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানা যাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক লেনদেন তথ্য। সূত্র জানায়, শুরুতে ১০০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্থাপন করা হবে এ যন্ত্র। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকার গুলশান, বনানী, বেইলী রোড এবং চট্টগ্রামের বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তবে, পুরান ঢাকার শত শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যন্ত্র স্থাপনে জোর দিচ্ছে এনবিআর।

এক লাখ ইএফডি যন্ত্র আমদানির অনুমোদন দেওয়া হলেও দেশে এসেছে মাত্র ১০ হাজার যন্ত্র, যা পাইলট কার্যক্রমের আওতায় ১০০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিকভাবে স্থাপন করবে এনবিআর। এতদিন প্যাকেজ ভ্যাটের আওতায় ছিল পুরান ঢাকায় শত শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ভ্যাট আইন কার্যকরের পর প্যাকেজ ভ্যাট প্রথা বাতিল হয়েছে। যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ৫০ লাখ টাকার বেশি লেনদেন হয়, সেই প্রতিষ্ঠানগুলো খুঁজে বের করে সেখানে এ যন্ত্র বসোনো হবে। ভ্যাট আইন কার্যকরের ক্ষেত্রে পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইএফডি যন্ত্র স্থাপনে জোর দেওয়া হচ্ছে। এনবিআর সূত্র জানায়, পুরান ঢাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সমীক্ষা করা হচ্ছে। বারবার সময় পরিবর্তন করে এখন ফেব্রুয়ারি মাসে স্থাপন হবে।

এনবিআর সূত্র জানায়, চীন থেকে আনা হচ্ছে ইএফডি যন্ত্রগুলো। গেল বছরের ডিসেম্বর বা চলতি জানুয়ারিতে স্থাপন করার কথা ছিল। কারণ, যন্ত্র আসার পর তাতে সংযোগ স্থাপনের জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। যন্ত্রগুলো প্রথমে চালু করা হবে বড় মার্কেট দিয়ে। যেমন যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা সিটি, বড় স্বর্ণের দোকান, বিউটি পার্লার, ওষুধের মার্কেটসহ বিভিন্ন বিপণিবিতানে। যন্ত্রগুলো ভালো কাজ করলে পরের চালানে বড় সংখ্যাক যন্ত্র আনা হবে।

চলতি বছরের জুন নাগাদ এক লাখ ইএফডি যন্ত্র স্থাপন করা যাবে। দুই লাখ যন্ত্র কেনার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার নেওয়া হচ্ছে। অনলাইন ভ্যাট কার্যক্রমের প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, ইএফডি যন্ত্রের হার্ডওয়্যার সংযোজনের কাজ চলছে। দোকানের সঙ্গে মূল সার্ভারে যুক্ত হয়ে লেনদেন তথ্য পাবে এনবিআর। তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে যেসব প্রতিষ্ঠানে ইএফডি স্থাপন করা হবে, তা পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে। কারণ, তথ্য যদি কারসাজি করা হয় তাহলে তো যন্ত্র বসিয়ে কোনো লাভ হবে না।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইএফডি যন্ত্রটা পরীক্ষামূলকভাবে দিয়ে কাজটি শুরু করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এনবিআর প্রস্তুত ছিল না। প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার যন্ত্র আসছে; যেখানে ৭৫ হাজার কোটি টাকা ভ্যাট থেকে আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে, সেখানে এই সামান্য যন্ত্র দিয়ে কি হবে। এনবিআর বলছে, প্রথম পর্যায়ে পাইলট কার্যক্রমের আওতায় যেসব যন্ত্র স্থাপন করা হচ্ছে তার কোনো মূল্য নেওয়া হবে না। বিনা অর্থে যন্ত্রগুলো স্থাপন করা হবে। অনলাইনে এ পর্যন্ত নিবন্ধনের আওতায় এসেছে এক লাখ ৩১ হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তবে, নিবন্ধিতদের মধ্যে আমদানি এবং রপ্তানিকারকও রয়েছে।

ভ্যাট আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশে যেসব ব্যবসায়ীদের বার্ষিক লেনদেন ৫০ লাখ টাকার বেশি, অর্থাৎ যারা ভ্যাটের আওতাধীন, তাদের বাধ্যতামূলক ইএফডি ব্যবহার করতে হবে। যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রার (ইসিআর) চালু রয়েছে, সেগুলোর সবক’টি ইএফডি’র আওতায় আসবে। রেস্তোরাঁ ও ফাস্টফুড, মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, আবাসিক হোটেল, কমিউনিটি সেন্টার, অভিজাত শপিং সেন্টারের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পোশাক বিক্রির কেন্দ্র ও বুটিক শপ, বিউটি পার্লার, ইলেকট্রনিক সামগ্রীর বিক্রয় কেন্দ্র, আসবাবপত্রের বিক্রয় কেন্দ্র, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও জেনারেল স্টোর, সুপার শপ, বড় ও মাঝারি পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং স্বর্ণ ও রুপার প্রতিষ্ঠানে এ যন্ত্র সরবরাহ করা হবে।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: