প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

এস হোসেন আকাশ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বিলীনের পথে চরআলগী গ্রাম

   
প্রকাশিত: ৮:২২ অপরাহ্ণ, ৯ জুলাই ২০২০

‘বাপের কবর নদীতে গেছে। ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, মসজিদও পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এভাবে যেতে থাকলে অল্প কয়েক দিনেই পুরো গ্রামটাই নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।’ এভাবেই নিদারুন কষ্টের কথা বলছিলেন ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের চরআলগী গ্রামের সুজন মিয়া।

গত ১৫-১৬দিন ধরে উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ব্রহ্মপুত্র যেন ফুলে ফেঁপে উঠছে। প্রতিনিয়ত ভাঙছে নদীর দুই পাড়। ভাঙনে নদটির পশ্চিম পাশের চরআলগী গ্রামটির অধিকাংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে অচিরেই পুরো গ্রামটিই তলিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

সরজমিনে চরআলগী গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে ফসলি জমি, গোরস্থান, ফল বাগানসহ বসতভিটা নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। পাড় ভাঙতে ভাঙতে বসত বাড়ির উঠোনে গিয়ে ঠেকেছে। এতে দুশ্চিন্তায় আছেন লোকজন। এভাবে আর কয়েকদিন গেলে ঘরবাড়িও নদগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। প্রতিনিয়ত নদের পাড় ভাঙছে আর দুশ্চিন্তা বাড়ছে তাদের।

গ্রামের জুয়েল মিয়া বলেন, যার পরিবারের গোরস্থান, ফসলি জমি আর বসতভিটা নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে সেই কেবল জানে এর কষ্টের কথা। প্রতিবছরই এ সময়ে ভাঙন দেখা দেয়। কিন্তু কোনো জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা কিংবা প্রশাসনের লোকজন অবহেলিত এ গ্রামটিতে আসেনা। সবদিক থেকেই অবহেলিত এ গ্রামের কয়েক’শ পরিবার।

ফিরোজ আশরাফ শান্ত, মজলু মিয়া ও চাম্পা বেগমসহ গ্রামের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ব্রহ্মপুত্রের অব্যাহত ভাঙনে ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। ফসলি জমির আয়েই তাদের পরিবার চলে। কিন্তু এখন তারা নিদারুন কষ্টে রয়েছেন। যেভাবে ভাঙন চলছে তাতে ঘরবাড়ি নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।

চরআলগী গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুর রাজ্জাক মেম্বার বলেন, এ গ্রামে চার শতাধিক পরিবারের বসবাস। ভাঙনরোধে অচিরেই দ্রুত পদক্ষেপ নিতে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কিশোরগঞ্জ-২(কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ চরটেকী ও চরআলগী গ্রাম দুটির ভাঙন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ডিও লেটার দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিশোরগঞ্জ জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী স্থানীয় সংসদ সদস্যের ডিও লেটার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দক্ষিণ চরটেকী গ্রামের ভাঙনরোধে শিগগিরই আপদকালীন ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পাশাপাশি চরআলগী গ্রামের ভাঙন কবলিত এলাকা তিনি পরিদর্শন করে এসেছেন। প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: