প্রচ্ছদ / খোলা কলাম / বিস্তারিত

‘ভাই আমার কন্যাকে বাঁচতে দিন, রক্ত ঝরাবেন না’

   
প্রকাশিত: ৮:১৬ অপরাহ্ণ, ৯ জুলাই ২০১৯

ছবি: প্রতীকী

আর কত কন্য শিশুকে ধর্ষিত হতে হবে ওই সব নরপশুর কাছে? ধর্ষণ মানেই সাধারণ নিয়মে এক শারীরিক নির্যাতনকে আমরা বুঝে থাকি, কিন্তু আমরা কি এটা বুঝতে পারি যে ধষর্ণের নির্মমতা কতটা ভয়াবহ হয়ে থাকে? আমরা কি বোঝার চেষ্টা করি আমারও একটা কন্যা সন্তান আছে? কালকে আমার কন্যাকে যে ধর্ষণ করবে না তার কি নিশ্চয়তা আছে? যদি উত্তর না হয়, তাহলে আমরা কেন ৩০ লাখ শহীদের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছি?

ধর্ষণের কথা বলতে গেলে চলে আসে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীদের হাতে আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত হারানোর কথা। সেই ৭১’র সময় পাক বাহিনীর হাতে আমাদের কত মা-বোন ইজ্জত দিয়েছেন তার কোন নির্দিষ্ট হিসেব নেই।

১৯৭১ গেছে, আজ ২০১৯। ধর্ষণ কিন্তু থেমে নেই। একাত্তরের যুদ্ধের সময় মা-বোনরা ধর্ষণের শিকার হয়েছে, কিন্তু স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর আজকে কেন ধর্ষণ করা হচ্ছে আমার কন্যাকে?

আমার একটা মেয়ে আছে যাকে কোলে পিঠে করে আদর দিয়ে বড় করছি। আজ মেয়ে আমার বড় হচ্ছে। স্কুলে যেতে শিখেছে। প্রতিদিন বলে আব্বু আমি যাচ্ছি। আমি বলি সাবধানে যেও, কিন্তু মনের মধ্যে একটা প্রশ্ন বার বার জেগে উঠে, কোন ধর্ষকের ছাঁয়া আমার মেয়ের উপরে পড়বে না তো?

আমার কন্যার মত ছোট্ট শিশুটিকে ধর্ষণ করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সেই সাথে নির্মম ভাবে ধর্ষকের হাতে দিতে হচ্ছে তাজা প্রাণটিও। আর কত? আর কত বাবার বুক থেকে কন্যা নামের কলিজাটাকে ছিনিয়ে নিবে ধর্ষক নামের নরপশুরা?

শুধু ধর্ষণ করে তারা শান্ত নয়, নির্মম ভাবে হত্যা করছে এই নরপশুরা। নিজের কন্যার নিরাপত্তা নিয়ে বাবার কতটা চিন্তা হতে পারে একবার ভাবুনতো?

ধর্ষক কি গ্রহমানব? না ধর্ষক আমাদের পাশের মানুষ। আমি সেই সব নর পশুদের বলতে চাই, আপনার কন্যা যদি কোনদিন ধর্ষণের শিকার হয়, তাহলে আপনি কি করবেন?

ধর্ষকদের উদ্দেশ্যে বলব, ‘ভাই আমার কন্যাকে একটু স্বাধীন ভাবে বাঁচতে দিন, চলতে দিন। আমার শিশুটির রক্ত ঝরাবেন না।’

আপনি আপনার কন্যা সন্তানের কতটুকু খেয়াল রাখেন? একবারও কি তার পথচলা, আচরণ, বাইরে যাওয়া নিয়ে আপনি চিন্তিত হন? যদি আপনি এসব নিয়ে চিন্তিত থাকেন তাহলে আপনি সচেতন অভিভাবক। আপনি আপনার ছোট কিংবা কিশোরী বয়সের সন্তানকে নিয়ে যখন বাইরে বের হবেন, তখন আলাদা নজর রাখুন তার প্রতি।

আপনার একটু খেয়াল-ই পারে আপনার সন্তানের নিরাপত্তা দিতে। ছোট কন্যা সন্তানকে দেখে যদি কোন পুরুষ গায়ে পড়ে আদর করতে আসে, সহজে তাতে সায় দেবেন না। কারণ, এই গায়ে পড়া আদরের আড়ালে কোন খারাপ উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।

আপনি কোন অনুষ্ঠানে গেলে কিশোরীকে নিশ্চিন্তে ছেড়ে দেবেন না। সেখানে নানা ধরণের মানুষ উপস্থিত থাকে। সবার মানসিকতা একই ধরণের না-ও হতে পারে। তাই ওই অনুষ্ঠানে নিজের সন্তানের প্রতি বাড়তি নজর রাখুন।

কন্যা সন্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলুন। তার সারাদিনের চলাফেরা নিয়ে কথা বলুন। তার কথার মাঝে কোন মিথ্যা আছে কিনা বুঝার চেষ্টা করুন। সে কার সাথে মিশছে কোথায় যাচ্ছে জানার চেষ্টা করুন। বাড়ির ড্রাইভারের সাথে একা ছেড়ে আপনি নিরাপদে থাকবেন না। কারণ হয়তো সেখানেও আপনার মেয়ে নিরাপদ না। সব সময় মেয়ের সাথে খোলামেলা আলোচনার করার চেষ্টা করুন। নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে কন্যাকে পাঠিয়ে আপনি অবশ্যই নিরাপদে থাকবেন না।

মেয়েকে নিয়ে মার্কেট বা কোন কোলাহলপূর্ণ জায়গায় গেলে তাকে আগলে রাখুন নিজের সাথে। এসব যায়গাতে মেয়েদের হয়রানি হবার সম্ভাবনা থাকে খুব বেশি। বর্তমান আমাদের আশপাশে খারাপ চেহারার মানুষের অভাব নাই। মেয়র সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় রাখুন। যাতে যে কোনো হয়রানির কথা আপনাকে শেয়ার করতে পারে, মন খুলে বলতে পারে।

শুধু স্কুল বাস বা পাবলিক বাস-ই যেখানেই মেয়েকে পাঠাবেন, বাসায় ফেরার পর সময় করে তার কাছে থেকে সারাদিনের নানা ঘটনা মন খুলে শোনার চেষ্টা করুন। সুন্দর প্রশ্নের মাধ্যমে জানতে চেষ্টা করুন সব ঠিকঠাক আছে কিনা। সন্তানকে যদি বাড়ির বাইরে প্রাইভেটে পাঠাতে হয়, তবে সেখানে সে নিরাপদ কিনা জানার চেষ্টা করুন।

আরেফিন সোহাগ,
লেখক ও সাংবাদিক।
মোবাইল নং-০১৭৩১৬৬৪৬৬৬

(খোলা কলামে প্রকাশিত সব লেখা একান্তই লেখকের নিজস্ব মতামত। এর সাথে পত্রিকার কোন সম্পর্ক নেই)

এএস/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: