প্রচ্ছদ / সারাবিশ্ব / বিস্তারিত

ভারতের নাগরিকত্ব পাচ্ছেন তসলিমা নাসরিন!

   
প্রকাশিত: ১২:১০ পূর্বাহ্ণ, ২০ জানুয়ারি ২০২০

বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে যখন পুরো ভারত উত্তাল তখন নাগরিকত্ব পেতে পারেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। এমনই ইঙ্গিত দিলেন দেশটির অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। মূলত সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, নতুন এই আইন ধর্মীয় বিভাজনমূলক নয়। আর এটা বলতে গিয়েই তিনি তাসলিমা নাসরিনের উদাহরণ টেনে বলেন আদনান সামি, তসলিমা সীতারমণদের উদাহরণ দেখলেই বোঝা যাবে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন সৃষ্টিকারী নয়।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বলছেন, ‘৩৯১ জন আফগান মুসলিম এবং ১৫৯৫ জন পাকিস্তানি শরণার্থী মুসলিম ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ভারতের নাগরিকত্ব পেয়েছেন। এই সময়ই ২০১৬ সালে আদনান সামিকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। আরও একটি উদাহরণ তসলিমা নাসরিন। শুধু এক বছরেই ২৮৩৮ জন পাকিস্তানি উদ্বাস্তু, ৯৪৮ জন আফগান এবং ১৭২ জন বাংলাদেশি উদ্বাস্তু ভারতের নাগরিকত্ব পেয়েছেন। ১৯৬৪ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত প্রায় ৪ লক্ষ শ্রীলঙ্কার তামিল সম্প্রদায়ের মানুষ এদেশের নাগরিক হয়েছেন। এতেই বোঝা যায় আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা ভুল।’ তবে নির্মলার মুখে তসলিমার নাম শোনায় অনেকেই মনে করছেন এবার লেখিকাকে স্থায়ী নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা ভাবনা-চিন্তা করছে সরকার।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সাল থেকে দিল্লিতে রেসিডেন্স ভিসা নিয়ে বসবাস করছেন এই লেখিকা। বাংলাদেশে মৌলবাদের প্রতিবাদ করায় সেদেশে মৌলবাদীদের আক্রমণের শিকার হতে হয় তাঁকে। তারপর থেকেই ভারতের আশ্রয়ে আছেন লেখিকা। এর আগে প্রায় একই পরিস্থিতিতে পাক গায়ক আদনান সামিকে এদেশের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পাস হওয়ার পর তসলিমার নাগরিকত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাছাড়া লেখিকা নিজে এই আইনকে সমর্থন করেছেন।

এর আগে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনকে উদার আইন বলে অভিহিত করেন তসলিমার। এ প্রসঙ্গে তিনি বলছেন, ‘শুনে ভালো লাগছে যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান আর আফগানিস্তানে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার মানুষেরা এদেশের নাগরিকত্ব পাবেন। এটা খুব ভাল এবং উদার ভাবনা।’ পাশাপাশি তিনি সরকারের কাছে আবেদন করেন, ‘যাঁরা আমার মতো উদারপন্থী মুসলিম, তাঁদের উপরও বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানে নিপীড়ন হয়। তাঁদেরও ভারতে থাকার অধিকার পাওয়া উচিত।’

এফএএস/এসএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: