ভুল চিকিৎসায় বেঁচে থেকেও মৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মুন্নী

   
প্রকাশিত: ৮:২৯ অপরাহ্ণ, ৮ আগস্ট ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

আশরাফুল আলম,বশেমুরবিপ্রবি থেকে: মরিয়ম সুলতানা মুন্নী, গোপালগঞ্জের বঙ্গব্ন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার প্রতি ছোট বেলা থেকেই তার ছিল বিশেষ খেয়াল। স্বপ্ন ছিলো ভালো চাকরি করে স্বাবলম্বী হবেন আর পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবেন। কিন্তু সে স্বপ্ন পূরণে মুন্নীর পথের কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে নার্সের দেওয়া এক ভুল ইনজেকশন।

সময়টা ছিলো ২০১৯ সালের ২১মে, নার্সের দেওয়া ভুল ইনজেকশনে জ্ঞান হারাবার পর আজও প্রায় এক বছর দুই মাসের মত রয়েছেন বিছানা বন্দী। ইনজেকশন এর প্রভাবে মুন্নী চোখ খুলে তাকাতে পারলেও হারিয়েছেন কথা বলা এবং চলাফেরার শক্তি।

মুন্নীর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তার ভাই হাসিবুল রুবেল বলেন, বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সেরে ওঠেনি মুন্নী। চোখ খুলে তাকালেও পারেনা পরিবারের কাউকে চিনতে,পারেনা চলাফেরা করতে। পাইপের মাধ্যমে খাওয়ানো হয় খাবার।

মুন্নীর চিকিৎসা বিষয়ে তিনি জানান, চিকিৎসা তো রোগের করা যায় কিন্তু এটিতো অপচিকিৎসার ফল। পৃথীবির কোথাও এর প্রতিকার আছে কীনা জানা নেই। আপাতত ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খিচুনি বন্ধের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।

মুন্নীর বিষয়ে তার সহপাঠী আঞ্জুমান আরা আঁখি বলেন, নার্সের ভুলের কারণে আমার বান্ধবী অকালে এমন ভুক্তভোগী। তাছাড়া এটি খুবই দুঃখজনক যে ঘটনায় জড়িত সকলে ভালো থাকলে এখনো ভালো নেই আমার বান্ধবী। এছাড়া আর কারো সাথে এমন ঘটনা না ঘটার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুন্নীর চাচা জাকির হোসেন বাদী হয়ে চিকিৎসক তপন কুমার মণ্ডলসহ দুই নার্স শাহনাজ ও কুহেলিকাকে আসামি করে গোপালগঞ্জ থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা করেন। তবে মামলার বিশেষ কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য,২০১৯ সালের ২০মে মুন্নী পিত্তথলিজনিত সমস্যায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ডক্টর তপন কুমার মণ্ডলের অধীনে ভর্তি হন। কিন্তু হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ড এর সিনিয়র স্টাফ শাহনাজ রোগীর ফাইল না দেখে ২১মে সকালে গ্যাসট্রাইটিস এর ইনজেকশন সারজেল এর পরিবর্তে অ্যানেস্থেসিয়ার (চেতনা নাসক) মুন্নীর শরীরে পুশ করেন।

ইনজেকশন এর ফলশ্রুতিতে সঙ্গে সঙ্গেই মুন্নী জ্ঞান হারান। পরবর্তীতে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত নার্স শাহনাজ এবং কুহেলিকাকে সাময়িক বহিষ্কারের নির্দেশ প্রদান করে স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: