প্রচ্ছদ / যুগান্তর / বিস্তারিত

সাহেদের নানা প্রতারণা

ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ

   
প্রকাশিত: ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ, ২৪ জুলাই ২০২০

রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ (সাহেদ করিম) জাতীয় পত্রিকায় ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের স্মারক ব্যবহার করে ‘রিজেন্ট কেসিএস লি.’-এর পক্ষে সাহেদ জাতীয় পত্রিকায় ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল। এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা হলে সাহেদ প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে একাধিকবার বদলি করেছে। তবে এ মামলার চার্জশিট হয়েছে। এদিকে বৃহস্পতিবার র‌্যাবের কাছে সাহেদকে হস্তান্তর করেছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রতারণার মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর একটি জাতীয় পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় ‘রিজেন্ট কেসিএস লি.’।

এতে বলা হয়- ‘স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, ইপ-১ অধিশাখার ২০১২ সালের স্মারক নং স্থাসবি/ইপ/বিবিধ/১/২০১০/৩৮ এর সার্বিক সহযোগিতায় ডিজিটাল হোল্ডিং এসেসমেন্ট ও কর (ট্যাক্স) আদায় এবং ডিজিটাল নাম্বার প্লেট স্থাপন প্রকল্প : জাতীয় পর্যায়ের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রিজেন্ট কেসিএস লি. কর্তৃক বাস্তবায়িত বাংলাদেশের সকল জেলার সকল ইউনিয়ন পর্যায়ে কর সংগ্রহ ও আদায়ের লক্ষ্যে আগ্রহী বাংলাদেশি পুরুষ ও মহিলা প্রার্থীদের নিকট থেকে নিু ঠিকানায় সরাসরি/ডাকযোগে অথবা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, চার কপি ছবিসহ স্বহস্তে লিখিত আবেদনপত্র প্রকল্প পরিচালক বরাবর ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জমা দিতে হবে।

আবেদনপত্রের সঙ্গে ‘প্রকল্প পরিচালক, রিজেন্ট কেসিএস লি.’ বরাবর ১ ও ২নং পদের জন্য ২০০ টাকা এবং অন্যান্য পদের জন্য ১০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট (অফেরতযোগ্য) সংযুক্ত করতে হবে।’ সারা দেশের জেলা সমন্বয়কারী ও উপজেলা সমন্বয়কারীসহ ৭ ক্যাটাগরির ১৪ হাজার ৫৩৮টি পদের জন্য দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে ৫৫৬টি পদের জন্য ২০০ টাকা এবং বাকি ১৩ হাজার ৯৮২টি পদের জন্য ১০০ টাকা করে ব্যাংক ড্রাফট চাওয়া হয়। এসব পদে এসএসসি থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হলেও সবকটি পদে বেতন ‘আলোচনা সাপেক্ষে’ বলা হয়।

বিষয়টি স্থানীয় সরকার বিভাগের নজরে এলে ২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর চিঠি পাঠানো হয়। এতে বলা হয়- স্থানীয় সরকার বিভাগের স্মারক ব্যবহার করে পত্রিকায় ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা এজাহারের পরিপ্রেক্ষিতে রিজেন্ট কেসিএস লি. এর স্বত্বাধিকারী মো. সাহেদের (বাসা-৩৩, রোড-১৪, সেক্টর-১১, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০) বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ৭ মার্চ উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়- কোনো অনুমতি ছাড়াই স্থানীয় সরকার বিভাগের স্মারক ব্যবহার করে প্রতারণামূলকভাবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে। এসআই নাসির উদ্দিনের তদন্তের পর অধিকতর তদন্ত করতে মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়। সিআইডিতে প্রথমে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান সাব-ইন্সপেক্টর জহির উদ্দিন। তবে পদোন্নতির কারণে তিনি বদলি হলে তদন্তের দায়িত্ব সিআইডির সাব-ইন্সপেক্টর শামীমকে (বর্তমানে গেন্ডারিয়া থানায় কর্মরত) দেয়া হয়। তদন্ত শুরু করতেই তাকে সিআইডি থেকে বদলি করা হয়। এরপর আরও তিনজন তদন্ত কর্মকর্তাকে এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সিআইডির একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কেউ এ বিষয়ে তথ্য দিতে রাজি হননি। তবে তারা জানান, এ মামলায় সাহেদকে দায়ী করে চার্জশিট দেয়া হয়েছে।

সাহেদকে র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর: ১০ দিনের রিমান্ডের ছয়দিন ডিবি হেফাজতে থাকার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে সাহেদকে র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মামলা তদন্তের অনুমতি পেয়ে তাকে রিমান্ডে নেয় র‌্যাব। রিমান্ডে সাহেদের বিরুদ্ধে করা মামলা, অস্ত্র, মাদক ও জাল টাকার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে র‌্যাব। এদিকে র‌্যাবের রিমান্ড শেষ হলে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ফের তার রিমান্ড চাওয়া হবে বলে জানিয়েছে ডিবি।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, ডিবিতে রিমান্ডের ছয়দিন অতিবাহিত হওয়ায় বাকি চারদিন তাকে র‌্যাব হেফাজতে রিমান্ডে রাখার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। র‌্যাব-১ থেকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হটলাইন নম্বর পাঁচদিন চালু ছিল। সেটি বুধবার সন্ধ্যায় বন্ধ করা হয়েছে। তবে ইমেইল চালু রয়েছে। এতে সাহেদের বিরুদ্ধে ১৬০টির মতো অভিযোগ এসেছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার কাজী শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দুপুর দেড়টার দিকে র‌্যাব আদালতের অনুমতি নিয়ে আসে। এরপর তাকে হস্তান্তর করা হয়। তিনি বলেন, রিমান্ডে থাকা অবস্থায় সাহেদকে নিয়ে উত্তরায় অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় দুটি মামলা হয়। এ মামলাগুলোর তদন্ত ডিবি করবে। রিমান্ডে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো মামলার চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত হবে। তিনি আরও বলেন, র‌্যাবের রিমান্ড শেষ হলে সাহেদকে আবার রিমান্ডে চাইব।

ইতোমধ্যে সাহেদকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে র‌্যাব। চারদিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলে ফের সাহেদকে রিমান্ডে চাইবে র‌্যাব। এ বিষয়ে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সফিউল্লাহ বুলবুল যুগান্তরকে বলেন, র‌্যাবের কাছে সাহেদের তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- সাতক্ষীরায় অস্ত্র আইনে মামলা এবং ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় করোনাভাইরাসের ভুয়া সার্টিফিকেট এবং জাল টাকার মামলা। এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলবে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আসা অন্য সব অভিযোগেরও তদন্ত করা হবে।

অর্থ আত্মসাৎ মামলায় সাহেদকে গ্রেফতার দেখানোর শুনানি ৫ আগস্ট: এনআরবি ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ মামলায় সাহেদকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েসের আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এ আবেদন করেন। আদালত আসামিকে ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে গ্রেফতার দেখানোর জন্য ৫ আগস্ট দিন ধার্য করেন। একই সঙ্গে মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে। বুধবার দুদকের পরিচালক মো. সিরাজুল হক মামলাটি করেন। সূত্র: যুগান্তর।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: