প্রচ্ছদ / সারাবিশ্ব / বিস্তারিত

তিউনিশিয়া উপকূল

ভূমধ্যসাগরে ভাসছে ৬৪ বাংলাদেশি, গ্রহণ করছে না কেউ

১৩ জুন ২০১৯, ১০:০২:২৯

ছবি: ইন্টারনেট থেকে

তিউনিশিয়া উপকূলে গত মাসে অভিবাসী বোঝাই নৌকাডুবিতে ৭০ অভিবাসনপ্রত্যাশীর ভয়াবহ প্রাণহানির মাত্র কয়েক দিন পার হয়েছে। এরই মধ্যে আবারও ওই এলাকায় ৬৪ বাংলাদেশি সহ ৭৫ অভিবাসী উপকূল এলাকায় সাগরে ভাসছেন। একটি উদ্ধারকারী জাহাজ তাদেরকে উদ্ধার করেছে। কিন্তু তাদেরকে কেউ গ্রহণ করতে রাজি হচ্ছে না। ফলে ১২ দিন ধরে তারা ওই উপকূল থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে সাগরে ভাসছেন। তাদের অবস্থা শোচনীয়। তাদেরকে খাদ্য ও চিকিৎসা সুবিধা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এসব সুবিধা গ্রহণ করতে তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

তাদের দাবি, ইউরোপ যেতে দিতে হবে। তিউনেশিয়া রেড ক্রিসেন্টকে উদ্ধৃত করে মঙ্গলবার এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

তিউনিসিয়ার সমুদ্রসীমা থেকে মিসরের একটি নৌকা এই অভিবাসীদের উদ্ধার করলেও তাদের গ্রহণ করতে কোনো দেশ রাজি হচ্ছে না।

সমুদ্রে আটকা পড়ে ৭৫ অভিবাসীর মধ্যে বাংলাদেশি ছাড়াও রয়েছেন মরক্কো, সুদান ও মিসরের নাগরিক।

সমুদ্রে এতদিন থাকার ফলে অভিবাসীদের অবস্থা খুবই শোচনীয় বলে জানিয়েছেন রেড ক্রিসেন্ট কর্মকর্তা মংগি স্লিম। তাদের চিকিৎসাসেবা দিতে ইতিমধ্যে রেড ক্রিসেন্টের চিকিৎসকরা সেখানে পৌঁছেছেন। তবে খাদ্য, চিকিৎসাসহ সব ধরনের সাহায্য নিতে কয়েকজন অস্বীকৃতি জানায় বলে রেড ক্রিসেন্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

গত মাসে লিবিয়া থেকে ইউরোপ যাওয়ার পথে তিউনিসিয়ার উপকূলে নৌকাডুবিতে ৭০ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৩৭ বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন।

জীবন-জীবিকার তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জাহাজ বা নৌকায় চড়ে বসছেন অসংখ্য শরণার্থী। আর উত্তাল সাগরের বুকে একের পর নৌকাডুবিতে প্রাণ হারাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর চরম উদ্বেগের পর কিভাবে এসব অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে, তার যথাযথ কারণ খুঁজে পাচ্ছে না সংশ্লিষ্ট দেশগুলো। এসব অভিবাসীদের নিয়ে বেশ শঙ্কার রয়েছে তারা।

উল্লেখ্য, লিবিয়ার পশ্চিম উপকূল ইউরোপের উদ্দেশ্যে আফ্রিকান অভিবাসীদের পাচারের প্রধান ট্রানজিট হয়ে উঠেছে। এক্ষেত্রে ইতালির নেতৃত্বে পাচারবিরোধী প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এতে সহায়তা করছে লিবিয়ার কোস্টগার্ড। তা সত্ত্বেও থামানো যাচ্ছে না। এই তো গত মাসে কমপক্ষে ৬৫ জন অভিবাসী নিয়ে তিউনিশিয়া উপকূলে ভূমধ্যসাগরে একটি বোট ডুবে যায়। তাতে বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন অভিবাসী ডুবে মারা গেছেন। এ বছরের প্রথম চার মাসে এই রুটে কমপক্ষে ১৬৪ জন মানুষ ডুবে মারা গেছেন।

বিডি২৪লাইভ/টিএএফ

টিএএফ/এসইসি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: