প্রচ্ছদ / মানবজমিন / বিস্তারিত

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

মজনু কেন আত্মহত্যা করতে চায়

   
প্রকাশিত: ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ, ২০ নভেম্বর ২০২০

রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ মামলায় একমাত্র আসামি মজনুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল দুপুরে ঢাকার সপ্তম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোছা. কামরুন্নাহার মামলার রায় ঘোষণা করেন। ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়ার আগের আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডই দেয়া হয়েছে মজনুকে। একই সঙ্গে বিচারক তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন, যা না দিতে পারলে তাকে আরো ছয় মাস জেল খাটতে হবে।

এর আগে, আসামি মজনুকে বেলা ২টার দিকে কারাগার থেকে আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়। এ সময় উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ্য করে তাকে ছেড়ে দেয়ার আকুতি জানাতে থাকে। বলতে থাকে, আমারে ছাইড়া দেন, ঢাকায় আর আসমু না, বাড়ি চইলা যামু, আমারে ছাইড়া দেন। এরপর ২টা ২৫ মিনিটে আদালত কক্ষে নেয়া হলে চিৎকার চেঁচামেচি করতে থাকে। বলতে থাকে, আমি ধর্ষণ করি নাই, ধর্ষণ করছে চারজন মিলে।

আমাকে ছেড়ে না দিলে লাফ দিয়ে মরে যাব। তার এই কথা শুনে উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে যান। তাদের প্রশ্ন, কেন মজনু আত্মহত্যা করতে চায়? এই কথা বলার পর আসামি মজনু আরো বলে, আমি ধর্ষণ করি নাই, ধর্ষণ করছে চারজন মিলে। কিন্তু পুলিশ তাদের ধরছে না। আমি গরিব দেখে আমাকে ধরেছে। আমার নাম মজনু পাগল, আমার গায়ে শক্তি নাই। আমাকে ছেড়ে দেন। আইজকা ছাইড়া দ্যান। আমারে মারছে। কাশিমপুরে মশা। আমারে কোনো কিছু খাতি দ্যায় নাই। একপর্যায়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে হাজত পুলিশের এক সদস্যের ঘাড় চেপে ধরে আসামি মজনু। এরপর কাঁদতে কাঁদতে কোর্ট হাজতের ওসির কাছে অভিযোগ জানাতে থাকে এবং পুলিশ সদস্যদের গালাগাল শুরু করে। তার চিৎকার চেঁচামেচিতে বাধ্য হয়ে একপর্যায়ে বিচারক সাংবাদিক ও উৎসুক আইনজীবীদের বাইরে বারান্দায় যেতে বলে শুধু জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের একজনকে এজলাসে থাকার অনুমতি দেন।

এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আফরোজা ফারহানা আহম্মেদ অরেঞ্জ বলেন, ক্যামেরা দেখে আসামি মজনু সিন ক্রিয়েট করছে। আসামির আইনজীবী বলেন, সে নেচারালি এ রকম। আজ অনেক লোক যখন প্রশ্ন করেছে, সে ধর্ষণ করেছে কি না সেই সুযোগে সে উল্টো পাল্টা আচরণ করেছে। অস্বাভাবিক আচরণ করেছে।

ধর্যক মজনুর যাবজ্জীবন: কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ মামলায় একমাত্র আসামি মজনুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল দুপুরে ঢাকার ৭ম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোছা. কামরুন্নাহার মামলার রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে বিচারক তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন, যা না দিতে পারলে তাকে আরো ছয় মাস জেল খাটতে হবে।

রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৪ সাক্ষীর মধ্যে ২০ জন সাক্ষ্য দেন। আসামিপক্ষে কেউ সাফাই সাক্ষ্য দেননি। গ্রেপ্তারের পর রিমান্ড শেষে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে মজনু। দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ১২ নভেম্বর বিচারক এ মামলার রায়ের জন্য ১৯ নভেম্বর দিন রাখেন। ঘটনার আট মাসের মধ্যে মামলা আদালতে ওঠার পর ১৩ কার্যদিবসে বিচার শেষে মজনুকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিল আদালত। তবে আদালত ছিনতাইয়ের অভিযোগ থেকে আসামিকে খালাস দিয়ে বলেছে, মজনু ওই মোবাইল ছিনতাই করে নিয়েছিল কি না, তা প্রমাণিত হয়নি।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আফরোজা ফারহানা আহম্মেদ অরেঞ্জ সাংবাদিকদের বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে ২০টি ছবি দেখানো হয়, তার মধ্যে মজুনর ছবিও ছিল। তিনি মজনুকেই ধর্ষক হিসেবে শনাক্ত করেছিলেন। তাছাড়া মাইক্রো বায়োলজিক্যাল রিপোর্ট এবং ডিএনএ পরীক্ষাতেও ধর্ষণে মজনুর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। আমরা মামলা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আরো জানান, এরকম রায়ই আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম। যেহেতু, আগের আইনে অভিযোগ গঠন হয়েছে, ফলে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার সুযোগ ছিলনা। শিক্ষার্থীর বাবাও এ রায়ে খুশি হয়েছেন। তবে আসামিপক্ষের ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইডের আইনজীবী রবিউল ইসলাম রবি বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে আমি বলবো, আসামি ন্যয়বিচার পাননি, তিনি উচ্চ আদালতে যেতে পারেন।

নথি থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ৫ই জানুয়ারি সন্ধ্যার পর ঢাকার কুর্মিটোলায় নির্জন সড়কের পাশে ধর্ষণের শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থী। পরেরদিন তার বাবা ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে দুই মাস পর গত ১৬ই মার্চ ডি?বি’র পরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিক আদালতে মজনুকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গত ২৬শে আগস্ট ভার্চ্যুয়ালি শুনানিতে মজনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। সূত্র: মানবজমিন।

এআইআর/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: