আরমান হোসেন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

থাকছেন না শরিকরা

মন্ত্রী সভায় যোগ হচ্ছে আরও ১০ সদস্য

     
প্রকাশিত: ১:০২ অপরাহ্ণ, ১৬ জুন ২০১৯

ছবি: ইন্টারনেট থেকে

মন্ত্রীসভায় নতুন করে আরও ১০ জনকে যুক্ত করা হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এ দফাতে কাউকে বাদ না দিলেও নতুন অনেকেই স্থান পেতে পারেন মন্ত্রিসভায়। দেখা যেতে পারে জাতীয় রাজনীতিতে নবাগত জাতীয় চার নেতার পরিবারের এক সদস্যসহ ১০ জনকে। তবে এ দফায়ও ১৪ দলের শরিকদের ভাগ্য খুলছে না। বাজেটের পর মন্ত্রিসভায় সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, মন্ত্রী পরিষদে এখনও ৯টি মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রী নেই। সেগুলো হচ্ছে- প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, নৌ পরিবহন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, পানিসম্পদ, সংস্কৃতি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের কাছে যে চারটি মন্ত্রণালয় রেখেছেন, তার মধ্যে কমপক্ষে তিনটি। জনপ্রশাসন; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়েও কেউ কেউ মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ নিয়ে আওয়ামী লীগে এরই মধ্যে নানা ধরনের গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এমপিকে বর্তমান মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ব্যাপক গুঞ্জন আছে। তাকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলেও আলোচনা হচ্ছে।

এ পদে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বোন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের এমপি ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপির নামও শোনা যাচ্ছে। বর্তমান মন্ত্রিসভায় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে কাউকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও তার নাম শোনা গেছে। মূলত এ কারণে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীকে তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
এছাড়া প্রবীণ ও বাদ পড়াদের মধ্যে থেকেও কেউ কেউ আসতে পারেন এমনটাও আলোচনা শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রেসিডিয়ামের মধ্যে থেকে এক-দুই জন থাকতে পারেন।

মন্ত্রণালয়ের এর আগের রদবদল নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, মন্ত্রণালয়ের কাজের গতি, কাজের মান ও কাজে সমন্বয় আনতে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, মন্ত্রী পরিষদ গঠন, পুনর্বিন্যাস ও পরিমার্জন-পরিবর্ধনের এখতিয়ারটি সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর। এ ধরনের পদক্ষেপ সব দেশেই নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, এটা করা হয়েছে কাজের সুবিধার জন্য। কাজের সুবিধার জন্য পুনর্বিন্যাস, পুনর্গঠন প্রয়োজন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন টিম লিডার। তিনি রাষ্ট্র নামের জাহাজের ক্যাপ্টেন। কাজেই রাষ্ট্রীয় জাহাজটি যেন ভালোভাবে চলে, কাজে গতি আসে; সে জন্য প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখনই বর্তমান মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তবে কিছুটা সম্প্রসারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে দলের সাধারণ সম্পাদকের অসুস্থতার মধ্যে সংগঠনের দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণভাবে পালনকারী নেতাদের কাউকে কাউকে দেখা যেতে পারে। অনেকের মতো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে মন্ত্রিসভায় কমপক্ষে আরও দুইজনকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করে চমক দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অক্টোবরে জাতীয় সম্মেলনের আগে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ সম্ভব না হলে যারা গুরুত্বপূর্ণ পদ পাবেন না; তাদের মধ্যে থেকেও কাউকে কাউকে দেখা যেতে পারে।

এমআর/এনই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: