প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

মশক নিধনে আজ থেকে চিরুনি অভিযান শুরু

   
প্রকাশিত: ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ, ৪ জুলাই ২০২০

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি) দুই মেয়র ডেঙ্গু মশক নিধনে চিরুনি অভিযানে আটঘাট বেঁধেই নেমেছেন। অবিভক্ত সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে হালের বিভক্ত দুই সিটির মেয়রসহ অতীতের সকল নগরপিতার আমলেই মশক নিধনে প্রতি বছর কোটি কোটি খরচ করা হয়েছে। বাস্তবে সফলতার মুখ দেখেনি কোনো মশক নিধন কার্যক্রমই। এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ, হতাশা ও সমালোচনায় মুখর ছিলেন নগরবাসী। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম ও দক্ষিণ সিটির মেয়র ফজলে নূর তাপস মশক নিধন কার্যক্রম সফল করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

তারা বলেছেন, নগরবাসীকে মশকমুক্ত নগর উপহার দিতে চান। শুধু কথার ফুলঝুরি নয়, ইতিমধ্যেই মশক নিধনে ব্যাপক কার্যক্রম শুরু করায় আস্থা ফিরে পাচ্ছেন নগরবাসী। নগরের বাসিন্দারা বলছেন, মশক নিধনে এবার শুধু গল্প নয়, সত্যিকারের অ্যাকশন দেখতে শুরু করেছেন।

মশক নিধনের অংশ হিসেবে শনিবার (৪ জুলাই) থেকে ডিএনসিসির সকল ওয়ার্ডে দ্বিতীয়বারের মতো একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান অর্থাৎ চিরুনি অভিযান শুরু হচ্ছে। ১০ দিনব্যাপী এ অভিযান শুক্রবার ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরিচালিত হবে। চিরুনি অভিযান পরিচালনার উদ্দেশে প্রতিটি ওয়ার্ডকে ১০টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। আবার প্রতিটি সেক্টরকে ১০টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়। দিনে প্রতিটি ওয়ার্ডের একটি সেক্টরে অর্থাৎ ১০টি সাব-সেক্টরে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হবে। এভাবে আগামী ১০ দিনে সমগ্র ডিএনসিসিতে চিরুনি অভিযান সম্পন্ন করা হবে।

অভিযানের প্রাক্কালে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম শুক্রবার (৩ জুলাই) নগরবাসীর উদ্দেশে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আপনার বাড়ি বা স্থাপনার ভেতরে, বাইরে, আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকলে এখনই ফেলে দিন। তিনদিন অন্তর একদিন জমা পানি ফেলে দিন। ডেঙ্গু থেকে আপনি সুরক্ষিত থাকুন, আপনার পরিবারকেও সুরক্ষিত রাখুন।’

ডিএসসিসি মেয়র ফজলে নুর তাপসও মশক নিধনকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি নগরবাসীকে মশকমুক্ত নগর উপহার দিতে চান বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। ইতোমধ্যেই ডিএসসিসির বিভিন্ন এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে। এর সুফলও পাচ্ছেন নগরবাসী।

অন্যান্য বছর এ সময়ে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার আক্রমণের ফলে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে শত শত রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তবে এবার ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর ভিড় হাসপাতালে নেই। যদিও করোনার এ সময়ে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তা ছিলেন নগরবাসী। কিন্তু এবার ডেঙ্গুজ্বরের প্রাদুর্ভাব নেই বললেই চলে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে ৩২৬ জন ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ১৯৯ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪৫, মার্চে ২৭, এপ্রিল ২৫, মে-তে ১০ এবং জুনে ২০ জন ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। গতবছর শুধুমাত্র জুন মাসেই হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় এক হাজার ৯০০।

জুলাই মাসের প্রথম দু’দিনে কোনো ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়নি। চলতি বছর আক্রান্ত ৩২৬ জনের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩২৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। শুধুমাত্র দু’জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: