মানবেতর জীবন ২ শতাধিক কর্মচারীর; স্থায়ী নিয়োগের আশায় ২৭ বছর পার

   
প্রকাশিত: ৮:০৯ অপরাহ্ণ, ২৭ জানুয়ারি ২০২০

কামরুল ইসলাম অভি, রাবি থেকে: দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) দৈনিক মজুরী ভিত্তিতে (মাস্টার রোল) চাকুরি করছেন প্রায় ২৮০ জন কর্মচারী। কেউ ২০ বছর, কেউবা ২৬, সবচেয়ে বেশি ২৭ বছর ধরে স্থায়ী কর্মচারীর মতো দাপ্তরিক কাজ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট বারবার চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে অনুরোধ জানালেও বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত সুরাহা দেয়নি। ফলে মাত্র ৩ হাজার টাকায় কাজ করা মাস্টাররোলে নিয়োগ পাওয়া প্রায় ২৮০ জন কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এমনকি একই অফিসে নতুন স্থায়ী নিয়োগ পাওয়ার খবরে অনেক কর্মচারীর স্ট্রোকে মারা যাওয়ার খবরও আছে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সিন্ডিকেট সদস্যের পা ধরেও এক নারী কর্মচারীকে নিয়োগ স্থায়ীর দাবি জানাতেও দেখা যায়। এর আগে গত ১৬ জানুয়ারি মাস্টার রোল কর্মচারী ঐক্য পরিষদ আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান বরাবর একটি স্মারকলিপি দেন তারা।

পরিষদের মুখপাত্র শহীদ হবিবুর রহমান হলের কর্মচারী মাসুদুর রহমান বলেন, ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রাপ্তদের ২৮০ জন কর্মচারী দক্ষতার সাথে কাজ করে আসছি। এই দীর্ঘ সময়ে চাকরির পর প্রায় সবাই অন্য সরকারি চাকুরিতে আবেদনের বয়সের যোগ্যতাও হারিয়েছেন। দৈনন্দিন জীবন দু:সহ হয়ে উঠেছে। ভিটে মাটি হারিয়ে ঋণগ্রস্থ হয়েছেন অনেকেই।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ৪৯৭ তম সিন্ডিকেটে উত্থাপন হলেও নিয়োগের বিষয়টি অমিমাংসিত রয়ে গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিন্ডিকেট সদস্য হুমায়ুন কবীর বলেন, ৪৯৭ তম সিন্ডিকেট সভায় দৈনিক মজুরী ভিত্তিতে কাজ করা কর্মচারীদের নিয়োগ স্থায়ীকরণের বিষয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। তবে যে সমস্যাটা হলো এই বিশাল সংখ্যক কর্মচারীকে এক সঙ্গে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কারণ এর জন্য প্রয়োজন বড় অঙ্কের বাজেটের। তবুও চেষ্টা করা হবে খুব তাড়াতাড়ি তাদের নিয়োগ স্থায়ী করার।এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদেরকে নিয়োগে সুযোগ দিবে প্রশাসন সে বিষয়ে আলোচনা হয়।
এদিকে কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, ১০ বছর আগে অস্থায়ীদের স্থায়ীকরার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের একটি নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা উপেক্ষা করছে প্রশাসন। নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে এড হক নিয়োগ চলছেই। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে কম্পিউটার অপারেটর, শাহ মখদুম হলে পিওন, মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসকসহ বিভিন্ন বিভাগে এ্যাড হক নিয়োগ থেমে নেই। প্রায় ১৫ জনকে নিয়োগ দেওয়ার তথ্য আছে। এছাড়া আরও ১৬ জনকে স্থায়ী করা হয় ৪৯৬ তম সিন্ডিকেট সভায়।

তবে ২০০৮ সালের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপসচিব মো: রইছ উদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনার সিদ্ধান্ত থেকে জানা যায়, ভবিষ্যতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমান নিয়োগপ্রাপ্তদেরকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এছাড়া দৈনিক মজুরী ভিত্তিতে নিয়োজিতদের স্থায়ীকরণে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিকট বাজেটের জন্য একটি পত্র লিখতে হবে। নিয়োগ স্থায়ী হয়নি।

তাছাড়া সেই বাজেটের জন্য পত্র লেখা হয়েছে কিনা সেটিও জানাতে পারেন নি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা। নিয়োগ স্থায়ী করণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সত্যিই মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা। তবে একসাথে এত কর্মচারীর নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু ১০/২০ জন করে পর্যায়ক্রমে নিয়োগ দেওয়া গেলে তাদের সংখ্যাটা কমতে শুরু করবে সে বষয়েই সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত হয়েছে

এসএ/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: