প্রচ্ছদ / স্পোর্টস / বিস্তারিত

মারধরের ঘটনায় অবশেষে দুঃখ প্রকাশ ক্রিকেটার সাব্বিরের

   
প্রকাশিত: ৫:১০ অপরাহ্ণ, ১ জুন ২০২০

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) পরিচ্ছন্নতা কর্মী বাড়িতে ময়লা নিতে আসা এক কর্মীকে মারধরের ঘটনায় অবশেষে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার সাব্বির রহমান। রবিবার (৩১ মে) দিবাগত রাতে স্থানীয় কাউন্সিলরের মাধ্যমে সাব্বির রহমান দুঃখ প্রকাশ করেন। সোমবার (১ জুন) দুপুরে সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. নিযাম উল আযীম এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। হয়তো দু’জনেরই দোষ ছিল। তবুও সাব্বির নিজে আমার কাছে এসে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বাদশাও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এরপর আর এ বিষয়ে কোনো কথা থাকে না। সাব্বির শুধু রাজশাহীর নয়, দেশের সম্পদ। এটা নিয়ে কথা বাড়িয়ে তার ক্ষতি করা মোটেও কাম্য নয়।

তবে দুঃখ প্রকাশ নিয়ে সাব্বির রহমানের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সোমবার দুপুরে সাব্বিরের সাথে যোগাযোগ করতে তার মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

মারধরের শিকার পরিচ্ছন্নতা কর্মী বাদশা মিয়া বলেন, যেভাবে চোখ রাঙিয়ে ছুটে এসে সাব্বির আমার বুকে আঘাত করেছিল, তাতে খুব ব্যথা পাইছি। তবে মনের ব্যথাটা বড় ব্যথা। আমি সাব্বিরের বাবার বয়সী। ছেলের বয়সী কেউ গালি দিয়ে আঘাত করলে কষ্টটা বেশি লাগে।

বাদশাই চোখ রাঙিয়েছেন বলে সাব্বিরের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি সামান্য ময়লা ফেলার কাজ করি। সাব্বিরকে না হয়, নাই বা চিনলাম। বড় লোক মানুষরা গাড়িতে চড়ে। গাড়ি নিয়ে কেউ হর্ন দিলে তাকে আমি চোখ রাঙাবো, সেই সাহস কি আমার আছে?

তবে বিষয়টি চেপে যেতে চান বাদশা মিয়া। বলেন যা হওয়ার হয়ে গেছে, এনিয়ে আর কথা বলতে চাই না। কাউন্সিলর সাহেব সব মিটমাট করে দিয়েছেন। তারা (সাব্বিরের পরিবার) দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে শুনেছি। ওপর থেকেও স্যাররা বিষয়টি নিয়ে কারও সাথে কথা বলতে নিষেধ করেছেন। আর কিছু না বলা আমার জন্যই ভালো।

এদিকে, পরিচ্ছন্নতা কর্মী বাদশা মিয়াকে মারধরের অভিযোগ তুলে সাব্বিরের বাড়ি থেকে আর ময়লা না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন রাসিকের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। দুঃখ প্রকাশ করায় সেই ঘোষণা তারা তুলে নিয়েছেন।

এর আগে রোববার (৩১ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজশাহী নগরীর বেলদার পাড়ায় সাব্বিরের বাড়ির সামনের রাস্তায় সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে সাব্বির রহমানের বিরুদ্ধে। প্রথমে সাব্বিরের মোবাইলে গণমাধ্যম কর্মীরা যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না।

পরে ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে গণমাধ্যমে কথা বলেন সাব্বির। মারধরের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেন তিনি। বরং পরিচ্ছন্নতা কর্মী বাদশার বিরুদ্ধে চোখ রাঙানো এবং বাজে ব্যবহার করার অভিযোগ তোলেন সাব্বির।

‘বিডিক্রিকটাইম’ ফেসবুক পেজে লাইভে যুক্ত হয়েও কথা বলেন তিনি। ক্রিকেট তার ভালোবাসা, সেই ক্রিকেটের কসম দিয়েও মারধর করার কথা অস্বীকার করেন তিনি। সাব্বির বলেন, ক্রিকেট আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভালোবাসার জায়গা, ক্রিকেটের কসম খেয়ে বলছি- আমি তার গায়ে হাত তুলিনি।

সাব্বির উল্টো প্রশ্ন তোলেন, আগে যা করেছি- ছোট ছিলাম, এখন কেন এসব করতে যাব? আর রাস্তায় কাউকে মারা কি এতই সহজ? মূলত ঘটনা কিছুই না, কিন্তু আমার শত্রুর অভাব নেই। তারা বিষয়টাকে বড় করার চেষ্টা করছে, যেন এক সময় সবাই বলে দোষ সাব্বিরেরই। কিন্তু আগে যা করেছি, ছোট ছিলাম। এখন কেন এসব করতে যাব? গরিব মানুষকে মেরে লাভ আছে? যোগ করেন তিনি।

রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর ‘ম্যাও’ বলে ডাকার কারণে এক কিশোরকে মারধর করেছিলেন সাব্বির রহমান। এ কারণে ছয় মাসের জন্য জাতীয় দল থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন তিনি।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: