প্রচ্ছদ / ভ্রমন / বিস্তারিত

সাইফুল মাহমুদ

সীতাকুন্ড, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

মিরসরাই থেকে সীতাকুণ্ডের পথ ধরে চোখ জুড়ানো ঝর্ণা

   
প্রকাশিত: ৫:৫৭ অপরাহ্ণ, ১ অক্টোবর ২০২০

ভ্রমণ পিপাসুদের যেমন নদীর বহমানতা, সমুদ্রের উন্মত্ততা মুগ্ধ করে, ঝর্ণার প্রলয়ংকারী সৌন্দর্যও অদ্ভুত আকর্ষণে কাছে টানে। তাই তো নানা প্রতিকূলতা পেরিয়েও দীর্ঘ পথ হেঁটে, কখনো বা খাড়া পথ বেয়ে হলেও ভ্রমণ পিপাসুরা ঝর্ণার কোলে ছুটে যায়। মিরসরাই থেকে সীতাকুণ্ডের পথ ধরে এগোনোর এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অনেক গুলো অপরূপ ঝর্ণা।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও মীরসরাইয়ের পাহাড়ে ঝর্ণা আর ঝর্ণা। এই দুই উপজেলায় প্রায় ২০ থেকে ২৫টি ঝর্ণা রয়েছে। খৈয়াছড়া ঝর্ণা, নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা, সুপ্তধারা ঝর্ণা, সহস্রধারা ঝর্ণা , কমলদহ ঝর্ণা, ঝরঝরি ঝর্ণা, হরিণমারা-হাটুভাঙ্গা ঝর্ণা, বোয়ালিয়া- বাউশ্যা ঝর্ণা। তাদের মধ্যে খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া ও সুপ্তধারা ঝর্ণা, সহস্রধারা ঝর্ণা অণ্যতম। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এসব ঝর্ণা দেখতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসে। যেখানে সবুজে ঘেরা ঝিরিপথ মেশে রহস্যময় অজানায়, পথচলার ক্লান্তি ধুয়ে দেয় ঝর্ণার উচ্ছ্বাস। গত ৩ বছরে ঝর্ণাগুলোতে অন্তত ১০ জন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। এখানে কোন নিরাপত্তা না থাকায় ইতমধ্যে কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। পর্যটন এলাকগুলোতে বিপদনজক স্থান নেইকোন চিহ্নিত করন সাইনবোর্ড।

খৈয়াছড়া ঝর্ণাটি চট্টগ্রামের মিরসরাই এর পাহাড়ে অবস্থিত একটি জলপ্রপাত। নয়টি মূল ধাপ এবং অনেকগুলো বিচ্ছিন্ন ধাপ রয়েছে এই ঝর্ণা টির। দৈর্ঘ্, প্রস্থ, পানির উচ্চতা এবং প্রাকৃতিক বৈচিত্রে এটি দেশের সবচেয়ে বড় আর দুর্গ্ম পাহাড়ের গহীনে অবস্থিত এই ঝর্ণাটি। এজন্য এটিকে বলা বাংলাদেশের ঝর্ণার রাণী। রাতের বেলায় চাঁদের আলোয় ঝর্ণার সৌন্দর্য্ উপভোগ করার জন্য পাহাড়ের পাদদেশে তাবু টাঙ্গিয়ে অনেকে অবস্থান করেন। দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ নিদর্শন খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া ও সুপ্তধারা ঝর্ণা দেখার জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার পর্য্টক আসেন এখানে। পাহাড়ের গাঁ বেয়ে জলের ধারা মনমুগ্ধকর সৌন্দর্য তৈরি করে নেমে আসে নিচুতে। কয়েক কিলোমিটার পাহাড়ি ঝিরিপথ পাড়ি দেওয়ার পর সেই ঠাণ্ডা জল জুড়িয়ে দেয় প্রাণ। পথে পথে যেতে যেতে দেখা মিলবে পাহাড় আর ঝিরিপথের নান্দনিক সৌন্দর্য। মাইল চারেক হাঁটার পর কানে ভেসে আসবে ঝরনার কলতান, চোখ জুড়ানো সব ঝর্ণা। পাহাড়ের উচু নিচু জায়গা দিয়ে সবগুলো ঝর্ণায়ই ট্র্যাকিং করে যেতে হয়্। পর্যটকদের আগমন বাড়ার পর ঝর্ণাগুলোর ঝিরিপথ ক্রমশ নোংরা হয়ে যাচ্ছে। তাই অপচনশীল দ্রব্য, এমনকি পারতপক্ষে পচনশীল দ্রব্যও ফেলা উচিত না। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই জায়গাগুলো আমাদের সকলের সহযোগিতা ছাড়া তার আসল রূপ ধরে রাখতে ব্যর্থ হবে।

ঝর্ণার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে শেষবেলায় যখন পাহাড়ের ওপর উঠে পথ হারিয়ে ফেলি, তখনও সবাই দূর থেকে সমুদ্র উর্মিমালার এক ঝলক দেখে আনন্দে চিৎকার করে বলেছে, এ হলো শেষবেলার সুখ!

এআইআর/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: