প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

মোঃ রাসেল ইসলাম

দিনাজপুর প্রতিনিধি

মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় সম্মান বর্জন, এবার মুখ খুললেন তৃতীয় স্ত্রী

   
প্রকাশিত: ১০:১১ অপরাহ্ণ, ৪ নভেম্বর ২০১৯

সব সময় সঙ্গে থাকার পরও মুখে কিছুই না বলে চিঠি লিখে যাওয়া ও রাষ্ট্রীয় সম্মান গার্ড অব অনার গ্রহণ না করার বিষয়ে কিছুই জানতেন না দিনাজপুরের সেই মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মো. ইসমাইল হোসেনের তৃতীয় স্ত্রী মোছাঃ মর্জিনা বেগম। তিনি দাবী করেছেন বড় পক্ষের সন্তানেরা কোন ভাবেই তাকে হুইপ, বিভাগীয় কমিশনার এবং দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক কারো সামনে যেতে দেন নি। এ সময় তাকে ঘরের ভিতর আটকে রাখা হয়।

মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোঃ ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী মোছাঃ মর্জিনা বেগম ও তার দুই সন্তান সোমবার (৪ নভেম্বর) বোচাগঞ্জ উপজেলায় সংবাদ সম্মেলনে এই দাবী করেন।

স্বামীর মৃত্যুর ১২ দিনের মাথায় মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মো. ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী মোছাঃ মর্জিনা বেগম ও তার দুই সন্তান ১০ শ্রেণীল ছাত্র মুসাদ্দেক ও ৭ম শ্রেণীল ছাত্র মিম বোচাগঞ্জ উপজেলার ডাক বাংলোয় এই সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় স্ত্রী মোছাঃ মর্জিনা বেগম জানান, তার স্বামী এজমা রোগে আক্রান্ত ছিলেন। গত ২১ অক্টোবর অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক তাকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দিলে তাকে সেখানে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সে সময় তিনি ও দুই সন্তান সার্বক্ষণিক সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু চিঠি লিখে যাওয়া ও রাষ্ট্রীয় সম্মান গার্ড অব অনার গ্রহণ না করার বিষয়ে কিছুই শুনেন নি বা দেখেননি। মৃত্যুর পর এ সব জেনেছেন। তিনি দাবী করেছেন বড় পক্ষের সন্তানেরা কোন ভাবেই তাকে হুইপ, বিভাগীয় কমিশনার এবং দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক কারো সামনে যেতে দেননি। এ সময় তাকে ঘরের ভিতর আটক করে রাখা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, কেউ অসৎ উদ্দ্যেশে মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোঃ ইসমাইল হোসেনকে রাষ্ট্রীয় সম্মান গার্ড অব অনার থেকে বঞ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে তিনি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান। তিনি বলেন মুক্তিযোদ্ধার ভাতায় ও অন্যের বাড়ীতে ঝি এর কাজ করে সংসার চালিয়েছেন। স্বামী না থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ভাড়া বাসায় অনাহারে দুই সন্তান নিয়ে রয়েছেন। তাকে স্বামীর প্রাপ্য মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা থেকে বঞ্চিত করা হতে পারে বলে দাবী করেন।

উল্লেখ্য, সদর উপজেলার ৬ নং আউলিয়াপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিমের বরাবরে একটি চিঠি লিখে যান। যাতে তিনি লেখেন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে হঠাৎ যদি আমার মৃত্যু হয়, আমাকে যেন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন না করা হয়। কারণ এসিল্যান্ড, ইউএনও, এডিসি, ডিসি যারা আমার ছেলেকে চাকুরীচ্যুত, বাস্তুচ্যুত করে পেটে লাথি মেরেছে, তাদের সালাম/ স্যালুট আমার শেষ যাত্রার কফিনে আমি চাই না। ভূল ত্রুটি ক্ষমা করিও।

এই চিঠি লেখার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ইসমাইল হোসেন। এরপর চিঠিতে লিখে যাওয়া ওছিয়দ অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় মর্যাদা (গার্ড অফ অনার) ছাড়াই দাফন সম্পন্ন হয় যোদ্ধা মোঃ ইসমাইল হোসেনের। সে দিনই বিভাগীয় কমিশনার মুক্তিযোদ্ধার প্রতি অবহেলা ও রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়া দাফনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ২৬ অক্টোবর তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) জাকির হোসেন তদন্তে আসেন।

২৭ অক্টোবর সদরের এসিল্যান্ড (সহকারী কমিশনার ভূমি) আরিফুল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার মহসিন উদ্দিনকে দিনাজপুর থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর মুক্তিযোদ্ধারা জেলা প্রশাসককে ওএসডি করার দাবী জানায়। অন্যথায় মুত্তিযোদ্ধারাও গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন না বলে হুঁশিয়ারী দেন।

এসএ/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: