প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

মাসুদ রেজা শিশির

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্যাড ব্যবহার করে ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

   
প্রকাশিত: ৭:০৭ অপরাহ্ণ, ২ জুলাই ২০২০

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার ৫নং মদাপুর ইউনিয়ন কমান্ডের প্যাড ব্যবহার করে একজন আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে মদাপুর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর ১২টায় কালুখালী উপজেলা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ৫ নং মদাপুর ইউনিয়ন কমান্ড এর কমান্ডার মোঃ আজাহার আলী।

লিখিত বক্তব্যে জানা যায়, ফরিদপুর জেলার সাংবাদিক প্রবীর সিকদার তার ব্যক্তিগত ফেইসবুক পেইজে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ৫নং মদাপুর ইউনিয়ন কমান্ড এর কমান্ডার মোঃ আজাহার আলীর স্বাক্ষরে ২০/০৪/২০১৬ইং তারিখে কালুখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও রাজবাড়ী জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ মিজানুর রহমান মজনু ও তার পরিবারকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য সংবলিত একখানা প্রত্যয়নপত্র পোস্ট করেন। যাহা মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন এবং অসত্য বলে দাবী করেন আজাহার আলী। তিনি বলেন আমি কখনোই আওয়ামীলীগ নেতা মিজানুর রহমান মজনু ও তার পরিবারকে নিয়ে এ ধরণের কোন প্রত্যয়নপত্র প্রদান করিনি।

প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখিত তথ্যের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, মোঃ মিজানুর রহমান মজনুর পরিবার কখনোই স্বাধীনতা বিরোধী কোন কর্মকা-ের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। বরং ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মদাপুর ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধাদের মজনুর দাদা মৃত আজিমুদ্দিন শেখ, পিতা মৃত ইউসুফ হোসেন শেখ ও চাচা মৃত আবু হাসান শেখ ও তার পরিবার বিভিন্নভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেছিলেন। আমরা আরও প্রত্যক্ষ করেছি যুদ্ধকালীন ও পরবর্তী সময়েয ঐ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের তারা নিজেদের পরিবারের মত দেখেছেন এবং তাদেরকে বিভিন্নরকম সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। কখনোই তারা তাদের উপর কোনরকম নির্যাতন বা নিপীড়ন করেননি। আমার জানামতে এখনও দুইটি হিন্দু পরিবার তাদের দেয়া জমির উপর বসবাস করছেন। মিজানুর রহমান মজনুর পরিবার কখনোই চাঁদাবাজী, খুনখারাবী ও লুণ্ঠনের মত কর্মকা-ের সাথে জড়িত ছিলেন না বা এখনও নাই। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা সব সময়ই তার পরিবারের নিকট থেকে নানারূপ সাহায্য ও সহযোগিতা পেয়ে আসছি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযোগ্য সম্মান প্রদান করেছেন। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন করেছেন। সাংবাদিক প্রবীর সিকদার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্যাড ব্যবহার করে ও আমার স্বাক্ষর জাল করে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের এই পরিবারকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছে। সেই সাথে স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতৃত্ব দানকারী আওয়ামীলীগের ভাবমূর্তিও বিনষ্ট করার অশুভ চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। এছাড়াও ঐ প্রত্যয়নপত্রে মোঃ মিজানুর রহমানের মামা বাহারুল ইসলাম মদাপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের জামায়াতে ইসলামীর একজন সক্রিয় কর্মী বলে উল্লেখ রয়েছে, যা ভিত্তিহীন। তার পরিবার এবং আত্মীয়স্বজন কখনোই জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না বলে জানান আজাহার আলী।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নিকট মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের সহায়তাকারী স্বাধীনতার স্বপক্ষের মানুষদের বিরুদ্ধে এহেন মিথ্যাচার ও অপপ্রচারকারী প্রবীর সিকদারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সেইসাথে এই অপপ্রচারকারীর বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের লেখনীর মাধ্যমে সমুচিত জবাব প্রদানের আশা রাখেন।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধাদের যৌক্তিক দাবীর পক্ষে বক্তব্য রাখেন, কালুখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও কালিকাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আতিউর রহমান নবাব।

মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে আরো বক্তব্য রাখেন, কালুখালী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মোঃ আকামত আলী মন্ডল, ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল খালেক মাস্টার প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে কালুখালী উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ ,মদাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ,ও রাজবাড়ী জেলায় কর্মরত বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কেএ/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: