শাহাদাত হোসেন রাকিব

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

মুজিববর্ষে অতিথি মোদি: যা বলছে সরকার

   
প্রকাশিত: ৫:০৭ অপরাহ্ণ, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ইস্যুতে দিল্লিতে সহিংসতার পর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অতিথি করা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। এ সমালোচনার প্রেক্ষিতে কথা বলেছেন সরকারের দুই মন্ত্রী। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক ইস্যুতে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সাহায্যকারী দেশই হলো ভারত। তারা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মিত্র। স্বাভাবিক কারণেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্বকারীকে আমরা বাদ দিতে পারি না। এমন ভাবনা মাথায়ও আনা যায় না।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা ভারতকে মুজিববর্ষে আমন্ত্রণ করেছি। এর প্রথম ও প্রধান কারণই হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধে তারা আমাদের সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে। তারাই আমাদের প্রতিবেশী ও মিত্র দেশ। তাদের দেশের অভ্যন্তরের কোনো বিষয়ে যে সংঘাত, সংঘর্ষ, রাজনৈতিক বিরোধ- এটা চিন্তা করে তো আমরা তাদের আমন্ত্রণ জানাইনি। ’ ভারতের নাগরিকত্ব আইন নিয়ে চলমান বিক্ষোভকে দেশটির অভ্যন্তরীণ সংঘাত মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ভারতের সেই সংঘাত নিয়ে আমাদের এখানে কোনো প্রতিক্রিয়া হলে তা আমরা ভারত সরকারের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেই সমাধান করতে পারি। কিন্তু এ রকম একটা অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার যুদ্ধে সহযোগিতাকারী প্রধান দেশকে আমরা বাদ দেব- এটাতো চিন্তাও করা যায় না।’

মুজিববর্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের দেশেও রাজনীতি নিয়ে সরকার আর বিরোধী দলের মধ্যে সম্পর্কটা সুখকর নয়। ভারতেও এখন তেমনটাই ঘটছে। তাই বলে সেই বিষয় তো অন্যদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার প্রতিক্রিয়া বা প্রভাব আসার কথা নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘মুজিববর্ষ বাংলাদেশের জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের বিষয়। অনেক আগে থেকেই এর প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত আমাদের শরণার্থীদের সাহায্য করেছে। ভারতই আমাদের অস্ত্র ও ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছে। মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনারা অংশ নিয়েছে। সে হিসেবে আমাদের রক্তের সঙ্গে ভারতের রক্ত মিশে আছে। কাজেই ভারতকে এই মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানো তো কৃতঘ্নতার পরিচয় বলে মনে করি আমি।’

এদিকে, বৃহস্প‌তিবার সকালে গাজীপুরের স‌ফিপুর আনসার-ভিডিপি অ্যাকাডেমিতে ‘ফ্লাগ রেইজিং’ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আমাদের একটা অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ গ‌ড়ে দি‌য়েছি‌লেন। আর সেই নীতিমালা মেনেই আমরা চল‌ছি। সেটাই আমা‌দের রাজ‌নৈ‌তিক দিকনির্দেশনা। এর বাইরে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই আমাদের।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এবং বিদেশ থেকে আগত ভিআইপিদের অধিক নিরাপত্তা দেয়ার জন্য আনসারের নতুন ব্যাটালিয়ন সৃষ্টি করা হয়েছে। মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানের এ ব্যাটালিয়ন সুষ্ঠু নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।’ এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, মুজিববর্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ করা হবে কিনা। এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিলেও আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমা‌দের সর্বকা‌লের ‌সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। আমা‌দের‌কে তিনি একটা অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ গ‌ড়ে দি‌য়েছি‌লেন। তার সেই অসাম্প্রদায়িক নীতিমালা ফ‌লো ক‌রেই আমরা চল‌ছি।’ অন্যদিকে, ভারতে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন, মসজিদ, মাদরাসায় আগুন দেয়ার প্রতিবাদে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে সমমনা ইসলামী দলগুলো। এর আগে জুমার নামাজ শেষে শুরু হয় বিক্ষোভ সমাবেশ।

এতে বক্তারা বলেন, ভারতের সাম্প্রদায়িক মোদী সরকার সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালাচ্ছে। মুসলমানমানদের বাড়ি ঘরে আগুন দিয়ে তাদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। নারী ও শিশুদের ওপরও নির্মম নির্যাতন চালানো হচ্ছে। বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়কে ভারতের মুসলমানের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান বক্তারা। সমাবেশের পর বিক্ষোভ মিছিলটি বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে শুরু হয়ে পল্টনের বিভিন্ন সড়ক প্রদিক্ষণ করে।

এসএ/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: